আজ বৃহস্পতিবার, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নারায়ণগঞ্জে জোট মহাজোটের কার খুটির কত জোর?

জোট মহাজোটের

জোট মহাজোটের

সংবাদচর্চা রিপোর্ট:  বাংলাদেশ বহুদলীয় গণতান্ত্রিক দেশ। স্বাধীনতার পরবতী সময়ে সামরিক শাসকরা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে ,দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকার জন্য নিজেরা দল গঠন করছে। কেউ কেউ বন্দুকের নলের মুখে দল গঠন করছে বলে এমনো অভিযোগ রয়েছে।

কথায় কথায় দল ভাংগা গড়ার লড়াইয়ে মেতে উঠছে কিছু দলের নেতারা। নির্বাচন আসলে আমাদের দেশের ছোট দলগুলোর কদর বাড়ে। নির্বাচন চলে গেলে বড় দলগুলোর কোন খবর থাকে না।
বাংলাদেশে বর্তমানে শতাধিক দল রয়েছে। নিবন্ধন আছে ৩৮টি দলের বাকি সব নিবন্ধনহীন। আ.লীগ,বিএনপি,জাতীয় পাটি ও কিছু বামদল ব্যতীত অন্য দলগুলোর সারা দেশে অফিসতো দূরের কথা জনসমর্থনও নেই। কাগজে কলমে লিপিবদ্ধ।
৯০ এর দশকে বাংলাদেশে জোট গড়ার রাজনীতি শুরু হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে দুটি বড় জোট রয়েছে। একটি আ.লীগ নেতৃত্বধীন মহাজোট অপরটি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট । এছাড়া রব,কাদের সিদ্দিক,বি-চৌধুরীর নেতৃত্বে তৃতীয় জোট গঠনের আলোচনা চলছে,কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ঢাকার অতিনিকটবর্তী জেলা নারায়নগঞ্জ। নারায়গঞ্জে মোট ৫টি আসন রয়েছে। গত জাতীয় নির্বাচনে আ.লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয় সে নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল অংশ নেয়নি।নারায়গঞ্জে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের চেয়ে আ.লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।নারায়নগঞ্জ জেলা ও মহানগর আ.লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রকাশ্যে মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পাটির দুই সাংসদের বিরোধীতা করছে। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পাটিকে এ আসন দুটি ছাড় দিতে নারাজ।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বিএনপি ব্যতীত অন্যদলের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। তবে সামন্য কিছু জামায়াতের সমর্থন রয়েছে। যা নিষ্ক্রীয়। জোট মহাজোটের শরিক দলের চেয়ে শক্তি শালী অবস্থানে রয়েছে প্রগতিশীল বামজোট। বামজোটের সক্রিয় কর্মকান্ড চোখে পড়ার মত। শিল্প অঞ্চল হওয়ায় এখানে বাসদ,সিপিবির জনসমর্থন রয়েছে।
আগামী নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নিলে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়তে হবে। বিএনপি ছাড়া ২০ দলের শরিকদের এখানে কোন বড় ধরণের নেতা নেই। তবুও যারা আছে তারা আগামী নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হতে চায়। ২০ দলের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সহ সারা দেশে ভাংনের লক্ষণ দেখা দিয়েছে।বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে এখানে ২০ দলের অন্যতম শরিক জামায়াত সহ অন্যরা কেউ মাঠে নামে নি।

নারায়গঞ্জে আ.লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পাটির ২ টি আসন দখলে রয়েছে। নারায়গঞ্জ ৩ আসনে লিয়াকত হোসেন খোকা,নারায়গঞ্জ ৫ আসনে সেলিম ওসমান। দু জনই প্রভাবশালী।মহাজোটের শরিক দল গুলোর মধ্যে আ.লীগ ,জাতীয় পাটি,সহ বাম দলগুলোর সক্রিয় কার্যক্রম রয়েছে। প্রায় প্রতি দলের অফিস রয়েছে।

আ.লীগ ব্যতিত জাতীয় পাটিসহ সব দলের অফিস তালা বদ্ধ থাকে। মহাজোটের নেতাদের মধ্যে কোন্দলে জর্জড়িত।
আ.লীগের বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। জোটগত কারণে জাতীয় পাটিকে গত নির্বাচনে ২টি আসন ছাড়ে দেন। ইতোমধ্যে দু দলের কেন্দ্রীয় নেতারা পাল্টাপাল্টি প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায় যে জাপার চেয়ে আ.লীগের প্রার্থীরা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। কেউ কেউ বলছে আ.লীগকে ছাড়া জাপার লড়ার ক্ষমতা নেই।তবে নারায়গঞ্জের ৫টি আসনেই মহাজোটের শরিকদল গুলোর ছড়িয়ে ছিটিয়ে ভোট রয়েছে। যা ২০ দলের চেয়ে বেশি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা উপজেলা মহানগর পর্যায়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের বিএনপি ছাড়া বাকী দলগুলোর অফিসিয়াল কার্যক্রম নেই।
আ.লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের আ.লীগ, জাতীয় পাটি,জাসদ,ওয়াকার্সপাটিসহ বেশ কিছু দলের কার্যক্রম চোখে পড়ার মত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছে, আগামী নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের চেয়ে মহাজোট চালকের আসনে থাকবে। মূল লড়াই হবে আ.লীগ বিএনপির।

 

 

সর্বশেষ সংবাদ