১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, রাত ১০:৩৮

পচা মাছে রঙ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

এক হাতে রঙের পোটলা অপর হাতে আগে থেকে রঙ মেশানো সিলভারের বলের পানিতে মাছ চেপে ধরেছেন বিক্রেতা। তার পাশে দাঁড়িয়ে এক দৃষ্টিতে তা দেখছেন আরেক প্রবীণ মাছ বিক্রেতা। তার ভাবখানা দেখলে মনে হয়, বয়সে কম ওই মাছ বিক্রেতার এ ‘ঠককর্মে’ তিনি নজর রাখছেন। যেন ক্রেতা ঠকাতে কোন ভুল না হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, ফতুল্লা কেন্দ্রীয় বাজারে এ চিত্র পুরনো।

প্রতিদিনই পচাগলা মাছে রঙ ও ফরমালিন মিশিয়ে ক্রেতাকে ঠকানো হয়। এ মাছ খাওয়া মানবদেহের ক্ষতিকর বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরনো সড়কে ফতুল্লা মডেল থানার পাশে এ বাজারে আশপাশের অনেক এলাকার মানুষ বাজার করেন।

স্থানীয়, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফতুল্লা বাজারে কয়েকদিনের পচা বাসী মাছও অবিক্রিত থাকে না। বিক্রেতা ছলে বলে তা ক্রেতাকে ধরিয়েই দিবে। এমনকি মাছে রঙ ও ফরমালিন মিশিয়ে টাটকা বুঝানোর পদ্ধতিও তাদের জানা।

নিয়মিত এ বাজারের ক্রেতা আলমগীর হোসেন জানান, পচা-গলা মাছে রঙ মিশিয়ে এমন রুপ দেয়া হয় যা দেখে মনে হবে তাজা মাছ। তখন ক্রেতারা মানে আমরা গোলকধাধায় পরে যাই। বিক্রেতাদের এ ছলাকলা না জানায় দিব্যি হাসিমুখে বাড়ি নিয়ে যেতে বিষাক্ত মাছ।

মাছ বিক্রেতারা জানান, মাছ তাজ কিনলেও বিক্রি করতে দেরী হওয়ায় নরম হয়ে যায়, রঙটাও কালচে হয়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে রঙ আর ফরমালিন মেশাই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণত রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, বোয়াল মাছকেই বেছে নেন তারা। কারণ আঠালো আর কান লালচে থাকলে তাজা মাছ ভেবে কেনেন ক্রেতারা। তাই মাছ বিক্রেতারা ক্ষতিকর রং আর ফরমালিন মেশায়। সূত্র জানায়, বেশী মাছ হলে বালটি আর কম মাছ হলে সিলভারের পাত্রে প্রথমে রঙ গুলানো হয়। তারপর সেখানে কিছুক্ষন মাছ ডুবিয়ে রেখে তুলে রাখা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক রঙ ছাড়া বাকি সব রঙ স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। খাবারের রঙ সম্পূর্ন বিষাক্ত রাসায়নিক একটা পদার্থ। ফলে যখন এই রাসায়নিক পদার্থ আমাদের দেহে প্রবেশ করে। তখন তা আমাদের দেহে সুস্থ কোষ গুলোকে ধংস করে দিয়ে ক্যানসার তৈরি করে।

এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এ বি সিদ্দিক বলেন, মানুষের সতত্যা হারিয়ে যাচ্ছে। মাছ বিক্রেতারা দীর্ঘদিন বাজারগুলোতে এভাবে মাছ বিক্রি করছে কিন্তু ভোক্তা অধিদপ্তর তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযান করেন না। ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তরা যদি অভিযান করে অসাধু মাছ বিক্রেতাদের জেল জরিমানা করতো তাহলে কেউ পচা মাছ ও রঙ দেয়া মাছ বিক্রি করতে পারতো না।

নারায়ণগঞ্জ ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিম জামান জানান, বাজারে মাছ বিক্রেতারা যদি রঙ মিশিয়ে পচা মাছ বিক্রি করে তাহলে তারা ক্রেতার সাথে প্রতারণা করছে। আমরা এ ধরনের মাছ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ