৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, বিকাল ৪:৩০

ময়লা ফেলে নাকে রুমাল

ভিনগ্রহ থেকে:

আমি এলিয়েন, গ্রহ থেকে গ্রহে বিচরণ করতে পারলেও সাঁতার জানি না। তাই কয়েকদিন একটানা বৃষ্টিতে শহরের সড়কে পানি দেখে বড্ড ভয় পেয়েছিলাম। গতকাল প্রখর রোদ দেখে সে ভয় কেটেছে। ভেবে রেখেছি এবার পৃথিবীতে গেলে সাঁতার শিখবো। তবে সাঁতার কোথায় শিখবো এ নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

সাঁতার শিখতে হলে কোন প্রশিক্ষকের কাছে যেতে হবে আর সুইমিংপুলে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এখন দেখার বিষয় সুইমিং পুল সঠিকভাবে নির্মাণ করা হয়েছে কি-না। সিমেন্ট-বালুর মিশ্রনে যদি ভেজাল করা হয়ে থাকে তাহলে পাশের দেয়াল যে কোন সময়ে ধ্বসে পরতে পারে। প্রশিক্ষক যদি যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়ে থাকে তবে কোন কথা নেই কিন্তু যদি কোন মামুর কল্যাণে চাকরী পায় তবে তো বিপদ!

শুনেছি এখানে নির্মাণ কাজে রডের বদলি বাঁশ দিয়ে বেশী কামাই করে এক শ্রেনীর লোক। নিয়োগ নিয়েও নানা রকম কথা শোনা যায়। মামা-খালু, বড় ভাই লাগে আবার আরও যেন কী দিতে হয় অভিভাবকদের। এসব থাকলে অযোগ্যরা যোগ্য হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে তেল মারাও একটা বড় হাতিয়ার। তেল মেরে স্বার্থ আদায়ে পরিপক্ক থাকে কিছু মানুষ। এক শ্রেনীর বড় পদবীধারী তেল পেলে খুব পুলকিত হন। তখন তারা যোগ্যতমকে পিছিয়ে দিয়ে তৈলবাজকে এগিয়ে রাখেন। তবে তারা এ ভাবে না যে, একদিন এ জন্য তাকে পস্তাতে হবে। কারণ সমাজে তেলবাজরা যখন সংখ্যায় বেড়ে যাবে তখন তাকেও ল্যাং মারতে কুন্ঠাবোধ করবে না ওরা। যদিও এসব অনেকে বুঝেন কিন্তু কাজের বেলায় উল্টোটা করেন। এ প্রসঙ্গে লেখক হুমায়ূন আজাদ বলেছিলেন, ‘মানুষ সিংহের প্রশংসা করে, কিন্তু আসলে গাধাকেই পছন্দ করে’

সেদিন খুব সকালে শহরের এক এলাকায় এক ব্যক্তিকে দেখলাম উঁচু ভবন নীচে নেমে সড়কের পাশে একটি পোটলা ফেলতে। কাছে গিয়ে দেখলাম পোটলায় বর্জ্য ছিলো। কয়েক ঘন্টা পর ওই ব্যক্তিকেই ওই ময়লার ভাগাড়েরর পাশে দিয়ে শার্ট-প্যান্ট পরে, কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে যেতে দেখলাম । তখন তার নাকে রুমাল ছিলো। সেদিন এক পার্টি অফিসে গিয়ে জানলাম, শহরের একজন নেতা নাকি সব সময়ে রুমাল চেপে চলাচল করেন। আগে তিনি রিকশায় যাতায়াত করতেন ইদানিং গাড়িতে। তবে গাড়ির ভিতর রুমাল মুখে দেন কী-না তা জানা যায়নি।

আম জনতা রুমাল চেপে চলেন, নেতায় মুখে রুমাল দেন দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে। বুঝা যায় তারা সবাই সুগন্ধ প্রেমিক । তবে সুগন্ধের স্থায়ী ব্যবস্থা করতে তেমন কেউ এগিয়ে আসেন না। উল্টো নিজে ময়লা ফেলেন আবার নিজেই সেই ময়লার গন্ধ এড়াতে রুমাল চাপেন। বিভিন্নজনের কাছ থেকে শুনেছি এখানে বিয়ে শাদীর সময়ে রুমালের ব্যবহার হয়। নতুন বর বিয়ের অনুষ্ঠানে সারাক্ষন রুমাল মুখে চেপে থাকেন। তা-কী লজ্জায়, না গন্ধ এড়াতে তা এখনও বুঝতে পারিনি।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় আর কিছু থাকুক বা না থাকুক ময়লার ভাগাড় রয়েছে বেশ! সড়কের পাশে ময়লা, সড়কে ময়লা, পুকুরে,নদীতে, ড্রেনে এমন কোন জায়গায় নাই যেখানে ময়লা বা বর্জ্য নেই। বাইরে রঙ করা বহুতল ভবনের ভিতর ঢুকলেও ময়লার গন্ধ ভেসে আসে। তারা কী তাহলে উইলিয়াম ফকনারকে ফলো করছেন ?

উইলিয়াম ফকনারও বলেছিলেন ‘পড়ো, পড়ো, পড়ো। সবকিছু পড়ো। আবর্জনা, ধ্রুপদি , ভালো, মন্দ। পড়া নিয়ে উইলিয়ামের এ উপদেশ কী এখানকার মানুষ ময়লাতে ফলাতে চাইছেন ? চিন্তায় পরে গেলাম। এত কিছু মাথায় ধরে না। ভিনগ্রহের প্রাণীতো তাই পৃথিবীর মানুষের সব কান্ডকারখানা এখনও বুঝতে খুব সময় লাগে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ