১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ভোর ৫:৩৯

মসজিদ কখনো অবৈধ হয় না:আব্দুল আউয়াল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জ জেলা ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, মসজিদ কখনো অবৈধ হয় না, এগুলো বলা দুঃখজনক। দেশের অনেক রাজনৈতিক দলের কার্যালয় রয়েছে অবৈধ জমিতে, সরকারি খাস জায়গায় অবৈধভাবে অনেক ক্লাব রয়েছে, অথচ এসব নিয়ে কেউ কথা বলেনা মসজিদ নিয়ে কথা বলে। আমরা জানতে পেরেছি তল্লা ট্রাজেডি ঘটনায় মসজিদ বৈধ জায়গায় রয়েছে। মোতাওয়াল্লী মসজিদে জমি দান করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় ৫ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা ওলামা পরিষদ। বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিআইটি রেলওয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদে যে হৃদয় বিদারক ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তাতে শোক প্রকাাশের ভাষা আমাদের জানা নেই। এ পর্যন্ত ২৮ জন মুসুল্লি ইন্তেকাল করেছেন। অনেকে মুমুর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছে। তিনি বলেন, আমরা ওলামাপরিষদের পক্ষ থেকে বিপর্যাস্ত পরিবারগুলোর প্রতি আন্তরিক ও গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি, আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে এই কঠিন মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করেন।

পরে জেলা ওলামা পরিষদের সভাপতি মাও.আব্দুল আউয়াল পাচঁ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবী গুলো হলো: মসজিদ আল্লাহ ঘর, ইবাদতের জন্য নির্ধারিত স্থান। পৃথিবীর সবচেয়ে পবিএ স্থান মসজিদ। আমরা লক্ষ করেছি ক্ষতিগ্রস্থ মসজিদটিতে দর্শনার্থীরা নারী পুরুষ নির্বিশেষে বিভিন্ন দল ও সংস্থা মসজিদের পবিত্রতার প্রতি লক্ষ্য না রেখেই প্রবেশ করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে মসজিদের পবিত্রতা লক্ষ্য রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের দাবাী জানাই। একই সাথে দ্রুত নামাজ ও অন্যান্য ইবাদতের পরিবেশ তৈরির জন্য জোর দাবী তুলেন তারা।

তিনি আরো বলেন, সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন মসজিদ অবৈধ, আমরা দুঃখের সাথে বলতে চাই, যেখানে এই মর্মান্তিক ঘটনায় ২৮ জন মুসুল্লি শহিদ হয়েছে, অসংখ্য পরিবার শোকাহত, ওইখানে মন্ত্রীর এইধরণের দায়িত্বজ্ঞানইীন বক্তব্যে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা বলতে চাই মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে যথাযথ বিধির অনুস্বরণ না করা এক বিষয় আর মসজিদ অবৈধ এধরণের কথা আরেক বিষয়। আমরা জানতে পেরেছি মসজিদ তার নিজস্ব ওয়াকফকৃত জায়গায় র্নিমান করা হয়েছে। তাই মন্ত্রীর দেয়া এধরনের অগ্রহণযাগ্যে বিবৃতি আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। ওলামা পরিষদ উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছে, কিছু মহল এই মর্মান্তিক ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আগে এধরণের কথাবার্তা গ্রহণযোগ্য নয়। ওলামা পরিষদ একজন বিচারপতির নেতৃত্বে এই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবী জানান।

এই দুঃখজনক ঘটনা শহিদদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও ও সহায়তা দানের পাশাপাশি সম্পূর্ণ অসহায় পরিবারগুলোর দায়িত্ব গ্রহণ করে তাদের পুণর্বাসনের জোর দাবী জানাই। এই ঘটনার সাথে যারা জরিত প্রমান হবে তাদের আইনের আওতায় দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানান ওলামা পরিষদ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা ওলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন কাসেমী, সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর কাদির ও যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সহ আরও অনেকে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ