আজ শুক্রবার, ১৩ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

না.গঞ্জ-৫ আসনে মহাজোটের মনোনয়নে সেলিম-কাদিরের লড়াই

সংবাদচর্চা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল কাদিরের মধ্যে লড়াই হবে। বর্তমান সাংসদের বিপরীতে তিনিই একমাত্র নির্ভরযোগ্য মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাকে ঘিরেই রয়েছে আওয়ামী লীগের বড় একটি বলয়। আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে অনেক নেতারা তাকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। নৌকা মার্কাকে এ আসনে জয়ের মালা পরাতে তার মতো বলিষ্ঠ নেতার মনোনয়ন পাওয়া জরুরী।
জানা গেছে, ইতোমধ্যেই তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। এবার মনোনয়ন পত্রের মূল্য ছিল ৩০ হাজার টাকা। যা গত বছরের তুলনায় ৫ হাজার টাকা বেশি। মনোনয়ন পত্র কেনার পর এ নেতা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনিই এবার এ আসনে নৌকার মনোনয়ন পাবেন। অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় আমাকে নেতাকর্মীরা বেশি পছন্দ করে। নেতাকর্মীদের সঠিক মূল্যায়ন করাই আমার কাজ।
গত বছর জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়। প্রায় ১৪ বছর পর ৩৬ সদস্য বিশিষ্ট আওয়ামী লীগের এ কমিটি করা হয়। ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি নারায়ণগঞ্জের নেতারা কেন্দ্রে পাঠান। সেখান থেকে যাচাই বাছাইয়ের পর ৩৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। ওই কমিটিতে মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল কাদিরকে সহ সভাপতি পদে পদায়ন করা হয়েছে।
আব্দুল কাদির জানান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে সংসদ সদস্য থাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পদে পদে নেতাকর্মীরা লাঞ্চিত হয়েছেন। তাই এখন থেকে আর লাঙ্গল নয় নৌকা নিয়ে কাজ করতে হবে। এ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী দিতে হবে। এ দাবী সময়ের দাবী। এ দাবী আপামর নেতাকর্মীদের দাবী। আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলার সকল নেতাকর্মীদের পক্ষ হতে আহবান জানাই আমরা নৌকার প্রার্থী চাই।
এদিকে নেতাকর্মীরা জানান, আব্দুল কাদির শহর বন্দরে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডে, পাড়ায়, মহল্লায়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারন মানুষের কাছে ভোট চাইছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ২ শতাধিক উঠান বৈঠক করেছেন। ভোটকে কেন্দ্র করে তিনি প্রতিটি মানুষের দৃষ্টি আর্কষনে গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রচার প্রচারণা চালান। তিনি আওয়ামী লীগের উন্নয়নের বক্তব্য প্রতিটি সমাবেশে দিয়ে আসছেন। তার দাবী, নৌকা মার্কায় ভোট দিলে মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারবে। আর কোন মায়ের আহাজারি শুনতে হবে না। আর কাউকে আগুনে পুড়ে মরতে হবে না। অতীতের শিক্ষা নিয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় সকলকে শরিক হতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ দেশ সোনার বাংলা রূপান্তরিত হচ্ছে।
অন্যদিকে বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ফের জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের জন্য মনোনয়ন ক্রয় করেছেন। তিনি এ আসনের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেয়ার মাধ্যমে গণসংযোগ করছেন। প্রথমে তিনি আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার মনোনয়ন প্রত্যাশী হতে চাইলেও তিনি শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির থেকেই মনোনয়ন পত্র কিনেছেন।
তবে এ আসনে মহাজোটের বহু মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও খেলা হবে সেলিম ওসমান ও আব্দুল কাদিরের মধ্যেই। তাদের ঘিরেই নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে যত জল্পনা কল্পনা।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ