আজ শুক্রবার, ১৩ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

মাঠে সরব ইসলামী আন্দোলন-ঝিমিয়ে অন্য সংগঠন!

সংবাদচর্চা রিপোর্ট:
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেকটা হিসাব-নিকাশ করে পা ফেলছে দেশের ইসলামী দলগুলো। জাতীয় ও ধর্মীয় বিভিন্ন ইস্যুতে এক সময় এসব দলের ব্যাপক তৎপরতা থাকলেও এখন কৌশলী অবস্থান নিয়েছে তারা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যে কোনো ধরনের হয়রানি এড়াতে প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে অঘোষিত সুসম্পর্ক ও রাজনৈতিক ময়দানে নমনীয়তা রক্ষা করে চলছে দলগুলোর কার্যক্রম।

সূত্র জানায়, জাতীয় বা ধর্মীয় ইস্যূতে একাধিকবার ঘোষণা দিয়েও রাজপথের বদলে বক্তৃতা-বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে ইসলামী দলগুলোর কর্মকান্ড। নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধনপ্রাপ্ত ১২টি ইসলামী দলের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয়ে প্রায় কয়েকবছর আগে। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিচার চলছে।

নাশকতার কারণে সরকারি রোষানলের পড়েছে ২০ দলীয় জোটের শরিক এ দলের শীর্ষ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হলেও নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরা রয়েছে বেশ আরামে। গোপনীয়তা রক্ষা করে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজপথে ঝটিকা মিছিল-সমাবেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ দলগুলার তৎপরতা। নিবন্ধিত আরো তিনটি দল ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপি জোটে সম্পৃক্ত। সরকারবিরোধী আন্দোলনের কারণে জোটটি কোণঠাসা হয়ে পড়ায় এ তিনটি দলেও তার প্রভাব পড়েছে। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কোনো ইস্যূতেই রাজপথে তেমন তৎপরতা নেই এসব দলের।

রাজপথে ইসলামিক আন্দোলন ছাড়া অন্যকোন দলের তেমন কোনো তৎপরতা নেই বললেই চলে। এ ছাড়া জাকের পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট একাংশ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, ওলামা-মাশায়েখ তৌহিদী জনতা সংহতি পরিষদ, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক ইসলামী ঐক্যজোট ও ইউনাইটেড ইসলামী পার্টিসহ বেশকিছু ইসলামী সংগঠনেরও একই হাল।
তবে দুই জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর মধ্যে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বেশ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে জাতীয় ও ধর্মীয় ইস্যুতে তুলনামূলক নরম কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার চেষ্টা চালাচ্ছে দলটি।

এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, অনেক ইসলামী সংগঠন আছে যারা জোটের সঙ্গে জড়িত। দলের স্বার্থে, জোটের স্বার্থে, জনগনের পক্ষ্যে কথা বলতে পারে না। তবে আমাদের কেন্দ্রীয় থেকে নায়েবে আমীর বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন আমরা সব সময় সেই নির্দেশনুযায়ী কাজ করি।

এ বিষয়ে হেফাজত ইসলাম মহানগরের সভাপতি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান বলেছেন, হেফাজত ইসলাম কোন গুরুত্বপূর্ন সংগঠন নয়। এটা শুধু মাত্র একটি ইসলামিক সংগঠন। আমরা প্রচার প্রসার করে কার্যক্রম চালাচ্ছি না।
এ বিষয়ে হেফাজত ইসলাম জেলার সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তার মুঠো ফোনটি তিনি রিসিভ করেন নি।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ