আজ বুধবার, ১১ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

‘ড্যাম কেয়ার’ বাস মালিকেরা

স্টাফ রিপোর্টার :

নারায়ণগঞ্জে রুট পারমিটহীন গণপরিবহন (বাস) চলাচলের আটক ও সরাসরি ডাম্পিং এ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও বিআরটিএ জেলা সভাপতি মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। ঘোষণার পর জেলা বাস মালিক সমিতি আবেদনের জন্য সময় চাইলে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয় জেলা প্রশাসন।
কথা ছিল, আবেদনের স্বাপেক্ষে ২ মাসের অস্থায়ী পারমিট দিবে বিআরটিএ। পরে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করে রুট পারমিট দেয়া হবে। কিন্তু নির্ধারতি সময়ে আবেদন জমা দেয়নি বাস মালিকরা। উৎসব ট্রান্সপোর্টের মাত্র ২টি বাসের রুট পারমিটের জন্য আবেদন পেয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিআরটিএ সহকারী পরিচালক।
বিআরটিএ তথ্যমতে, জেলায় চলাচলকারী দুই শতাধিক গণপরিবহনের (বাস) রুট পারমিট নেই। এর মধ্যে সিটি বন্ধন বাসের ৩৫টি, উৎসব ট্রান্সপোর্ট ৪০টি, বাঁধন বাসের ২২টি, বন্ধু পরিবহনের ৮টি এবং প্রায় অর্ধশতাধিক মৌমিতা বাস রয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ বাসরে ফিটনেস নেই। ফলে সড়ক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
শহরের যানজট নিরসনে লক্ষ্যে গত ৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে উদ্যোগে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে ‘রুট পারমিটহীন কোনো গাড়ি চলবে না’ বলে ঘোষণা দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও বিআরটিএ জেলা সভাপতি মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। ওইদিন তিনি বলেন, রবিবার থেকে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করবে। রুট পারমিটহীন গাড়ি আটক এবং সরাসরি ডাম্পিং এ দেয়া হবে।
জেলা প্রশাসকের এমন ঘোষণার পর রবিবার সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটি বাস চলাচলে বন্ধ রাখে বাস মালিক সমিতি। পরবর্তীতে রুট পারমিট দেয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসকের আশ^াস্থ পেয়ে দুপুরে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
পরদিন সোমবার এ বিষয়ে জেলা বাস মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক করেন জেলা প্রশাসক ও বিআরটিএ।
বৈঠকে হওয়া আলোচনা অনুযায়ী, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পারমিটহীন গাড়িগুলোতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ জেলা বিআরটিএ কার্যালয়ে রুট পারমিটের জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের ২ মাস চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী অনুমতি দিবে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ওই সময়ের মধ্যে তাদের রুট পারমিট দেয়া হবে। এবং যেগুলো পারমিট পাবে না, তাদের বাতিল ঘোষণা করা হবে।
একই রুট পারমিট ব্যবহার করে একাধিক বাস চলাচলের রোধের লক্ষ্যে কিউআর কোড সংযুক্ত স্টিকার লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যাতে কোড স্ক্যান করে রুট পারমিটসহ বাসের সকল তথ্য সহজের পাওয়া যায়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও বিআরটি এর জেলা সভাপতি মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, ‘রুট পারমিট ছাড়া কোন গাড়ি সড়কে চলতে পারবে না। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। রুট পারমিট ছাড়া গাড়ি পাওয়া গেলে সেসব ডাম্পিং এ দেওয়া হবে। একইসাথে জেল-জরিমানাও করা হবে।’
তিনি বলেন, যেসব বাসের রুট পারমিট আছে তাদের ‘কিউআর কোড’ সম্বলিত স্টিকার প্রদান করা হবে। প্রতিটি বাসেই তা লাগানো থাকবে যাতে বাস সম্পর্কে সবধরনের তথ্য সহজেই ‘কিউআর কোড স্ক্যান’ করেই জানা যেতে পারে। আর যেসব বাসের রুট পারমিট নেই তারা সকলে কাগজপত্র জমা দিবেন পারমিটের জন্য আবেদন করবেন। সকলকে দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছে। আবেদন সাপেক্ষে ওই গাড়ির বিপরীতে কার্ড দেওয়া হবে যার মাধ্যমে অন্তবর্তীকালীন সময়ে তারা সড়কে বাসগুলো চালাতে পারেন। কিন্তু রুট পারমিট নেই এবং প্রক্রিয়ার মধ্যেই আসবেন না তাদের কোন ছাড় দেওয়া হবে না।’
এদিকে জেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত আবেদনের সময় শনিবার শেষ হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবিবার থেকে রুট পারমিটহীন বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা থাকলেও তা দেখা যায়নি। অন্যদিকে জানা যায়, রুট পারমিট প্রাপ্তির বিষয়ে আবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেছে বাস মালিকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ জেলা সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী শামসুল কবির দৈনিক সংবাদচর্চাকে বলেন, বাস মালিকদের সঙ্গে হওয়া বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো এখনো রেজুলেশন আকারে অনুমোদন হয়নি। তাই এ বিষয়ে আমি ঠিক করে বলতে পারছি না।
নির্ধারিত সময়ে উৎসব পরিবহনের মাত্র ২টি আবেদন পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বাস মালিকরা আবার এসেছিলেন। আবেদনের জন্য আরও সময় চেয়েছেন তারা।
অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজ জেলা প্রসাশকের কার্যালয়ে মাসিক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সভা ছিল। সেখানে আমাদের সকলকে উপস্থিত থাকতে হয়। তাই আজ অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক দৈনিক সংবাদচর্চাকে বলেন, বাস মালিকদের আবেদনের জন্য ২ মাস সময় দেয়া হয়েছে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ