১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, বিকাল ৪:২০

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্খিত ঘটনা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

নারায়ণগঞ্জে হটাৎ করেই আলোচনায় এসেছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার। মাঝে মাঝে বিষয়গুলো সংবাদ পত্রের পাতায় এলেও তা নিয়ে তেমন সরগরম হতে দেখা যায় না স্থানীয় প্রশাসনকে। অনেকেই ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে চালিয়ে দেন। কিন্তু অল্পদিনের মাঝেই মসজিদ, মন্দিরে আগুন ও প্রতিমা ভাঙ্গার ঘটনা ভাবিয়ে তুলছে অনেককেই। কেউ বলছেন বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন। অন্যথায় এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটনাগুলো ভিন্ন পথে প্রবাহিত করতে পারে কুচক্রী মহল।

গত ২ জুলাই নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি কালী মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া যায়। উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের উচিৎপুরা বিজয়নগর এলাকায় শ্মশান কালী মন্দিরে এ ঘটনাটি ঘটে। শ্মশান কালী মন্দিরের পূজারী সাধনা রানী বর্মণ ও তত্ত্বাবধায়ক সুখেন্দ্র কর জানান, এদিন সকাল ৮টার দিকে মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে দেখনে মন্দিরের লোহার গেইট ও দুটি দরজা খোলা এবং কালী ও মহাদেব প্রতিমায় আগুন জ্বলছে। আগুন দেখে তারা ডাক চিৎকার শুরু করে এবং পার্শ্ববর্তী জলাশয় থেকে জল এনে প্রতিমার আগুন নেভাতে সক্ষম হন। মন্দিরে মহাদেব প্রতিমার বাম হাতটি ভেঙ্গে প্রতিমা থেকে বিচ্ছিন্ন করা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং রূপার মুকুটসহ প্রায় আধা কেজি রূপার অলংকারসহ মন্দিরের মালামাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক ও উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি হারাধন চন্দ্র দেসহ উপজেলার হিন্দু নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে যান। তারা এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানান। মন্দিরের প্রতিমায় অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু জনগোষ্ঠীর মাঝেও দীর্ঘদিন আতংক বিরাজ করছিলো।

এদিকে ২২ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি মসজিদে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে মসজিদের একটি বই রাখার তাক ও কয়েকটি বই পুড়ে গেছে। শহরের ১৮নং ওয়ার্ডের শহীদনগর বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদ নামে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় ওই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মসজিদের দ্বিতীয় তলায় ধোঁয়া দেখতে পেয়ে আশেপাশের মানুষ ছুটে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বইয়ের সেলফ ও ২০ থেকে ৩০টি কোরআন শরীফ পুড়ে যায়। স্থানীয় কাউন্সিলর গিয়ে নিশ্চিত করে সেখানে বৈদ্যুতিক শট সার্কিট কিংবা আগুন লাগার মতো কিছু নেই। তার ধারণা নামাজ পড়ার অজুহাতে লুকিয়ে দ্বিতীয় তলায় উঠে যায়। পরে এই নাশকতামূলক ভাবে এই আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অবশ্যই উদ্বেগ জনক। তার চাইতেও বড় বিষয় হচ্ছে এসকল ঘটনা ঘটিয়ে অন্য কোন ফায়দা হাসিল করে নেয় কেউ কেউ। মানুষকে ধর্মীয় উস্কানী দিয়ে বিভ্রান্ত করে তাদের বিক্ষুব্ধ করে ফেলার ঘটনা নতুন নয়। সুতরাং বিষয়গুলো আমলে নিয়ে প্রশাসনের তদন্ত করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসকল ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটন করে মানুষের সম্মুখে আনা প্রয়োজন। অন্যথায় বিভিন্ন গোষ্টি ঘটনাগুলোকে নিজেদের মত ব্যাখ্যা করে বিষয়টি উস্কে দিতে পারে। এতে করে সমাজে ছড়িয়ে পড়বে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। এধরনের ঘটনা চলতে না দিয়ে গুরুত্ব সহকারে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। একই সাথে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে কারা এ ধরনের কাজে যুক্ত হচ্ছে তাদের শনাক্ত করা জরুরী।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ