১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, বিকাল ৩:২৬

নামছে শীতলক্ষ্যা – ধলেশ্বরীর পানি

সংবাদচর্চা রিপোর্টঃ

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি গত কয়েক দিন ধরে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে নদী তীরবর্তী মানুষে স্বাভাবিক চলাচল। তলিয়ে যাওয়া রাস্তা-ঘাটও জেগেছে। মানুষজনের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। সরজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার ডিক্রিরচর এলাকায় নদীর পানি নেমে যাওয়া ইট ভাটাগুলো আবারও চালু করার জন্য পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছে শ্রমিকরা। ইট তৈরির কাচামাল সংগ্রহ করে রাখছেন ভাটার মালিকরা।

এ মাসের প্রথম দিক দিয়ে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় বুড়িগঙ্গার পানির চাপে রাস্তা ভেঙে মুহূর্তে একটি একতলা ভবন ধসে গিয়েছিলো। ঘরে থাকা বাসিন্দারা কোনো রকমে জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়। তলিয়ে গিয়েছিলো প্রায় ১৫০টি বাড়ি। অন্যদিকে, শহরের ওপার বন্দর এলাকায় শীতলক্ষ্যার পানিতে নদীর পার্শ্ববর্তী বাজার তলিয়ে গিয়েছিলো। সে সময় সরেজমিনে দেখা গেছে, ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়নের উত্তর নরসিংপুর এলাকার সামসুল আলম মোড় এলাকার রাস্তা ভেঙে ৫০০-৬০০ ঘর-বাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিলো। পরিবার পরিজন নিয়ে নারী-পুরুষ পানিতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করেছে।

এনায়েতনগর ইউনিয়নের তিনটি এলাকার ৪০০-৫০০ বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেকের ঘরে কোমর পানি ছিলো সে সময়। প্রশাসন থেকেও নানা সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো সে সময়।

উত্তর নরসিংপুর এলাকার সবুজ জানান, এ মাসের প্রথম দিকে হঠাৎ করেই পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় ক’দিন পানি বন্দি অবস্থায় ছিলাম। এখন ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করছে।

কাশিপুর ইউনিয়ন ও আলীরটেক ইউনিয়নের ইটের ভাটার বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানান, পানি টান দেবার পর পরই আমরা ইট তৈরীর করার কাচামাল সংগ্রহ করে রাখি। হয়তো আর ১৫দিনের মধ্যেই পুরো পানি নেমে যাবে। এবং আমরাও পুরোদমে কাজ শুরু করবো।

জানা যায়, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ধলেশ্বরী নদীর রেকাবিবাজার স্টেশনে বিপদসীমা ৫.১৮ দাগে (এমপিডব্লিউডি) হলেও এ দিন পানির সমতল স্তর দেখানো হয়েছে ৪.১৮ (এমপিডব্লিউডি) দাগে । অন্যদিকে শীতলক্ষ্যা নদীর নারায়ণগঞ্জ স্টেশনে ৫.৫০ দাগে (এমপিডব্লিউডি) বিপদ সীমা হলেও বতর্মানে পানির সমতল রয়েছে ৪.৭৬ দাগে (এমপিডব্লিউডি)।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ