১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ভোর ৫:১৬

ভ্রাম্যমাণ দর্জিদের কাজের আকাল

সাবিত আল হাসানঃ

বছর দশেক আগে গার্মেন্টসের কাজ ছাড়েন ভ্রাম্যমাণ দর্জি সোহেল মিয়া (৩০)। ছেলেদের জামা কাপড় তৈরীর উপর দক্ষতা নিয়ে উদ্যোক্তা হতে চেয়েছিলেন। সেলাই মেশিন আর কাঁচি নিয়ে শুরু করেন শার্ট প্যান্ট কাটিং এর কাজ। নন ফিটিং রেডিমেট জামা কাপড় এনে দিলে সযত্নে তা ভোক্তার পরিধানের উপযোগী করে দেন। আর এভাবেই চলে আসছে বছরের পর বছর। সারা বছর টুকিটাকি কাজ করে সংসার চলে। তবে দুইটি ঈদ আয়ের প্রধান উৎস। এসময় অর্ডারের পর অর্ডারে দম ফেলবার সময় থাকতো না । কিন্তু চলতি বছরের দুইটি ঈদ কেটেছে অলস সময় পাড় করে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের ৩টি স্থানে ভ্রাম্যমাণ দর্জিদের দেখা মিলে। মূলত রেডিমেট জামা কাপড় ভোক্তার ফিটিং করে দেয়াই তাদের মূল কাজ। শহরের ২ নং রেলগেইট, হকার্স মার্কেট ও কালীবাজার ফ্রেন্ডস মার্কেটের সামনে অস্থায়ী ভাবে কাজ করেন। পছন্দের জামা কাপড় কেনার পর তা যদি বড় হয় কিংবা ঢিলেঢালার পরিমান বেশী হয় তখনই ডাক পরে তাদের। বেশ অল্প টাকায় দ্রুত সময়ে কাজ করে দেন এসকল দর্জিরা। মূলত মার্কেটের ভেতরের দর্জিদের তুলনায় বেশ কম মূল্যে সন্তোষজনক কাজ করিয়ে নেয়া যায় তাদের মাধ্যমে।

কিন্তু সারাবছর কাজের পরিমান বেশ কমই থাকে বলে জানান সোহেল মিয়া। বছরের দুইটি ঈদে অধিক পরিমান জামা কাপড় কেনা বেচা হওয়ায় ক্রেতারা সেসব ফিটিং করার জন্য দ্রুত আমাদের কাছে নিয়ে আসে। তাদের গ্রামের বাড়ি যাবার তাড়া থাকায় দ্রুত এসব কাজ করিয়ে নেন আমাদের মাধ্যমে। একাধিক অর্ডার আসায় রেটও বাড়িয়ে নেয়া হয় কিছুটা। কিন্তু চলতি বছরে করোনার কারনে কাজ একেবারেই কমে গেছে। শেষ ঈদ উল ফিতরে দৈনিক ৪শত টাকা আয় করেও বাড়ি ফিরতে হয়েছে। অথচ অন্যান্য বছর ঈদের পূর্বে দিনপ্রতি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার কাজও করা হতো। এখন দৈনিক আয়ের পরিমানও কমেছে, আবার ঈদের আয় নেই বললেই চলে।

আলাপচারিতায় সোহেল জানান, ৭ বছর পূর্বে বিয়ে করেন তিনি। মা বাবা, ভাই বোন সহ প্রায় ৮ সদস্যের পরিবার নিয়ে থাকেন বন্দরের সাবদী এলাকায়। হকার্স মার্কেটের ফুটপাতে অস্থায়ী ভাবে বসে সেলাই কাজ চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। তবে একা নন, পুরো মার্কেট জুড়ে এমন আরও ৮ জন কাজ করেন। তাদের অবস্থাও প্রায় একই। করোনা কালে সাংসদ শামীম ওসমানের কাছ থেকে ৮ কেজি চাল উপহার পেয়েছিলেন হকার নেতাদের মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১২শ টাকার একটি অনুদান পাওয়ার কথা থাকলেও তা আর জুটেনি। এতদিনের বেকার সময় কোরবানী ঈদের পূর্বে পুষিয়ে নেয়ার কথা ভাবলেও এবারও মিলছেনা অর্ডার। দৈনিক ৪/৫শ টাকার কাজ পেলেই সন্তুষ্ট হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়।

শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, কোট কোন কিছুই ফিরিয়ে দেননা সোহেল মিয়ার মত দর্জিরা। পোশাকগুলো পরিধানের উপযোগী করে তোলার জন্য নিপুনভাবে কাজ চালিয়ে যান দিনের পর দিন। ভ্রাম্যমান কারিগরদের হাতের নাগালে পাওয়ায় কেউই ভাবেননা তাদের মূল্যায়নের কথা। অথচ সোহেলরা হাজার টাকার কাপড় স্বল্প মূল্যে সাড়িয়ে বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে দেন। তাদের ভাগ্য ফুটপাতে মেশিন কাঁচিতেই সীমাবদ্ধ থাকে বছরের পর বছর।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ