১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ভোর ৫:৩৯

ঠাঁই মেলেনি আজিজ-রাফেলের

বিশেষ প্রতিবেদক:

শাহরিয়া রেজা হিমেল। কোটিপতি বাবার বিলাসী সন্তান। কিছুদিন পরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ির ছবি দিতে দেখা যায় তাকে। হুট করেই রাজনীতিতে এসেছেন তিনি। মাঠ পর্যায়ে কোন ত্যাগ তীতিক্ষা না থাকলেও উপর মহলকে খুশি করে জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ সভাপতির পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে শোনা যায়।

সূত্র জানায়, টাকা আছে বলেই যেকোন মিছিল-মিটিংয়ে তার পেছনে সবচেয়ে বেশি নেতাকর্মী লক্ষ্য করা যায়। সাংসদ শামীম ওসমান কোন মিটিংয়ের ডাক দিলেই হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে যায় হিমেলের মিছিলে। কারণ অঢেল সম্পত্তি থেকে খানিক অংশ মিছিলে আসা ওইসকল কর্মীদের পেছনে খরচ করেন তিনি। কিছুদিন পূর্বে নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়েছেন হিমেল।

যার সংখ্যা গুনে শেষ করা সম্ভব নয়। ফতুল্লার স্টোডিয়াম এলাকা থেকে শুরু করে শিবু মার্কেট, পূর্ব সস্তাপুর, পশ্চিম সস্তাপুর, দক্ষিণ সস্তাপুর, কায়েমপুর, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দু’পাশ, চাষাঢ়া, নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশসহ অসংখ্য স্থানে নিজের বিশাল আকৃতির ছবি সম্বলিত ব্যানার লাগানো হয়েছে। যাতে সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কোন ছবি নেই। আর এ নিয়ে ফুসে উঠেছে জেলা ছাত্রলীগের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী জানান, সাংসদ শামীম ওসমানপুত্র অয়ন ওসমান ছাত্রলীগের প্রাণ। কিন্তু জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ঈসমাইল রাফেলও এই সংগঠনের অভিভাবক। এটা ভুলে গেলে চলবে না। টাকা আছে বলেই যা ইচ্ছে তাই করা যাবে না। সবকিছুর নীতিমালা আছে। সেই নিয়মানুযায়ী আমাদের সবাইকে চলতে হয়।

তারা আরও জানান, নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় শতশত ব্যানার লাগানো হয়েছে। তাতে সংগঠনের সভাপতি-সেক্রেটারির ছবি রাখলে তো আর সম্মান কমে যেতো না। তৃণমূল পর্যায় থেকে রাজনীতি করলে সে এটা করতে পারতো না। হুট করে রাজনীতিতে আসা নেতাদের এমন ব্যবহার স্বাভাবিক।

জানা গেছে, হিমেল জেলা ছাত্রলীগের পদধারী নেতা হলেও মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদের সমর্থক। মাঝে মধ্যে ফেসবুকে তাকে নিয়ে ছবি আপলোড করতে দেখা যায় হিমেলকে।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মতে, প্রত্যেকটি সংগঠনেরই নিয়ম-কানুন রয়েছে। কোন নেতা বা কর্মী যদি তার সংগঠনের অভিভাবককে ভুলে যায় তাহলে সে নেতা হওয়ার কোন যোগ্যতা রাখে না। শাহরিয়া রেজা হিমেলের ক্ষেত্রে এটি একটি দাম্ভিকতা বলাচলে। ব্যানারে ছোট-আকারে হলেও কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে তার রাখা উচিৎ ছিলো।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরপরই স্থানীয় এক নেতার হাত ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয় হিমেল। যদিও এর আগে তাকে ব্যবসায়ী বলেই এলাকাবাসী চিনতো। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যোগ দেয়ার পরপরই সাংসদ শামীম ওসমান পুত্র অয়ন ওসমান সহ ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে সে। ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে নিজেকে ক্লিন ইমাজধারী প্রমাণ করার চেষ্টায় থাকা হিমেলের নামে রয়েছে মাদক সেবনের অভিযোগ। কিছুদিন পূর্বে ফেসবুকের কল্যানে হিমেলের মাদক সেবনের একটি ছবিও পাওয়া গেছে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ