২৩শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই জুলাই, ২০২০ ইং, মঙ্গলবার, রাত ৮:২৮
বিজ্ঞাপন

ফল প্রকাশের পরেও আনন্দহীন শিক্ষার্থীরা !

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে নিজের প্রত্যাশিত ফল দেখার পর আনন্দে মেতে উঠত শিক্ষার্থীরা। কিন্তু করোনা করোনা ভাইরাসের কারণে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবার ফল প্রকাশের দিন বিদ্যালয়ে আসতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। আর এজন্য দেখা মেলেনি নারায়ণগঞ্জের শিক্ষার্থীদের আনন্দ উল্লাস। তাই বিদ্যালয়ে আসার পরিবর্তে বাসাতেই পরিবারের সঙ্গে আনন্দ-উল্লাস আর দু:খ ভাগাভাগি করে সময় পার করছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতি বছর দেখা যায় নরায়ণগঞ্জের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত ভালো ফলের খুশিতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে, চিৎকার করে, আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। এবার তার কিছুই দেখা যায়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে।

রোববার (৩১ মে) নারায়ণগঞ্জ সহ সারাদেশের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। তবে এবার নারায়ণঞ্জ থেকে ২৫৪টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৪৪টি কেন্দ্রে ৩৪ হাজার ২১৮ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে। তবে সারা দেশে পাস করেছে ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৮৯২ জন। ফেল করেছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯৮ জন।

এদিকে বিদ্যালয়ে নোটিশ বোর্ডের পরিবর্তে এবার ইন্টারনেট এবং মোবাইলের এসএমএস’র মাধ্যমে ফলাফল পায় শিক্ষার্থীরা। কিন্তু বিদ্যালয়ে আসতে না পেরে, সহপাঠীদের ফলাফল জানতে না পেরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষার্থীই।

নিহা নামে এ গ্রেড পাওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, দির্ঘদীন অপেক্ষার পর ফলাফল দেখে খুব ভালো লাগছে। আমার এ অর্জন আমার বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকার কঠোর অনুশাসনের ফসল।এই আনন্দেও সময় কৃতজ্ঞতা জানাই তাদের সবাইকে। কিন্তু বিদ্যালয় বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষক এবং বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে পারিনি এটা খুবই খারাপ লেগেছে। খুব ভালো একটা দিন, তবে আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য আজ বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় দিনটা অন্যরকম হয়ে গেল।

মিথিলা নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, প্রতিবছর স্কুল প্রাঙ্গণে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে নিজের ফলাফল দেখার পর আনন্দে মেতে উঠে শত শত শিক্ষার্থীরা। একে অপরকে জড়িয়ে, চিৎকার করে, আনন্দ-উল্লাস করে। আমাদেরও কত স্বপ্ন ছিল, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে তার কিছুই হলো না। ভালো ফলাফলে ভালো করার পাশাপাশি এটা একটা খারাপ লাগার বিষয়। কবে ভালো সময় আসবে। কবে আমরা আগের মত আনন্দে মেতে উঠবো। সেই প্রত্যাশায় আছি আমরা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারনে পুরা জেলার পাসের হার আমাদের নিকট এখনো আসে নাই। হয়ত আজ আসতে পারে। জেলার ফলাফল আসলে আমরা জানিয়ে দিব। তবে আশা করি প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নারায়ণগঞ্জ জেলা ভালো ফলাফল অর্জন করবে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে না পারলেও ঘরে বসেই পরিবারেই বাবা-মা, ভাই-বোনদের কাটাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

আরএইচ/এসএমআর