৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, সন্ধ্যা ৭:৫৩

ভয়ে তাদের সালাম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

এলাকার একজন স্কুল শিক্ষককে মানুষ সম্মান করে, ভালোবাসে। শিশু থেকে বৃদ্ধা পর্যন্ত সবাই তাকে সালাম দেয়। সেই স্কুল শিক্ষক যখন এলাকার কোন ক্ষমতাধর নেতাকে সালাম দেয় তখন হয়তো সম্মান কিংবা ভালোবাসা থাকে না, থাকে ভয়। কারণ বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ক্ষমতাধর নেতার সামনে গেলে তাকে আগে সালাম দিতে হবে। সচেতন মহল বলছেন, রাজনীতি নয় ভয় নীতি চলছে বলেই নেতাদের ভয় পেয়ে অনেকেই সালাম দেন।

জানা গেছে, ৫০ বছর বয়সী নেতা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম কে এলাকার অনেকেই সালাম দেয়। অনেকে বলে নিজাম ভাই এসেছে। চাষাঢ়ায় তার আসার খবর শুনলেই অনেকেই চলে আসে। অনেকে বলেন নিজাম ভাইয়ের রাজনীতি করি। কেউ আবার বলেন, শাহ নিজাম আমার উকিল বাপ! 

কথায় কথায় যিনি ইংরেজি বলেন তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল। একসময় তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলামার কলেজের জিএস। সভা সমাবেশে অসংখ্য নেতাকর্মী থাকে তার পেছনে। তিনি গাড়ি থেকে নামার পর সালাম নিতে নিতে অফিসে যান। 

থানার ভেতরে পুলিশের সামনে বাদিকে মারধর করে ক্ষমতার দাপট দেখানো নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহল আলী। তিনি ফতুল্লার রাস্তা দিয়ে হাঁটেন আর সালাম নেন।

এলাকার বিভিন্ন ঘটনার বিচারক ও দামি গাড়িতে চলাফেরা করেন ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম। তিনি এলাকায় আসলেই তার কর্মীসহ এলাকার ৭০ বছরের বৃদ্ধাও তাকে সালাম দেয়। 

৪০ বছর বয়সী ফতুল্লা ছাত্র লীগের সভাপতি আবু মোহাম্মদ শরিফুল হক। হাট, মাঠ, ঘাট সব জায়গায় তিনি আছেন। ফেরিওলা থেকে বাড়ির মালিক সবার সালাম পান। তিনি ছাত্র লীগের নেতা তবে, সালাম পান আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের অনেক নেতারও।   

শহরে ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় মেয়র আইভীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগেও নাম রয়েছে যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লবের। এলাকার এ পথ থেকে ও পথে অনেকইে তার কর্মী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়। এলাকার স্থানীয় থেকে শুরু হবে ভাড়াটিয়াদের ও চিনতে হয় তাকে।  এলাকায় তিনি সাধারণ ভাবে চলাফেরা করলেও সালাম নেন অসংখ্য।

অস্ত্র গুলিসহ গ্রেপ্তার হওয়া বন্দর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান মাসুদ। বন্দরের অনেকেই রয়েছে খান মাসুদ বাহিনীর। তার নাম শুনলেই অনেকেই তাকে ভয় পেয়ে সালাম দেন। নদী পার হলেই খান মাসুদের এলাকায় রিকশা চালক থেকে শুরু করে নেতা পর্যন্ত বলে খান মাসুদের লোক। 

সচেতন মহলের মতে, একজন রাজনৈতিক নেতাকে মানুষ যখন সম্মান করবে তখন মন থেকে সালাম দিবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি হলো এলাকায় ক্ষমতার দাপট যার বেশি আছে তাকে সালাম দিতে হবে। এ ধরনের চর্চা বাড়তে থাকলে রাজনীতি নয় ভয় নীতি চলতে থাকবে বলে জানান তারা।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ