৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, রাত ৯:৪১

বাদ পরবেন অনেকে

সংবাদচর্চা রিপোর্ট:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আর দেখা যায়নি বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত সহ অনেক নেতাকে। এমনকি যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তারাও খুব একটা সক্রিয় নয়। এরই মধ্যে জেলা বিএনপির কমিটির কার্যক্রমন স্থগিত করেছে কেন্দ্র। ফতুল্লা থানা বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, নানা কারনে এসব কমিটি গঠনে তেমন আগ্রহী নয় দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। তবে তারা তীক্ষ্ণ নজর রাখছে কতিপয় নেতার কর্মকান্ড ও সাংঠনিক তৎপরতার উপর। এসবের উপর ভিত্তি করে আগামী কমিটিতে অনেকেই বাদ পরবেন বলে জানায় সূত্রটি।

কেউ নিজের পিঠ, কেউবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে, আবার কেউ পাড়ি জমিয়েছেন দেশের বাইরে। অনেকে আবার আগে থেকেই সরকারী দলের নেতাদের সাথে সখ্য রেখে চলছেন। তবে এবার দল থেকে শুদ্ধি অভিযান চালানোর কথা শোনা যাচ্ছে। এতে অনেক হেভিওয়েট নেতা বাদ পরতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। প্রায় ৩ বছর জেলা ও মহানগর বিএনপির রাজনীতি চলছে কার্যালয় ছাড়াই। আর যার কারনে নিজ অফিস রুম বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকেই বিএনপির কার্যালয় বানিয়েছেন নেতাকর্মীরা। এ বিষয়টি পছন্দ নয় কেন্দ্রীয় নেতাদের। জেলা শহরে দলীয় কার্যালয় না থাকায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও ক্ষুব্দ।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, কাজী মনিরুজ্জামান কে মোবাইল ফোনেও পাওয়া যায় না। তৈমুর আলম খন্দকার রূপগঞ্জে নির্বাচন করতে চাইলেও তার কর্মসূচি শহর ভিত্তিক। আগে সক্রিয় থাকলেও মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু কে তেমন দেখা যায় না। অপরদিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহামুদ সিদ্ধিরগঞ্জে নিজস্ব বলয় তৈরি করলেও গোটা জেলায় পারেননি। সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস সব সময় ওসমান পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাতে পছন্দ করেন। মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, যুগ্ম সম্পাদক শওকত হাসেম শকুর বিরুদ্ধেও রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের আঁতাতের অভিযোগ।

অপরদিকে মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আবুল কালাম শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিজের অফিস রুমেই সভা করেন। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল আমেরিকায় আছেন। আড়াইহাজারে সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙুর, নজরুল ইসলাম আজাদের কারণে বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত। সোনারগাঁয়ে মান্নানকে বেশী মূল্যায়ন করায় বুদ্ধিভিত্তিক কর্মকান্ড কমে গেছে।

এখানে সাবেক মন্ত্রী রেজাউল করিম, খন্দকার আবু জাফরের মতো নেতা থাকতে কেন্দ্রের কতিপয় নেতা নিজের স্বার্থে মান্নানকে বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব খবর দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছেছে। দুঃসময়ে কারা দলের কর্মকান্ডে থাকছে, কারা থাকছে না তা নিয়েও পর্যবেক্ষন করছে দায়িত্বরত নেতারা। দলীয় সূত্র জানায়, এ বিষয়গুলো দেখভাল’র জন্য ইতিমধ্যে কেন্দ্র কয়েকজনকে দায়িত্ব দিয়েছে। তাদের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবে দল। দলীয় সূত্র জানায়, আগামী কমিটিতে চমক থাকতে পারে। ওই কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবেন ত্যাগী নেতারা।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ