১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, রাত ১২:৪২

শেষ পর্যন্ত বাঁচবে কয়জন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

পশ্চিম তল্লায় একে একে প্রাণ গেল ৩১ জনের। কারন ইতোমধ্যে সবারই জানা। গ্যাস পাইপের ৬টি লিকেজ আর বৈদ্যুতিক স্পার্ক পুড়ে অঙ্গার করে দিয়েছে ৩৭ টি মানুষের দেহ। এখন পর্যন্ত বাড়ি ফিরতে পেরেছেন ১ জন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাতরাচ্ছেন আরও ৫ জন। শেষ পর্যন্ত কে কে ফিরতে পারবেন নিজের বাড়িতে আর বুকভরা নিঃশ্বাস জড়িয়ে ধরবেন আপনজনদের তা এখন বড় প্রশ্ন।

তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণে আহত হয়েছিলেন ৫৫ জন। এদের ভেতর ৩৭ জন গুরুত্বর আহত অবস্থায় ভর্তি হয়েছিলেন শেখ হাসিনা বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মারা গেছেন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, সাংবাদিক, ও মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সহ ৩১ জন। তবে ফিরে আসতে পেরেছেন মাত্র ১ জন। বাকি ৫ জন এখনও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। ধারনা করা হচ্ছে এদেরও ফিরে আসার সম্ভাবনা একেবারেই কম।

এখন পর্যন্ত মৃত ৩১ জনের প্রাপ্ত পরিচয় হচ্ছে, চাঁদপুর সদরের করিম মিজির ছেলে মোস্তফা কামাল (৩৪), ফতুল্লার নিউ খানপুর ব্যাংক কলোনির আনোয়ার হোসেনের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী রিফাত (১৮), চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার শেখদী গ্রামের মৃত মহসিনের ছেলে মাইনুউদ্দিন (১২),  ফতুল্লার সেকান্দর মিয়ার ছেলে মো. রাসেল (৩৪), লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার পলাশী গ্রামের মেহের আলীর ছেলে নয়ন (২৭), ফতুল্লার আব্দুল খালেকের ছেলে বাহার উদ্দিন (৫৫), শরীয়তপুরের নড়িয়ায় কালিয়াপ্রাসাদ গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে জুবায়ের (১৮), শরীয়তপুরের নড়িয়ায় কালিয়াপ্রাসাদ গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে সাব্বির (২১), ফতুল্লার তল্লার আনোয়ার হোসেনের ছেলে জয়নাল (৫০), মুন্সীগঞ্জের লৌহজং হাটবুকদিয়া গ্রামের জইন উদ্দিন বেপারীর ছেলে কুদ্দুস বেপারী (৭০),

পটুয়াখালী রাঙ্গাবালীর বাহেরচরের বাচ্চু ফরাজীর ছেলে জুলহাস উদ্দিন (৩০),  জুলহাস উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৭), মসজিদের মুয়াজ্জিন কুমিল্লা লাঙ্গলকোটের বদরপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন (৪৮),  মুয়াজ্জিন দেলোয়ারের ছেলে জুনায়েদ (১৭),  মসজিদের ইমাম কুমিল্লার মুরাদনগরের পুটিয়াজুড়ি গ্রামের আব্দুল মালেক (৬০), খুলনার খানজাহান আলী থানার মীরের জঙ্গা গ্রামের কাদের হাওলাদারের ছেলে কাঞ্চন হাওলাদার (৫৩), পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী কাউখালী গ্রামের বেলায়েত বারীর ছেলে জামাল আবেদিন (৪০),  পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর সেনের হাওলার সাজাহান পেদার ছেলে নিজাম (৪০),  ফতুল্লার মজিদের ছেলে সাংবাদিক নাদিম (৪৫),  তল্লা এলাকার কফিল উদ্দিন শেখের ছেলে হুমায়ুন কবির (৭০), পটুয়াখালী সদরের দড়িতালুক গ্রামের আব্দুল হক বিশ্বাসের ছেলে মোহাম্মদ ইব্রাহিম বিশ্বাস (৪৩),

পটুয়াখালীর গলাচিপা খালেক হাওলাদারের ছেলে মোহাম্মদ রাশেদ (৩০), মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ চাঁদপুরের মতলব থানার সুজাপুর গ্রামের শামীম হাসান (৪৫),ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা মকবুলের ছেলে মোহাম্মদ আলী মাস্টার (৫৫), আবুল বাশার মোল্লা (৫১), বরিশালের বাকেরগঞ্জের বারঘড়িয়া গ্রামের সোবাহান ফরাজীর ছেলে মনির ফরাজী (৩০), শরীয়তপুরের নড়িয়ার আলাল শেখের ছেলে ইমরান (৩০),ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা আফজালের ছেলে হান্নান (৫০),পশ্চিম তল্লার আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুস সাত্তার (৪০), পটুয়াখালীর মোহাম্মদ রাজ্জাকের ছেলে নজরুল ইসলাম (৫০), কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার চর আলগী গ্রামের এমদাদুল হকের ছেলে শেখ ফরিদ (২১) ।

অপরদিকে আহত অবস্থায় এখনো আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, ময়মনসিংহের ত্রিশালের আব্দুর রহমানের ছেলে ফরিদ (৫৫), পটুয়াখালীর চুন্নু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ কেনান (২৪),ফতুল্লার নিউ খানপুর ব্যাংক কলোনির আনোয়ার হোসেনের ছেলে রিফাত (১৮), শরীয়তপুরের নড়িয়া কেদারপুর গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে আব্দুল আজিজ (৪০), নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসিরহাট গ্রামের আবদুল আহাদের ছেলে আমজাদ (৩৭)। তবে আশংকার বিষয় হচ্ছে এদের সকলেরই শ্বাসনালী পুড়ে গেছে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ