১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, বিকাল ৪:০১

নেতাদের হুকুমে পরিবহনে চাদাঁবাজী!

সংবাদচর্চা রিপোর্টঃ

দেশের সর্বত্র পরিবহন চাদাঁবাজী বন্ধের নির্দেশ থাকলেও নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রতিটি সড়ক-মহা সড়ক ও বাস টার্মিনালে ঠিক আগের মতোই চলছে চাঁদা আদায়। জানা গেছে, আড়াঁলে থেকে নিজেদেরকে বিভিন্ন মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠোনের নেতা দাবি করে ব্যক্তিগত লোক দিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজী করছে চাঁদাবাজরা। অভিযোগ রয়েছে, সাধারন মালিক ও শ্রমিকদের একপ্রকার জিম্মি করেই বর্তমানে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। কেউ চাঁদার টাকা পরিশোধ না করলে তাদের গাড়ি সড়কে চলাচল করতে দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সড়ক থেকে টাকা তুলতে নিষেধ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরির্দশক (আইজিপি)। তারপরেও নারায়ণগঞ্জ জেলার নামধারী কিছু পরিবহন নেতাদের নির্দেশে বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন কৈশলে চলছে চাদাঁবাজী। অভিযোগ রয়েছে, চালক ও মালিকদের একপ্রকার জিম্মি করেই আড়াঁলে চলছে এসব কার্যক্রম। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবহন নেতাদের কঠোর হুশিয়ারি দেয়া হলেও সড়ক ও বাস টার্মিনালে চলমান রয়েছে চাঁদাবাজী । এছাড়াও আইজিপির নির্দেশনাকে সাধুবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষ থেকে দেশের সকল পরিবহন নেতাদের সড়কে চাঁদা আদায় বন্ধে কঠোর হুশিয়ারি দেয়া হয়। তবে প্রশ্ন উঠেছে এতো কঠোর হুশিয়ারির পরও কিভাবে সড়কে চাঁদাবাজী চলমান রয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, শহরের চাষাঢ়া থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচল করা ছোট, বড় সকল পরিবহন থেকে ভিন্ন কৈশলে চলমান রয়েছে চাঁদা আদায়। সরেজমিনে দেখা যায়, চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড রুটে চলাচল করা লেগুনা পরিবহনের প্রতিটি গাড়ি থেকে মিনিবাস মালিক সমিতি ও লাইম্যানদের কথা বলে ১২০ টাকা করে চাঁদা নেয়া হচ্ছে। একই রোডে নামধারি নেতা ভাঙ্গারি নুরুলের নামে প্রতিটি সিএনজি থেকে ৪০ টাকা করে উত্তোলন করছে।
এছাড়াও মালিক সমিতির নামে প্রতিটি টেম্পু থেকে ৩০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। তবে মিনি বাস সার্ভিস থেকে ঠিক আগের মতোই চাঁদা আদায় চলছে। চাষাঢ়া থেকে সোনারগাঁও রুটে চলাচল করা একমাত্র বাধঁন পরিবহন থেকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে (বাস র্টামিনাল থেকে শ্রমিক সংগঠোনের নামে ১৭০ টাকা, চাষাঢ়া থেকে সিটি কপোরেশনের নামে ৫০ টাকা, পানাম স্ট্যান্ড থেকে ১০০ টাকা) মোট ৩২০ টাকা আদায় করা হয়। এছাড়াও চাষাঢ়া থেকে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত চলাচল করা প্রতিটি লেগুনা থেকে মালিক সমিতির নামে ২০০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করা হয়। একই রোড থেকে চিটাগাংরোড পর্যন্ত চলাচল করা প্রতিটি লেগুনা থেকে মালিক সমিতির নামে ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, চাষাঢ়া থেকে মুন্সিগঞ্জ রুটে চলাচল করা প্রতিটি সিএনজি থেকে নিতাইগঞ্জ মোড়ে বিভিন্ন গ্রুপের নামে বিভিন্ন অংকের টাকা আদায় করা হয়। এছাড়াও ঢাকা নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বিভিন্ন স্থানে(চাষাঢ়া সরকারি মহলিা কলেজের সামনে, পঞ্চবটি মোড়ে, পাগলা বাজার এলাকায়) নামধারি কিছু নেতাদের গ্রুপ সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে সময় সুযোগ বুঝে পুলিশের চোঁখ ফাকি দিয়ে চাঁদা আদায় করে চলে যায়। চাঁদা না দেয়ার প্রতিবাদ জানালে চালকদের বিভিন্ন হুমকি এমনকি মারধর করা হয়।
মারধরের শিকার এক ট্রাক চালক বলেন, শহরের নিতাইগঞ্জ থেকে মাল লোড করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক দিয়ে ঢাকার উদ্যেশে যাত্রা শুরু করে। রাস্তায় কোথাও কেউ গাড়ি দাঁড় করায়নি। তবে পাগলা বাজার পার হয়ে কিছু দূর যেতেই ২ জন লোক (মাথায় ক্যাপ পরা ও শরীরে হলুদ জামা পরা) গাড়ি দাঁড় করায়। আমাকে বলে জিপি (চাঁদা) দে। আমি দিতে না চাইলে আমার ডান পাশ দিয়ে উপরে উঠে চাবি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে চাবি চাইতে গেলে আমাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১০০ টাকা চাাঁদা দিয়ে আমার চাবি নিয়ে আসি।

আরও জানা গেছে, সাইনবোর্ড সড়কের প্রতিটি মোড়ে ও চিটাগাংরোড সড়কের প্রতিটি মোড়ে বিভিন্ন কৈশলে চলে চাঁদাবজী। তবে আইজিপির নির্দেশনার পর থেকে এসব স্থানে চাঁদাবাজদের আনাগোনা অনেকটা কমেছে।

সচেতন মহলের মতে, পরিবহন সেক্টরের দিকে প্রশাসনের অতি দ্রুত নজর দেয়া উচিৎ। অন্যথায় এ সমস্যার সমাধান হবে না।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ