৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, সন্ধ্যা ৭:৫৬

শফীর উত্তরসূরি শেখ আহমদ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার মুঈনে মুহতামিম বা সহযোগী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আল্লামা শেখ আহমদ। বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় মজলিসে শূরার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে বর্তমান মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফী আমৃত্যু এ পদে থাকবেন বলেও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্ত হিসেবে আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর পর শেখ আহমদই মাদ্রাসার মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন।

কিন্তু কে এই শেখ আহমদ? অনেকেই তার পরিচয় নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তবে কওমি অঙ্গনে হাদিসের জনপ্রিয় ওস্তাদ হিসেবে প্রসিদ্ধ আল্লামা শেখ আহমদ।

১৯৫০ সালের ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানার মিরেরখীল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষা জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দ্বীনি শিক্ষার প্রাণ কেন্দ্র হাটহাজারী মাদ্রাসায় লেখাপড়া শেষ করেন আল্লামা শেখ আহমদ। পড়াশোনা শেষে টানা ৩৫ বছর পর্যন্ত হাটহাজারী মাদ্রাসাতেই শিক্ষকতা করেন তিনি।

এরপর চট্টগ্রামের উবাইদিয়া নানুপুর মাদ্রাসায় কয়েক বছর শাইখুল হাদিস হিসেবে অধ্যাপনার পর ২০১৮ সালে তাকে আবার হাটহাজারীতে নিয়ে আসা হয়।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১০টা থেকে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত শূরা কমিটির বৈঠক চলে। বৈঠক শুরুর আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় পর দুপুর পৌনে ১টায় আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী উপস্থিত হন। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির মজলিশে শুরার বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতে আল্লামা বাবুনগরীকে সহযোগী পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।

মজলিসে শূরার উল্লেখযোগ্য সদস্যরা হলেন- ঢাকার জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ মাদ্রাসা পরিচালক ও হাইয়াতুল উলয়া কো-চেয়ারম্যান আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস, ফরিদাবাদ মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম ও বেফাক যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি নুরুল আমিন, ঢাকার খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদ্রাসার মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী, হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা নোমান ফয়জী, ফটিকছড়ির জামিয়া উবাইদিয়া নানুপুর মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী ও হাটহাজারীর ফতেপুর মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেপুরী।
এ দিকে শূরা বৈঠক তথা মাদ্রাসার শীর্ষ পদে শাহ আহমদ শফীর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে তৎপরতায় প্রকাশ্যে আসা দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে এমন শঙ্কায় হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন ছিল।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ