আজ শুক্রবার, ১৩ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

বাণিজ্য মেলা, দর্শনার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার

এম.এ মোমেন

বাণিজ্য মেলার পার্শবর্তী ঢাকা বাইপাস সড়ক দর্শনার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। এক হাতে কেনা পণ্য আর অন্য হাতে শিশু নিয়ে পার হচ্ছেন নারীরা। ঢাকার কুড়িল থেকে ছেড়ে আসা বিআরটিসি বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছলে কে কার আগে মেলায় যাবেন এমন প্রতিযোগিতায় নামেন দর্শনার্থীরা। এ কারনে যে কোনো সময় প্রাণহানীর ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। গতবারের স্থানে জনতা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন রাজউকের খালি মাঠে পুনঃরায় বিআরটিসি বাস স্ট্যান্ড স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন বাসযাত্রীরা। মেলায় কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশা কেটে যাওয়ায় মেলায় ক্রেতা দর্শনার্থীদের আগমন বাড়ছে। নারী ও শিশুদের উপচে পড়া ভিড়ে মেলাপ্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠছে। পণ্যের মান ভালো থাকায় দাম একটু বেশি বলেও বিক্রেতারা মনে করছেন। তবে পণ্য বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর। বিক্রেতারা খুশি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাণিজ্য মেলার পশ্চিম পাশ দিয়ে অবস্থিত এশিয়ান সড়ক নামে পরিচিত ঢাকা বাইপাস সড়ক। এ সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এখানে ধুলাবালুতে সয়লাভ। সড়কের পশ্চিম পাশে বিআরটিসি বাস স্ট্যান্ড অবস্থিত। বাস থেকে নেমেই সড়ক পার হয়ে দর্শনার্থীরা ছুটে যান মেলার পূর্বপাশে অবস্থিত টিকিট কাউন্টারে। টিকিট সংগ্রহ করেই আবার পশ্চিম দিকে ছুটে আসেন বাণিজ্য মেলার প্রবেশ গেইটে। তাতে একদিকে সৃষ্টি হয় ঢাকা বাইপাস সড়কে যানজট। অন্যদিকে দর্শনার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার আর ভোগান্তিতে পড়েন। এ অবস্থা থেকে ফিরে আসতে হলে গতবারের স্থানে বাস স্ট্যান্ড স্থাপন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বাস যাত্রীরা।
ঢাকার উত্তরা থেকে স্বপরিবারে বিআরটিসি বাসে করে মেলায় আসেন ওবায়দুল মজিদ জুয়েল মাষ্টার। কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, মেলার পূর্বদিকে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে রাজউকের খালি মাঠ। এ মাঠে শতাধিক বিআরটিসি বাস রাখা সম্ভব। সেখানেই বাস স্ট্যান্ড ও কাউন্টার হলে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
ঢাকার মালিবাগ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আফসানা আক্তার পাঁচ বান্ধবীর সঙ্গে বিআরটিসি বাসে করে মেলায় আসেন। গত বছরও স্বপরিবারে তিনি মেলায় এসেছিলেন। আগের বছরের তুলনায় এবার বিআরটিসি বাসে করে মেলায় এসে ঝামেলায় পড়েছেন। ধুলাবালু আর সড়ক পারাপারের ঝুঁকি নিয়ে অন্যদের মতো তারাও মেলায় আসেন। বিআরটিসি বাস স্ট্যান্ড গতবারের জায়গায় স্থানান্তরের প্রয়োজন বলে আফসানা ও তার বান্ধবীরা মনে করছেন।
মেলার পার্শ্ববর্তী গ্রামের শিমুলিয়া এলাকার শিক্ষানুরাগী রিটন প্রধান বলেন, রাজউকের খালি মাঠে বাস স্ট্যান্ড হলে সেখান থেকে যাত্রী তুলে কালীগঞ্জ-রূপগঞ্জ সড়ক দিয়ে কাঞ্চন সেতুর আন্ডারপাস পার হয়ে বিআরটিসি বাস ঢাকায় আসা যাওয়া করলে এখানকার যানজট ও ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোক্তার হোসেন বলেন, রাজউকের খালি জায়গায় বিআরটিসি বাস স্ট্যান্ড হলে ওই বিদ্যালয়ের পাঠদানের কোন সমস্যা হবে না। মেলার ক্রেতা, দর্শনার্থী ও বাসযাত্রীদের চলাচলে সুবিধা হবে।
রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ছালাউদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, বাসযাত্রী, ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের প্রয়োজনে মেলার পার্শ্ববর্তী যে কোন স্থানে বিআরটিসি বাস স্ট্যান্ড হতে পারে। তাতে কোন সমস্যা নেই। তবে ঢাকা বাইপাস সড়কের পূর্ব পাশে কিংবা রাজউকের খালি মাঠে বাস স্ট্যান্ড হলে সকলের সুবিধা হবে।
কুড়িল-ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা সড়কের বিআরটিসি বাসের ইনচার্জ মাসুদ তালুকদার বলেন, বাণিজ্য মেলার আভ্যন্তরিণ সড়কের সার্বিক যানজট এড়াতে বাস স্ট্যান্ড সড়ানো হয়েছে। তবে ঢাকা বাইপাস সড়কের মেলার দর্শনার্থীদের পারাপারের ঝুঁকি এড়াতে গতবারের স্থানে বাস স্ট্যান্ড পুনঃস্থাপন করা যায় কিনা বিবেচনা করা হবে। ক্রেতা, দর্শনার্থী ও বাস যাত্রীদের সুবিধার জন্য যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে বিআরটিসি বদ্ধপরিকর।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ