মাকে নিয়ে থাকতে চায় এরিক

39

সদ্য প্রয়াত জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ার‌ম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেলে এরিক এরশাদ মা বিদিশাকে নিয়েই রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে থাকতে চান। নিজ বাড়িতেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানানোর পাঁচ দিনের মধ্যে সোমবার এরিক নিজে গুলশান থানায় উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘এরিক বলেছেন- তিনি অসুস্থ বিধায় তার মাকে নিয়ে থাকতে চান। এসময় তার মা বিদিশাও এসেছিলেন।’

জিডির বিষয়টি আমলে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ওসি।
এরশাদের মৃত্যুর পর থেকে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে থাকা এরিকের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার রাতে ‘একরকম জোর’ করেই উঠে পড়েন বিদিশা। ওই ভবনের পাঁচ তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ এরিক। এরপর শুক্রবার এরিকের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে মা বিদিশা বলেন- এরিককে ‘চরম অবহেলা করে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটানো হয়েছে’।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, এরিকের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা তাকে ওই বাড়িতে ঢুকতে ‘বাধা দিতেন’। তবুও সেদিন রাতে এসে শুনি, এরিককে ওরা মাত্র একবেলা খাবার দিত। এরিকের ওজন কমে গেছে। সে নিজেও খুব ভীতিসন্ত্রস্ত ছিল।’

এদিকে এরিকও সাংবাদিকদের বলেছেন, বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে তিনি ‘কিছুটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন’।

এরিকের দায়িত্ব নিয়ে এরশাদ-বিদিশার লড়াই আদালতে গড়িয়েছিল। ২০০৫ সালে তাদের বিচ্ছেদের পর এরশাদের দেওয়া মামলায় গ্রেফতারও হতে হয়েছিল বিদিশাকে। পরে আদালতের মাধ্যমে এরিকের দায়িত্ব পান এরশাদ। বারিধারার বাড়িতে এরিককে নিয়ে থাকতেন তিনি।

এরশাদ তার মৃত্যুর আগে এরিকের ভরণপোষণের জন্য ট্রাস্ট গঠন করে যান। সেই ট্রাস্টি বোর্ডে রয়েছেন এরশাদের ভাতিজা ও জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য খালেদ আখতার। এরিকের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ায় বিদিশার অভিযোগ রয়েছে খালেদের বিরুদ্ধেও।

তবে খালেদ উল্টো বিদিশাকে দোষারোপ করে বলছেন, ‘তিনি (বিদিশা) প্রায় উটকো লোক নিয়ে প্রেসিডেন্ট পার্কে আসেন। চেয়ারম্যান স্যারও তার জীবদ্দশায় বলে গেছেন, বিদিশা যেন এই বাড়িতে না আসে।’

গত শুক্রবার বিদিশা তার ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানিয়েছেন, এরিককে ঠিকমতো খাবার খেতে দেওয়া হচ্ছিলো না বহুদিন ধরেই। এরিক বিদিশার কাছে অভিযোগ করেছেন, তাকে শুধু দুপুরে এক বেলা খাবার খেতে দেওয়া হতো। এরশাদ মারা যাওয়ার আগে যেসব মিনারেল ওয়াটার এবং বিস্কুট রেখে গিয়েছিলেন সেসব খেয়েই বাকী সময়ে খিদে মেটাতেন এরিক।

এরপর রবিবার বিকালে বিদিশা তার ফেসবুকে পেইজে তার ছেলে এরিক এরশাদের একটি ভিডিও আপলোড করেন। তাতে এরিককে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলতে শোনা যায়- ‘প্রিয় হোম মিনিস্ট্রি আঙ্কেল, আমি এরিক বলছি। আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমাকে খেতে দেওয়া হত না।’

‘আমার লিগ্যাল গার্জিয়ান আমার চাচা জি এম কাদের না, আমার মা। সেক্ষেত্রে ওনার (জি এম কাদের) তো কোনো রাইট নাই, আমাদের এরকম টর্চার করার।’

প্রেসিডেন্ট পার্কের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা যেন কোনো ‘ঝামেলা না করে’ তার অনুরোধও করতে দেখা যায় এরিককে।

For Advertisement: 01921400867/ 01981617415

সংবাদচর্চায় প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, ছবি, ভিডিও, তথ্য কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।