২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, রাত ১১:৪৪

মন্ত্রী গাজীর নির্দেশে লকডাউন এলাকায় খাদ্য

সংবাদচর্চা রিপোর্ট:
করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে অত্যাধিক ঝুঁকি বিবেচনায় রেড জোন রূপগঞ্জ উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নে পঞ্চম দিনে কঠোর লকডাউন পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার লকডাউনের পঞ্চম দিনেও স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে স্বেচ্ছাসেবকরা মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যাতে বিনা কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের না হয়। লকডাউন শতভাগ বাস্তবায়ন করতে তৎপর রয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রেড জোন ঘোষিত এলাকায় কয়েকটি স্তরের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ রয়েছে স্বেচ্ছাসেবকও। পাশাপাশি সবকিছু তদারকিতে রয়েছে প্রশাসনের একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের টিম। রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ইছাপুরা, ভক্তবাড়ি, জাঙ্গীর, রূপগঞ্জ গ্রাম, মুশুরী, টানমুশুরী, বাগবেড়, দক্ষিনবাগ, ছনি, টেকনোয়াদ্দা, গুতিয়াবো, মধুখালী, পিতলগঞ্জ, শিমুলিয়া, ব্রাহ্মণখালী, হারারবাড়ি, পশিসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ফাঁকা পড়ে রয়েছে। বন্ধ রয়েছে প্রধান সড়কের দুই পাশসহ অলিগলির সব প্রতিষ্ঠান। পুরো দমে বন্ধ রয়েছে দোকানপাটসহ সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
লকডাউন এরিয়ায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এলাকা গুলোর প্রবেশ মুখে দেওয়া হয়েছে বাঁশের ব্যারিকেড। নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে লোক চলাচলে। সড়কের মোড়ে মোড়ে বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে দেওয়া হয়েছে পাহারা। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল কোট এর পাশাপাশি থানা পুলিশের সদস্যরাও খন্ড খন্ড ভাগে ভাগ হয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তায় টহল দিচ্ছে। এ সময় বিনা কারণে কেউ রাস্তায় বের হলেই পড়তে হচ্ছে জেরার মুখে।
এদিকে, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক ও গাজী গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী গোলাম মর্তুজা’র নির্দেশনায় প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া রূপগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার হতদরিদ্র ৬ শতাধিক পরিবারের মাঝে মঙ্গলবার খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেছেন রূপগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ আনছার আলী। তিনি বলেন, “করোনা ভাইরাসের কারনে লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়িতে গিয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক ও গাজী গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী গোলাম মর্তুজা’র নির্দেশনায় খাদ্য সামগ্রী বিতরন করছি। রূপগঞ্জ ইউনিয়নের কোন মানুষই অনাহারে থাকবে না ইনশাল্লাহ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, রূপগঞ্জ ইউনিয়নে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮৫ জন। তার মধ্যে একজন মারা গিয়েছেন। বর্তমানে ৩২ জন নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাঈদ আল মামুন বলেন, লকডাউন চলাকালে কারো শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে ফোনে জানালে ওই রোগির সেম্পল বা নমুনা বাড়িতে এসে নেয়া হয়। ইউনিয়ন মেম্বারসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে মোবাইল নাম্বার দেয়া হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জন্য টেলিমেডিসিন, নমুনা সংগ্রহে আলাদা দল গঠন, হোম ডেলিভারি সার্ভিস, স্বাস্থ্যকর্মী, মৃতের সৎকার ব্যবস্থাপনা রয়েছে।
রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন ভুঁইয়া জানান, রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ‘রেড জোন’ ঘোষিত ৯টি ওয়ার্ডের চিত্র পাল্টে গেছে। কেউ বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে লকডাউন। বাঁচার জন্য এ লকডাউনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে রূপগঞ্জ ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকার রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ ফাঁকা রাখা হচ্ছে। লোকজনও অনেকটা সচেতন হয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা ইসলাম বলেন, সর্বাত্মক লকডাউন নিশ্চিতকরণে সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভ্রাম্যমান আদালতের মনিটরিং চলছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যারা বিনা কারণে রাস্তায় বের হয়েছেন তাদের ঘরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে অথবা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে করা হচ্ছে জরিমানা।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ