আজ শনিবার, ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বাণিজ্য মেলায় স্বাচ্ছন্দে কেনাকাটা

এম.এ মোমেনঃ
বাণিজ্য মেলায় গত ২২ জানুয়ারি শনিবার ছুটির দিনে ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দে কেনাকাটা করেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ক্রেতারা দুপুরের পর থেকেই কেনাকাটা শুরু করেন। পছন্দমতো পণ্যসামগ্রী কিনতে স্টলগুলোতে ভিড় করেন। এলুমিনিয়াম, শীতবস্ত্র ও গৃহস্থালির ব্যবহৃত পণ্যেল স্টলে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। নারী ক্রেতাদের সংখ্যাই বেশি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাস্ক পরিধান ছাড়া কাউকেই মেলায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সেকারণে মেলার বাইরে মাস্ক বিক্রিও হয়েছে প্রচুর। মেলায় প্লাস্টিক পণ্য এলুমিনিয়ামের গৃহস্থালি, ইমিটেশনের গহনা, থ্রী পিছ, প্রসাধনী, কাশ্মিরী শালসহ নারীদের পছন্দের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই ছিল। পণ্য সামগ্রীতে বিশেষ ছাড় থাকায় বেচাকেনাও বেড়েছে কয়েকগুণ। তাতে বিক্রেতাদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে। ক্রেতা দর্শনার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মেলা পরিদর্শন ও কেনাকাটা করেছে।
গত শুক্র ও শনিবারের পণ্য বিক্রিতে মেলার বিক্রেতাদের মুখে উচ্ছাসের হাসি লেগেই ছিল। ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে নিজের কাঙ্খিত পছন্দের পণ্যটি ক্রয় করেছেন। ছুটির দিনে অনেকেই মেলায় ঘুরতে এসেছেন। কেউ কেউ ৪/৫বার মেলায় এসেছেন। তবে তারা শুক্র-শনিবার পণ্য ক্রয় করেছেন। ভালো কেনা বেচা হয়েছে। মেলার শেষ মুহূর্তে পণ্য বেচা কেনা বেড়েছে। দেওয়া হয়েছে বিশেষ ছাড়। দেশী পণ্যের চাহিদা ও দামের পাশাপাশি বিদেশী পণ্য হাতের নাগালে থাকায় তা বিক্রিও হয়েছে প্রচুর। মেলায় ক্রেতা দর্শনার্থী ও কেনা বেচা বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সস্তি পাচ্ছেন। আইসক্রিমের স্টলে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জটলা বেধেই থাকে। খাবারের দোকানগুলোতে ভিড় আরও বেশি।
মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আগমনে অনেক প্রতিষ্ঠানই নতুন করে স্টল নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। ৭/৮ জন ইতিমধ্যে সফলও হয়েছেন। সরকারি নিয়মনিতী মেনেই তাদের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ স্টল বরাদ্দ পেয়েও নতুন জায়গায় বাণিজ্য মেলা বসেছে। তাতে লাভ-লোকসানের ঝুঁকি মনে করে স্টলে পণ্য তোলেনি। এতদিন সেই সকল স্টলগুলো ছিল ফাঁকা। আশপাশের স্টলে পণ্যের জমজমাট বিক্রি দেখে নিজের নামে বরাদ্দকৃত স্টল তারা গত বৃহস্পতিবার চালু করেছে। তাতে শুক্র ও শনিবার বিক্রি হয়েছে প্রচুর।
রোমেনা আফাজ শারকের কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, নানা প্রতিকূলতায় সময়মতো স্টলে পণ্য তুলতে পারিনি। বিক্রয় হচ্ছে বেশি জেনেই মেলার ২০ দিনের মাথায় স্টল চালু করেছি। শুক্র ও শনিবার বিক্রি হয়েছে আশাতীত।
সায়মন ব্লেজারের স্টল মালিক লিটন মিয়া বলেন, নতুন জায়গায় বাণিজ্য মেলা বসায় আমরা ব্যবসায়ীকভাবে আতঙ্কে ছিলাম। বিক্রি বেশি জেনে ২০ জানুয়ারি স্টল চালু করেছি। এখন বেশ সাড়া পাচ্ছি। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর।
মাতৃ ফ্যাশনের মালিক পাভেল আহমেদ বলেন, মেলার প্রথমে না এসে ভুল করেছি। শুক্র ও শনিবারের বিক্রিতে আমরা খুশি। এবারের বিক্রিতে আগামী বছর স্টলের চাহিদা থাকবে বেশী।
নীলকান্তা স্টলের মালিক রোকসানা নীলা বলেন, নারীদের প্রসাধনসামগ্রী ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার বিক্রি হয়েছে প্রচুর। দাম কম ও বিক্রি বেশি হওয়ায় ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ই খুশি।
নারায়ণগঞ্জের গঙ্গানগর থেকে আসা গৃহবধূ শাহনাজ পারভীন বলেন, মেলায় কমদামে বিক্রি হওয়ায় আমি গৃহস্থালী পণ্য ক্রয় করেছি। এখানে কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ বোধ করছি।
ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্রী সিনথিয়া খাইরুন তুশি বলেন, ভালো মানের ইমিটেশনের গহনা, শাল ও কসমেটিকস পাওয়ায় আমি তা ক্রয় করেছি।
খাবার দোকান মি. ব্রাইটের মালিক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ খোকন বলেন, এতদিনের চেয়ে শুক্র ও শনিবার বিক্রি হয়েছে প্রচুর। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আগমন বেড়েছে। সকল বিক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটেছে।
প্যাড্রোলো কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ বশির আহমেদ বলেন, মেলার শেষের দিকে এসে ক্রেতা দর্শনার্থী বেড়েছে। অনেকেই শো-রুমের ঠিকানা নিয়ে পণ্যের অর্ডার দিচ্ছেন। আমরা বিক্রি করা পণ্যের ফ্রি হোম ডেলিভারি দিচ্ছি।
দিল্লি এলুমিনিয়ামের বিক্রয় প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান বলেন, হাড়ি, পাতিল, কড়াই, চামচ, বাটি এসবের চাহিদে বেশি। পণ্যের দাম কম হওয়াতে বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর।
ড্রেস লাইন স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধি নিলয় আহমেদ বলেন, শীতকাল হিসেবে শীতবস্ত্র বিক্রি হচ্ছে প্রচুর। অনেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী শীতবস্ত্র কিনছেন। আশাতীত বিক্রিও হচ্ছে।
মেলার আয়োজক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র সচিব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, মন্ত্রী পরিষদের আরোপিত বিধি নিষেধে বাণিজ্য মেলার কোন বিষয় নেই। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মেলা পরিচালনা করা হচ্ছে। মাস্ক ছাড়া কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। মাস্কবিহীন ঘুরাফেরা করলেই জরিমানা। ইতিমধ্যেই মেলায় মাস্কবিহীন এগারো জনকে জরিমানা করা হয়েছে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ