১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, রাত ২:৫০

হত্যার আগে একসাথে নাস্তা

সংবাদচর্চা রিপোর্টঃ

সহকর্মীর হাতেই নির্মমভাবে খুন হয়েছে আড়াইহাজারের একটি ফার্মেসির বিক্রয়কর্মী সাইফুল ইসলাম (২০)। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই হত্যা মামলার একমাত্র আসামি শুভ রায় (২০) হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বুধবার বিকাল ৪টার দিকে গোপালদী বাজারের বড় জামে মসজিদ মার্কেটের ছাদ থেকে সাইফুল ইসলামের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বোন লিজা আক্তার বাদী হয়ে সহকর্মী শুভ রায়কে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। আসামিকে গ্রেফতারের পর হত্যার বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করে শুভ। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াছমিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আড়াইহাজার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, নিহত সাইফুল ইসলাম ও আসামি শুভ রায়ের মধ্যে নানা বিষয়ে মনমালিন্য ছিল। ক্ষিপ্ত শুভ পরিকল্পিতভাবে একাই সাইফুলকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে পরে গলা কেটে হত্যা করে।

আসামির দেওয়া জবানবন্দির বরাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপালদী ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আজহার জানান, বুধবার বিকেলে সাইফুল ইসলামের জবাই করা লাশ উদ্ধারের পরই সাইফুলের সহকর্মী মনির ফার্মেসির কর্মচারী শুভ রায়কে উপজেলার উলুকান্দি পূর্বপাড়া তার মামা বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুলিশের কাছে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যমতে গোপালদী এলাকার একটি নর্দমা থেকে একটি রক্ত মাখা প্যান্ট উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, শুভ প্রায় সময়ই ফার্মেসি থেকে ঘুমের ট্যাবলেট নিয়ে সেবন করতো। এ বিষয়ে মালিককে বলে দিত সাইফুল। তাছাড়া টাঙ্গাইলের একটি মেয়ের সাথে সাইফুলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই মেয়েকে কেন্দ্র করেও দুই সহকর্মীর মধ্যে ঝগড়াও হয়। নানা কারণে শুভ ক্ষিপ্ত হয়ে সাইফুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত মঙ্গলবার রাতে সাইফুল ও শুভ মসজিদ মার্কেটের ছাদে যায়। সেখানে সাথে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে সাইফুলের পেটে কয়েকটি আঘাত করে শুভ। পরে গলা ও দুই হাতের রগ কেটে দেয় সে।

নিহত সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দী নয়াপাড়া এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী ওসমান গণির ছেলে ও গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দি পূর্বপাড়া এলাকার বাতেন মুন্সির নাতি। সাইফুল ছোটবেলা থেকে মায়ের সাথে তার নানা বাড়িতে বসবাস করত। নরসিংদী শাটিরপাড়া কলেজে অনার্সে মনোবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিল সে।

আসামি শুভ রায় কুমিল্লার মুরাদনগর থানার লাজৈর ইলিয়টগঞ্জ এলাকার শংকর রায়ের ছেলে। সে উলুকান্দী পূর্বপাড়া এলাকার শুশান্তর ভাগিনা। মামা বাড়িতেই থাকতো শুভ।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ