আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সরকারি খাল উদ্ধারে শামীম ওসমানের হুঙ্কার

শামীম ওসমানের হুঙ্কার

শামীম ওসমানের হুঙ্কার

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারি খালে কারো অবৈধ স্থাপনা থাকে তাহলে সে যত বড় ব্যক্তিই হউক না কেন উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখা যাবে না উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নবাসীকে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে সরকারি খাল উদ্ধারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিয়ে নিজেই মাঠে নামলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান।
বুধবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সরকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে খাল পরিদর্শনে আসেন। উচ্ছেদ অভিযানে এসময় উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ’র সভাপতি সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামানসহ স্থানীয় অন্যান্য নের্তৃৃবৃন্দ।
শামীম ওসমান এসময় বলেন, কেউ খাল দখল করে ব্যবসা করবে আর জলাবদ্ধতার কারনে আমার জনগণ দূর্ভোগের ফলে আমার নেত্রী শেখ হাসিনা এবং আমাকে গালাগাল করবে, সেটা আমি মেনে নিব না। যদি সরকারি খালে কারো অবৈধ স্থাপনা থাকে তাহলে সে যত বড় ব্যাক্তিই হউক না কেন উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখা যাবে না। এসময় বিসিক শিল্পনগরী সংলগ্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মানের জন্য একটি জলাধার বালু ফেলে ভরাট কাজ চলাকালে কাজ বন্ধ করে গ্রামের জলাবদ্ধ পানি নিস্কাশনের জন্য ভেকু দিয়ে ড্রেন নির্মানের কাজ শুরু করা হয়। এসময় শামীম ওসমান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরা বীণা, এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান ও ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ্ মো: মঞ্জুর কাদেরকে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খাল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এনায়েতনগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, যদি সরকারী কাজে বিএনপি পরিচয় দিয়ে কেউ বাঁধা দিতে আসে, তাহলে তাকে এক কাপ চা পান করিয়ে বিদায় দিয়ে দিবেন। আর যদি আওয়ামীলীগ বা শ্রমিক লীগের পরিচয়ে কেউ বাঁধা দিতে আসে তাহলে তাকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করবেন।
উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে নূর হোসেন ফকির নামের এক ব্যক্তি শ্রমিকলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে সরকারী কাজে বাধা দিলে স্থানীয় শ্রমিকরা তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে¡ খাল দখল করে গড়ে উঠা অর্ধ শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
জানা গেছে, সদর উপজেলাধীন এনায়েতনগর ইউনিয়ন এলাকায় ফতুল্লার মাসদাইর পুলিশ লাইন থেকে শুরু হওয়া এই খাল শাসনগাঁও হয়ে কাশিপুর বুড়িগঙ্গা নদীতে মিশেছে। কাইল্যানী খালসহ শাখা খালগুলো দখল করে অবৈধ অর্ধ-শতাধিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সম্প্রতি বিকেএমইএ’র প্রথম সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের বড় ভাই আব্দুস সালাম তাঁর মালিকানাধীন জমি ভরাটের সময় সরকারী খালের পানি নিস্কাশনের অংশটুকুর ভরাট করে ফেলায় সামান্য বৃষ্টিতেই ময়লা-আবর্জনা জমে মাসদাইর, বিসিক শাসনগাঁও, ফাজিলপুরসহ এনায়েতনগর ইউনিয়নের বেশীরভাগ স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে যায়। শিল্প মালিকসহ প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে খাল দখল করায় পানি বুড়িগঙ্গায় পৌঁছাতে পারে না। ফলে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীসহ কয়েক লাখ শ্রমিককে।

সর্বশেষ সংবাদ