১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, রাত ৩:৪৩

‘ধর ধর খাইয়া লামু’

সংবাদচর্চা রিপোর্টঃ

ফতুল্লায় মাঝে কিছু দিন বিরতি দিয়ে ফের ভয়ংকর কান্ড ঘটিয়েছে কিশোর গ্যাং। সোমবার রাতে পশ্চিম কায়েমপুর এলাকায় অন্তত ৩০ জনের একটি গ্যাং অতর্কিত হানা করে ত্রাস সৃষ্টি করে। কিরিচ, ছোরা, রাম দা’, বগি, আমাজান, সুইচ গিয়ার হাতে এ কিশোররা ‘ধর-ধর, খাইয়া লামু’ বলে দৌড়ে এলে এলাকা জনশূন্য হয়ে যায়। এ সময়ে একটি মুদি দোকানের মালিককে ছুরিকাঘাত করে নগদ ৯৫ হাজার টাকা লুটে নেয় ও অধলক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করে। স্থানীয়রা জানায়, বুড়ির দোকান এলাকার রগ কাটা আকাশ ও তার গ্যাং এ কান্ড করেছে।

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত রোববারে। ওইদিন সন্ধ্যায় কয়েকজন কিশোরের ঝগড়া থামিয়ে মিলমিশ করে দেয় কায়েমপুর এলাকার কয়েকজন মুরুব্বি। এ ঘটনায় এক পক্ষে আকাশের পালিত গ্যাং সদস্য ছিলো বলে জানা গেছে। এর জের ধরে সোমবার হামলার ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে বুড়িরদোকান এলাকার কিশোর গ্যাং লিডার স্পট আকাশ ও তার বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা কাইমপুর এলাকার এক ভাড়াটে যুবককে বেধড়ক মারধর করে। আশপাশে থাকা লোকজন ও দোকানদার একত্র হয়ে তাদের আটক করে ঘটনার বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চায়। পরে এলাকার মুরব্বীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তারা চলে যায়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে ফের ২৫ থেকে ৩০জন কিশোরগ্যাং সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাতির উদ্যেশে লুটপাট চালায় আকাশ বাহিনী। কায়েমপুর বটতলা এলাকা দিয়ে ঢুকতেই তারা এলাকার প্রতিটি দোকানে এলোপাথাড়ী কোপাতে থাকে। এলাকাবাসি জড়ো হয়ে গেলে একটি দোকানে লুট করে পালিয়ে যায়। ডাকাতিতে বাধা দিলে ছুঁরি দিয়ে আঘাত করা হয় দোকান মালিককে। এতে গুরুত্বর আহত হয় দোকান মালিক ওয়াহিদুর রহমান।

আহত ওয়াহিদুর রহমানের ছোট ভাই রাজিব বলেন, ৩০ জনের মতো সন্ত্রাসী বিভিন্ন দেশীও অস্ত্র নিয়ে আশপাশের প্রতিটি দোকানে ভাংচুড় করছিলো। এমন দৃশ্য দেখার সাথে সাথে আমার ভাই দোকান বন্ধ করে দেয়। এমতাবস্থায় বন্ধ দোকানের উপরে ভাংচুড় শুরু করে তারা। পরে দোকানের শাটার উঠিয়ে ক্যাশ বাক্সে থাকা ৯৫ হাজার নগদ টাকা ও প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। আমার ভাই লুটপাটে বাধাঁ দেওয়ায় ৫ থেকে ৬ জন ছুঁড়ি দিয়ে আঘাত শুরু করে। পরে আমার ভাইয়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন আসতে দেখে পালিয়ে যায় ডাকাত বাহিনী। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন রাজিব।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার এসআই শরিফুল বলেন, আমরা পুলিশের জরুরি (১১১) নাম্বারে কল পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। তবে কাউকে পাইনি। পরে এলাকাবাসির কাছে জানতে পেরেছি কিছু কিশোর এখানে মারামারি করেছে। বিষয়টি আমরা দেখেছি ও আহত ব্যক্তির সাথে কথা বলেছি।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, কেউ যদি অপরাধ করে থাকে সে যেই হোক আমরা ব্যবস্থা নেবো। ঘটনাস্থলে আমরা গিয়েছিলাম। বিষয়টির তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয়রা জানান, বুড়িরদোকান এলাকার কিশোর গ্যাং লিডার স্পট আকাশ ওরফে রগ কাটা আকাশ ও তার বাহিনীর স¤্রাট, ফেরদৌস, হৃদয় ও শান্ত’র নেতৃত্বে দোকানটিতে ডাকাতি করা হয়।

উল্লেখ্য, ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাৎ বেড়েছে। মাঝে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে যাওয়ায় কিছু দিন থেমে ছিলো কিশোর গ্যাং সদস্যরা। একাধিক কিশোর গ্যাংকে পাকড়াওয়ের ঘটনাও ঘটেছে। তবে কিশোর গ্যাংয়ের কাছে থাকা অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এ কারনে সুযোগ পেলেই অপকর্ম করে ওরা।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ

আজকের ছবি

Recent tabs widget still need to be configured! Add tabs, add a title, and select type for each tab in widgets area.