আজ রবিবার, ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিক্ষাবান্ধব মন্ত্রী গাজী

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শিক্ষাখাতে অনবদ্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক)। শিক্ষা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে যেই উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তা বাস্তাবায়নে রূপগঞ্জ থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

এমপিত্ব, মন্ত্রীত্ব ও রূপগঞ্জ আওয়ামী লীগের গুরু দায়িত্ব যে হাতে সামলাচ্ছেন, সেই হাতেই গোটা রূপগঞ্জকে শিক্ষা বান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে শুরু থেকেই বদ্ধপরিকর ছিলেন তিনি। মাদ্রাসা শিক্ষায় যেমন ভূমিকা রেখেছেন, তেমনই সাধারণ শিক্ষার মানোন্নয়নেও প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকেও উদারতার পরিচয় দিয়ে রূপগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের কাছে একজন শিক্ষাবান্ধব মানুষ ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন।

জানা গেছে, গত তিন মেয়াদে গোলাম দস্তগীর গাজী নারায়ণগঞ্জ-১ আসন তথা রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। সবশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী হন। তবে, নিজ মন্ত্রনালয়ে যেমন সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন, তেমনই গত ১৫ বছরে তিনি রূপগঞ্জের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল, ডিগ্রি কলেজ এবং মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমে গতি বাড়াতে প্রায় অর্থশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। পূর্বের প্রতিবেদনে মাদ্রাসা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়গুলো তুলে ধরা হলেও এবারের প্রতিবেদন রূপগঞ্জের জেনারেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে।

তথ্য মতে, রূপগঞ্জের প্রায় অর্ধশত মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি কলেজের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর হাত ধরে। এর মধ্যে, রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া সরকারি পাইলট মডেল হাই স্কুলের জন্য একটি ৩ তলা ও একটি দোতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য সাড়ে তিন কোটি টাকার অর্থ বরাদ্দ এবং প্রতিষ্ঠানটিতে একটি ডিজিটাল ল্যাবের জন্য আরও ৫০ লাখ টাকার বরাদ্দ এনে দিয়েছেন মন্ত্রী গাজী।

নবকিশলয় হাই স্কুলের এন্ড গার্লস কলেজের জন্য একটি পাঁচতলা ভবন, দুটি ৪ তলা ভবন ও একটি ৩ তলা ভবনের অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। এছাড়াও মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী তার নিজ অর্থায়নে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একতলা বিশিষ্ট একটি ভবন করে দিয়েছেন। একই প্রতিষ্ঠানে ৭০ টাকায় ল্যাবের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ভুলতা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের জন্য একটি ৪ তলা এবং একটি একতলা বিশিষ্ট ভবনের জন্য সাড়ে ৩ কোটি টাকার অর্থ বরাদ্দ এনে দিয়েছেন মন্ত্রী।

পাশাপাশি ল্যাবের জন্য আরও ১০ লক্ষ টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ছাত্তার জুট মিলস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি ৪ তলা এবং একটি ৩ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ এনে দিয়েছেন মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। একই প্রতিষ্ঠানে ল্যাবের জন্য বরাদ্দ এসেছে ১০ লাখ টাকা।

কাঞ্চন ভারত চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের জন্য একটি ৩ তলা ও একটি এক তলা ভবনের জন্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ল্যাব মেরামতের জন্য আরও ১৫ লাখ টাকার বরাদ্দ এসেছে মন্ত্রীর প্রচেষ্টায়। রূপসী নিউ মডেল উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের জন্য একটি ৪ তলা ও দুটি ৩ তলা ভবনের জন্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ল্যাব মেরামতের জন্য আর‌্য ১৫ লাখ টাকার অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। এছাড়াও ওই প্রতিষ্ঠানে মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী তার নিজ অর্থায়নে একটি সুবিশাল মাঠের জন্য জায়গা দিয়েছেন।

সহিতুননেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য একটি ৪ তলা ভবন এবং ল্যাব মেরামতের জন্য ১৫ লাখ টাকা, আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য একটি চারতলা ভবনের জন্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকার অর্থ বরাদ্দ এবং ল্যাব মেরামতের জন্য ১৫ লাখ টাকা, আশরাফ জুট মিলস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য একটি চারতলা ভবন নির্মাণে সাড়ে তিন কোটি টাকা ও ল্যাবের জন্য দুই দফায় ৩৫ লাখ টাকার অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

নুরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে চার তলা বিশিষ্ট ২টি ভবনের জন্য ৭ কোটি টাকা, একটি নতুন ল্যাব স্থাপন এবং পুরাতন ল্যাব মেরামতের জন্য আরও ১০ লাখ টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
পূর্বগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য একটি ৪ তলা ভবন নির্মাণে ২ কোটি টাকা, একটি ল্যাব এবং অপর একটি ল্যাব মেরামতের জন্য পৃথক ভাবে ৩০ লাখ টাকা দেয়া হয়।

হাজী নূরউদ্দিন আহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩টি ৪ তলা ভবন নির্মাণের জন্য ৭ কোটি টাকা সহ একটি ল্যাব ও মেরামতের জন্য আরও ১৫ লাখ টাকা দেয়া হয়। গোলাকান্দাইল মজিবুর রহমান ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ২টি ৪ তলা ভবন ও ১টি তিনতলা ভবনের জন্য পৃথক ভাবে মোট ৯ কোটি টাকা এবং ল্যাবের জন্য ২৫ লাখ টাকা দেয়া হয়।মহর আলী শাহনুর বানু উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি ৪ তলা ভবনের জন্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ল্যাবের জন্য আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

দাউদপুর পুটিনা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি ৪ তলা ও একটি তিন তলা ভবনের জন্য মোট ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ল্যাবের জন্য আরও ১০ লাখ টাকা দেয়া হয়। গন্ধর্বপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি ৪ তলা ভবনের জন্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ল্যাবের জন্য পৃথক ভাবে ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের জন্য মোট ৮ কোটি টাকা এবং ল্যাবের জন্য ১৫ লাখ টাকা দেয়া হয়। কাজী আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ল্যাবের জন্য দুই দফায় ২৫ লাখ টাকা দেয়া হয়।

আমদিয়া কৃষক শ্রমিক উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি ৪ তলা ও একটি ৩ তলা ভবনের জন্য ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা সহ ল্যাবের জন্য আরও ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। গানবাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য ৪তলা একটি ভবনের জন্য সাড়ে তিন কোটি এবং একটি তিন তলা ভবনের জন্য আরও ২ কোটি টাকা সহ ল্যাবের জন্য ১০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। ভোলাব শহীদ স্মুতি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ তলা ভবনের জন্য সাড়ে ৩ কোটি টাকা এবং তিন তলা ভবনের জন্য ২ কোটি টাকা সহ ল্যাব মেরামতের জন্য আরও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ তলা ভবনের জন্য সাড়ে ৩ কোটি টাকা এবং ল্যাব মেরামতের জন্য ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

ইউসুফগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের জন্য ৩ তলা ভবন নির্মাণে ৬ কোটি টাকা এবং একটি ল্যাব নির্মাণ করে দেয়া হয়। নবাব আশকারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য একটি তনি তলা ভবন নির্মাণে ২ কোটি টাকা এবং ল্যাব মেরামতের জন্য আরও ১০ লাখ টাকা দেয়া হয়। হাজী আয়েত আলী ভূইয়া উচ্চ বিত্যালয়ের জন্য ৪তলা একটি এবং তিন তলা বিশিষ্ট আরও একটি ভবনের জন্য সাড়ে ৫ কোটি টাকা ও দুই ভবনে ল্যাবের জন্য ৩গ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। হাজী রফিজুদ্দিন ভূইয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩ তলা ভবনের জন্য ১ কোটি ২০ লাখ এবং ১ তলা ভবনের জন্য ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়। এছাড়াও ল্যাব মেরামতের জন্য আরও ১০ লাখ দেয়া হয়।

জাঙ্গীর উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য একটি ৪ তলা ভবন নির্মাণে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। পলখান উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য ২ তলা ভবন নির্মাণে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য দোতলা ভবন নির্মাণে ৬ কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কলনী হিরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য একটি চারতলা ভবন নির্মাণে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ল্যাব মেরামতের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
নাওড়া হাজী ইয়াদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১ তলা ভবনের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা দেয়া হয়।
সরকারী মুড়াপাড়া কলেজের জন্য একটি ৪ তলা ভবন, একটি তিন তলা ভবন এবং একটি হল রুম করে দেয়া হয়। হল রুমটি মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর এর নামানুসারে গাজী হল রূম হিসেবে নামকরণ করা হয়। এখানে একটি ল্যাব মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৫০ লাখ টাকা।
ছলিম উদ্দিন চৌধুরী কলেজের জন্য একটি চারতলা ভবন নির্মাণে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ল্যাব মেরামতের জন্য আরও ১০ লাখ টাকা দেয়া হয়।
এদিকে, ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জনতা উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির নামে জমি বরাদ্দ ছিলো ১ একর ৮৬ শতাংশ। পরবর্তীতে মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর একক প্রচেষ্টায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১২০ কাঠা জমিতে বিশাল ভবন সহ মাত্র ১০ হাজার ১ টাকায় প্রতিকী মূলে বরাদ্দ প্রদান করা হয়।
তথ্য মতে, গাজী গোলাম দস্তগীরের প্রচেষ্টায় রূপগঞ্জের প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত হয়। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় রাজউক কর্তৃক ৯৮.১৯ কাঠা জমি বরাদ্দ পাওয়া যায়। মন্ত্রীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে রাজউক কর্তৃক এল শেফ্ট দোতলা ভবন নির্মিত হয়। বর্তমানে চারপাশের বাউন্ডারী এবং গেইট নির্মাণ বাস্তবায়নাধীন আছে।
এমনকি মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় পলখান উচ্চ বিদ্যালয়টি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬২.৯১ কাঠা জমি ও বিশাল ভবনসহ ১০ হাজার ১টাকা প্রতিকী মূল্যে বরাদ্দ প্রদান করেন।
এভাবেই রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষকে শিক্ষার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সরকারের সহায়তাগুলো পৌছে দিয়েছেন মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। একই ভাবে তিনি তার ব্যক্তিগত অর্থায়নেও মন খুলে দান করে গেছেন। শিক্ষাবান্ধব জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইতিমধ্যেই তিনি সকলের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। আগামীতেও শিক্ষা ও উন্নয়নের এই ধারা ধরে রাখতে রূপগঞ্জের মাটি ও মানুষের ভরসা হয়ে আছেন মন্ত্রী গাজী এবং তার পরিবারের সদস্যরা।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ