১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, রাত ১০:৫১

মাহে রমজানের সেহরী ও ইফতারের সময়সূচী

সংবাদচর্চা রিপোর্ট

২০২০ সালের রমজান মাসের ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। দেশবাসীর সুবিধার্থে সংবাদচর্চার পক্ষ থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মাহে রমজানের সেহরী ও ইফতারের সময়সূচী জানিয়ে দেওয়া হলো।

ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি:

রহমতের ১০ দিন

রমজান তারিখ দিবস সেহরীর

শেষ সময়

ইফতারের

সময়

* ২৫ এপ্রিল শনিবার ৪:০৫ ৬:২৮
২৬ এপ্রিল রবিবার ৪:০৪ ৬:২৯
২৭ এপ্রিল সোমবার ৪:০৩ ৬:২৯
২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার ৪:০২ ৬:২৯
২৯ এপ্রিল বুধবার ৪:০১ ৬:৩০
৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ৪:০০ ৬:৩০
১ মে শুক্রবার ৩:৫৯ ৬:৩১
২ মে শনিবার ৩:৫৮ ৬:৩১
৩ মে রবিবার ৩:৫৭ ৬:৩২
১০ ৪ মে সোমবার ৩:৫৫ ৬:৩২

মাগফেরাতের ১০ দিন

রমজান তারিখ দিবস সেহরীর

শেষ সময়

ইফতারের

সময়

১১ ৫ মে মঙ্গলবার ৩:৫৪ ৬:৩৩
১২ ৬ মে বুধবার ৩:৫৩ ৬:৩৩
১৩ ৭ মে বৃহস্পতিবার ৩:৫২ ৬:৩৪
১৪ ৮ মে শুক্রবার ৩:৫১ ৬:৩৪
১৫ ৯ মে শনিবার ৩:৫০ ৬:৩৫
১৬ ১০ মে রবিবার ৩:৫০ ৬:৩৫
১৭ ১১ মে সোমবার ৩:৪৯ ৬:৩৬
১৮ ১২ মে মঙ্গলবার ৩:৪৯ ৬:৩৬
১৯ ১৩ মে বুধবার ৩:৪৮ ৬:৩৬
২০ ১৪ মে বৃহস্পতিবার ৩:৪৮ ৬:৩৭

নাজাতের ১০ দিন

রমজান তারিখ দিবস সেহরীর

শেষ সময়

ইফতারের

সময়

২১ ১৫ মে শুক্রবার ৩:৪৭ ৬:৩৭
২২ ১৬ মে শনিবার ৩:৪৭ ৬:৩৮
২৩ ১৭ মে রবিবার ৩:৪৬ ৬:৩৮
২৪ ১৮ মে সোমবার ৩:৪৬ ৬:৩৯
২৫ ১৯ মে মঙ্গলবার ৩:৪৫ ৬:৩৯
২৬ ২০ মে বুধবার ৩:৪৪ ৬:৪০
২৭ ২১ মে বৃহস্পতিবার ৩:৪৪ ৬:৪০
২৮ ২২ মে শুক্রবার ৩:৪৩ ৬:৪১
২৯ ২৩ মে শনিবার ৩:৪৩ ৬:৪২
৩০* ২৪ মে রবিবার ৫:৩১ ৬:৪২

* চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল

ঢাকার সময়ের থেকে বাড়াতে হবে:

জেলার নাম সেহরি ইফতার
গাজীপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, পিরোজপুর, বরিশাল, ঝালকাঠী, বরগুনা ১ মিনিট ১ মিনিট
ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, বাগেরহাট, জামালপুর, শেরপুর, মানিকগঞ্জ ২ মিনিট ২ মিনিট
ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, নড়াইল, খুলনা ৩ মিনিট ৩ মিনিট
মাগুড়া, রাজবাড়ী, পাবনা ৪ মিনিট ৪ মিনিট
সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, যশোর, রংপুর, ঝিনাইদহ ৬ মিনিট ৬ মিনিট
নিলফামারী চুয়াডাঙ্গা, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ৬ মিনিট ৬ মিনিট
রাজশাহী, বগুড়া, মেহেরপুর, লালমনির হাট ৭ মিনিট ৭ মিনিট
চাপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর ৮ মিনিট ৮ মিনিট
দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ৬ মিনিট ১১ মিনিট

ঢাকার সময়ের থেকে কমাতে হবে:

জেলার নাম সেহরি ইফতার
নরসিংদী, নারায়নগঞ্জ, মুনশীগঞ্জ, চাঁদপুর ১ মিনিট ১ মিনিট
কিশোরগঞ্জ, পটুয়াখালী, ভোলা, লক্ষ্মীপুর ২ মিনিট ২ মিনিট
নেত্রকোনা, কমিল্লা, বি-বাড়িয়া ৩ মিনিট ৩ মিনিট
নোয়াখালী, ফেনী, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ৪ মিনিট ৪ মিনিট
চট্টগ্রাম ৫ মিনিট ৫ মিনিট
কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভী বাজার ৬ মিনিট ৬ মিনিট
খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ৭ মিনিট ৭ মিনিট

রোজার নিয়ত:

বাংলায় উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন আছুমা গদাম মিন শাহরি রমাদ্বানাল মুবারকি ফারদ্বল্লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাক্বব্বাল মিন্নী ইন্নাকা আংতাস সামীউল আলীম।

অর্থ: আয় আল্লাহ পাক! আপনার সন্তুষ্টির জন্য আগামীকালের রমাদ্বান শরীফ-এর ফরয রোযা রাখার নিয়ত করছি। আমার তরফ থেকে আপনি তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা , সর্বজ্ঞাত।

মাসআলা: কেউ যদি ছুবহি ছাদিক্বের পূর্বে নিয়ত করতে ভুলে যায় তাহলে তাকে দ্বিপ্রহরের পূর্বে নিয়ত করতে হবে। তখন এভাবে নিয়ত করবে:

ইফতারের দোয়া:

বাংলায় উচ্চারণ: (আল্লাহুম্মা সুমতু লাকা, ওয়া তাওআক্কালতু আ‘লা রিঝক্বিকা, ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রহিমীন)

অর্থ: আয় আল্লাহ পাক! আমি আপনারই সন্তুষ্টির জন্য রোযা রেখেছি এবং আপনারই দেয়া রিযিক্ব দ্বারা ইফতার করছি।

ইফতার-এর সুন্নত আমলসমূহ:

  • খুরমা বা খেজুর দ্বারা ইফতার শুরু করা সুন্নত। আমাদের নবীজি খুরমা বা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন।
  • ওয়াক্ত হওয়া অর্থাৎ আযান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা সুন্নত। হাদীছে কুদসী শরীফ-এ রয়েছে, আল্লাহ পাক বলেছেন: “আমার বান্দাদের মধ্যে আমার নিকট অধিকতর প্রিয় ওই ব্যক্তিরাই যারা তাড়াতাড়ি ইফতার করে অর্থাৎ সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করে।” কিন্তু সময় হয়নি এমন অবস্থায়
  • দ্রুত পানাহার করলে ক্বাযা-কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হয়ে যাবে। তাই সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • ইফতার করার পূর্বে তিনবার দুরূদ শরীফ পাঠ করতে হবে।
  • কোন রোযাদারকে ইফতার করানো। এটি একটি অত্যধিক ফযীলতপূর্ণ কাজ।

বিঃ দ্রঃ সকলকেই সাহরীর ও ইফতার-এর সময়ের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। যেনো কোনো অবস্থাতেই সময় কম বা বেশি না হয়। আর তাই অনেক কামেল ব্যক্তিবর্গ মনে করেন সেজন্য সাবধানতার নিমিত্তে সাহ্রী-এর সময় থেকে ৫ মিনিট কমিয়ে ও ইফতারী-এর সময় থেকে ১/২ মিনিট বাড়িয়ে সাহরী ও ইফতার করা উচিত। একটি হাদিস শরীফে আছে ইফতার ও সাহরীর ঘোষণার জন্য সাইরেন বাজানো হারাম। তবে ইফতারীর জন্য আযান দেয়া আর সাহরীর জন্য মুখে বা মাইকে ঘোষণা দেয়াই সর্বোত্তম।

রোজা ভঙ্গের কারণ সমুহ:

  1. ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে।
  2. স্ত্রী সহবাস করলে ।
  3. কুলি করার সময় হলকের নিচে পানি চলে গেলে (অবশ্য রোজার কথা স্মরণ না থাকলে রোজা ভাঙ্গবে না)।
  4. ইচ্ছকৃত মুখভরে বমি করলে।
  5. নস্য গ্রহণ করা, নাকে বা কানে ওষধ বা তৈল প্রবেশ করালে।
  6. জবরদস্তি করে কেহ রোজা ভাঙ্গালে ।
  7. ইনজেকশান বা স্যালাইরনর মাধ্যমে দেমাগে ওষধ পৌছালে।
  8. কংকর পাথর বা ফলের বিচি গিলে ফেললে।
  9. সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে ইফতার করার পর দেখা গেল সুর্যাস্ত হয়নি।
  10. পুরা রমজান মাস রোজার নিয়ত না করলে।
  11. দাঁত হতে ছোলা পরিমান খাদ্য-দ্রব্য গিলে ফেললে।
  12. ধূমপান করা, ইচ্ছাকৃত লোবান বা আগরবাতি জ্বালায়ে ধোয়া গ্রহন করলে।
  13. মুখ ভর্তি বমি গিলে ফেললে ।
  14. রাত্রি আছে মনে করে সোবহে সাদিকের পর পানাহার করলে।
  15. মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়ে সুবহে সাদিকের পর নিদ্রা হতে জাগরিত হওয়া এ অবস্থায় শুধু কাজা ওয়াজিব হবে।

রোজার মাকরুহগুলো:

  • অনাবশ্যক কোনো জিনিস চিবানো বা চাখা
  • কোনো দ্রব্য মুখে দিয়ে রাখা
  • গড়গড় করা বা নাকের ভেতর পানি টেনে নেয়া কিন্তু পানি যদি নাক দিয়ে গলায় পৌঁছে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে
  • ইচ্ছাকৃত মুখে থুথু জমা করে গলাধঃকরণ করা
  • গীবত, গালা-গালি ও ঝগড়া-ফাসাদ করা। কেউ গায়ে পড়ে ঝগড়া-ফাসাদ করতে এলে বলবে, আমি রোজাদার তোমাকে প্রত্যুত্থর দিতে অক্ষম
  • সাড়া দিন নাপাক অবস্থায় থাকা। এটি অত্যন্ত গুনাহের কাজ
  • অস্থিরতা ও কাতরতা প্রকাশ করা
  • কয়লা চিবিয়ে অথবা পাউডার, পেস্ট ও মাজন ইত্যাদি দ্বারা দাঁত পরিষ্কার করা

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ