নিজস্ব প্রতিবেদক:
পশ্চিম তল্লার বাসিন্দা জয়নাল পেশায় একজন পোশাক শ্রমিক হলেও সবসময় চেষ্টা করতেন জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার। প্রতিদিনের মত গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার আযান শুনে নামাজ আদায় করতে ছুটে যান তল্লার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে । মসজিদে যাবার কয়েক মূহুর্ত আগেও সে বুঝতে পারে নি যে এটাই তার জীবনের শেষ নামাজ। সেদিন তল্লা মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরনে নামাজরত অবস্থায় আগুনে দগ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাদিন অবস্থায় মারা যান তিনি। জীবদ্দশায় জয়নালের স্বপ্ন ছিল একমাত্র ছেলে রায়হানকে মাদ্রাসায় পড়িয়ে হাফেয মাওলানা বানাবে কিন্তু তার স্বপ্ন এখন সুধু স্বপ্নই রয়ে গেলো।
ছেলের ইচ্ছে বাবার স্বপ্ন পূরণ করবে সে। নিহত জয়নালের ছেলে রায়হান বলেন, আমি মাদ্রাসায় পড়ে বড় হাফেয মাওলানা হয়ে আমার বাবার স্বপ্ন পূরন করতে চাই।
স্ত্রী রেহেনা জানায়, মসজিদে যেদিন বিস্ফোরন হয়েছে সেদিন সারারাত হাসপাতালের সামনে রাস্তায় বসেছিলাম আমার স্বামীকে দেখাতে জন্য।কত মানুষের হাত পায়ে ধরেছি একবার আমার স্বামীকে দেখাক কিন্তু না কেউ দেখায়নি।শনিবার সকালে একজন আমায় কল দিয়ে বলে জয়নাল কি হয় আমার? অতিদ্রুত ইউনিট গেইটের সামনে যেতে।আমি যাবার পরেও জানতে পারি আমার স্বামী আইসিওতে। তখনো কতবার বলেছি একটু দেখতে দিতে কিন্তু দেয়নি।
সকাল ১১টায় খবর আসে আমার স্বামী মারা গেছে। আর কেউ বলবে না বউ উঠে নামাজ পড়।কেউ বলবে না আজ শুক্রবার আজ ঈদের দিন কারন আজ জুম্মা। কেউ ছেলে মেয়েদের সকালে নিয়ে হাটতে যাবে না।
আমার স্বামীর স্বপ্ন ছেলেকে হাফেয মাওলানা করা তাও আর পূরন হবে না।আমার মেয়েটা এখনো তার বাবাকে খুঁজে।বাবাকে না দেখে এখানো কেঁদে চলছে বাবার জন্য।ছেলেটা এখনো বাবাকে হারিয়ে ঘুমের ঘরে কেঁদে উঠে।
রেহেনা আরো বলে, সরকারের কাছে আমার একটাই দাবী আমাদের এমন একটা ব্যবস্থা করে দেয় যাতে আমার সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ হয়।আমি ঘরে বসে আমার সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করে তুলতে পারি।রায়হানের বাবার স্বপ্ন রায়হান জেনো হাফেয মাওলানা হয় তা পূরন করতে পারি।সরকারের কাছে আমার এইটুকুই চাওয়া।

