১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, সন্ধ্যা ৭:১৯

সুযোগ নিচ্ছে সুবিধাবাদিরা

সংবাদচর্চা রিপোর্ট:

কেউ বলেন তৃণমূল প্রাণ, কেউ বলে তৃণমূল সবার আগে। তবে এসব শুধুই কথার কথা বাস্তবে তাদের পাত্তা দেয় না দলের প্রভাবশালী নেতারা। বৃহৎ ৩ রাজনৈতিক দলের কাছে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পুরো তালিকাও নেই তাদের কাছে। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মতো বড় দলগুলোতে কাউন্সিল করে নেতা নির্বাচনের প্রথা প্রায় উঠেই গেছে। যে কারনে তৃণমূলকে পাত্তা দেয় না বড় নেতারা। এ সুযোগ নিয়ে সুবিধাবাদিরা রাজনীতির নামে অর্থ কামাইয়ে নেমেছে।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দলের (বিএনপি) নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কমিটি রয়েছে। থানা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ের এ দু’টি দলের ও অঙ্গ সংগঠনের কমিটি আছে। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির কমিটি যার যার দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ঠিক করে দিয়েছেন। দুই দলই প্রথমে আংশিক কমিটি ঘোষনা করে। তবে ২০০৯ সালে বিএনপির জেলা ও শহর কমিটি হয়েছিলো সম্মেলনের মধ্য দিয়ে। অপরদিকে বিরোধী দলে থাকতে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন জেলা ও শহর যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি করতেও সম্মেলন হয়েছিলো। সূত্র মতে, ৫ বছরের বেশী সময় ধরে আহবায়ক কমিটির উপর ঝুলে আছে জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগর শাখা।

৩টি বৃহৎ দলেরই স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি ও দক্ষ সংগঠক থাকলেও জেলার মনোনয়নের বিষয়ে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হয়না বলে জানান নেতারা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ৫টি আসনের মধ্যে ৩ টিতে আওয়ামীলীগ ও ২টিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তবে অনেক দিন আগে থেকে এ জেলা মহাজোটের কোন শরীক দলকে মনোনয়ন না দেয়ার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতারা। অনেক নেতাকর্মী এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য রেখেছেন। তাদের যুক্তি হলো, ৯ম ও ১০ম সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির এমপি থাকায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা নানাভাবে সমস্যায় পড়েছে। একই কারনে এখানকার উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হতে চেয়েও অনেক আওয়ামীলীগ নেতা তা পারেননি। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে একই রকম দাবি ছিলো আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের। এক পর্যায়ে গোটা জেলায়ই এমন দাবি উঠে। তবে কেন্দ্র শেষ পর্যন্ত ওই দুই আসনে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এর আগের নির্বাচনগুলোতে বিএনপি তাদের জোটের কাউকে এ জেলায় মনোনয়ন দেয়নি। তবে একাদশে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করায় নারায়ণগঞ্জ-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি ছেড়ে দিতে হয় বিএনপিকে। এখানে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে তাদের জোটের প্রার্থীরা। যা মানতে পারেননি দলটির স্থানীয় নেতারা। এ নিয়ে ক্ষুব্দ অনেক নেতা জোটের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায়ও নামেননি। তাদের অভিযোগ, দলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে মামলা হামলার শিকার হলেও তাদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধুমাত্র ক্ষমতার চিন্তাই করেছে দল। নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী দেয়ায় দলের নেতাকর্মীরা প্রথম থেকেই দূরে দূরে ছিলেন। ভোটের দিনও তাদের পাওয়া যায়নি।

রাজনীতি বোদ্ধারা মনে করেন, জেলা পর্যায়ে বা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মুল্যায়ন করার প্রবণতা সব দলেই কমে গেছে। কমিটি গঠন এমনকি মনোনয়নও উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া হয়। যা গণতন্ত্রের জন্য সুখকর নয় বলে মন্তব্য করেন তারা। তাদের মতে, এ পন্থায় ভালো মন্দ দু’দিকই রয়েছে। উপর থেকে কমিটি গঠন করা হলেও জেলা বা থানা পর্যায়ে কোন্দল রোধ করা যায় ভেবেই কেন্দ্র এমন ব্যবস্থা নেয়। তবে ক্ষতির দিকই বেশী। এ কারনে নেতৃত্ব বিকাশ ঘটে না বলে মনে করেন তারা। তাদের মতে, তৃণমূল সব সময় দলকে শুধু দেয়। বিরোধী দলে থাকলে তৃণমূলের কদর থাকলেও ক্ষমতায় গিয়ে তা ভুলে যায় শীর্ষ নেতারা।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ