১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, রাত ৮:৪৪

জলে বাস করে ৪ চেয়ারম্যান

বিশেষ প্রতিবেদকঃ
তারা চারজনই প্রতিষ্ঠিত, ভালো আয় রয়েছে। বলা চলে কোটিপতি। কারও কারও সম্পদ এত বেশী যে কেউ জানলে বিষ্মিত হবে। ৪ জনেরই বাস অট্টালিকায়। অনেকে প্রশ্ন করেন, কেমন করে তারা কোটিপতি হলো। জবাবে চটপট উত্তর দেয় স্থানীয়রা। তবে অঢেল সম্পদের মালিক আর জনপ্রতিনিধি হলেও এই চার চেয়ারম্যানকে জলে বাস করতে হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হলেও শওকত আলীর বাস করেন ফতুল্লার লালপুরে। বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের বাসও একই এলাকায়। শওকত আলী আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন আর দেলোয়ার রয়েছেন জাতীয় পার্টির ছায়াতলে। তবে স্থানীয়রা জানান, দু’জনই প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠজন এবং নিজেরাও বেশ প্রভাবশালী। এই দুই জনপ্রতিনিধি যেখানে বাস করেন সেই লালপুরের সড়কে বছর জুড়ে পানি থাকে।

মানুষজনকে হাটু পানি কোথাও কোথাও কোমর পানি ভেঙ্গে চলাচল করতে হয়। টিনশেড, ঘর এমনকি অনেক বহুতল ভবনের নীচতলায় পানি থাকায় বিপাকে পরেছে সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসী জানান, বর্ষাকাল ছাড়াও শুষ্ক মৌসুমে এ সড়কে পানি থাকে। এ জন্য আশপাশের কয়েকটি ডাইয়িং কারখানা দায়ী। তারা তাদের ইচ্ছে মতো ক্যামিকেলযুক্ত পানি ছেড়ে সড়ক ভাসিয়ে দেয়। পানি বিড়ম্বনায় রয়েছেন দুই চেয়ারম্যান দেলোয়ার ও শওকত। তবে তাদের গাড়ি থাকায় আমজনতার মতো খুব বেশী কষ্ট করতে হয় না।

লালপুরের অবস্থান ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদে। ফতুল্লার চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন নিজের পৈত্রিক সম্পত্তিতে নিজের বাড়িতে বাস করেন। পানি সড়কে যাওয়ার আগেই তার বাড়ি থাকায় তাকে লালপুরের পানি স্পর্শ করতে পারেনি। তবে এর দায় তিনি এড়াতে পারেন না বলে মনে করেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, এতদিন ধরে সড়কে পানি সমস্যা থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতা ও চেয়ারম্যান স্বপন কার্যকর কোন ব্যবস্থাই নিতে পারেননি। কেউ কেউ বলছেন, ডাইয়িং কারখানাগুলোর ট্রেড লাইসেন্সে তিনি স্বাক্ষর করেন। যারা মানুষকে বিড়ম্বনা দেয় তাদের ট্রেড লাইসেন্স দেয়া কতটা যুক্তিযুক্ত সেই প্রশ্নও উঠেছে।

এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভবন রাস্তা থেকে নীচু। এতে করে একটানা বৃষ্টিতে ইউনিয়ন আঙ্গিনায় পানি জমে যেতে খুব বেশী সময় লাগে না। এতে সেবা নিতে আসা লোকজন যেমন বিপাকে পরেন তেমনি জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন কর্মীরাও বাদ যান না। সূত্র মতে, এ ইউনিয়নের বেশ আয় রয়েছে।

এনায়েতনগরের আওতায় বিসিক শিল্পনগরীসহ অসংখ্যা গার্মেন্ট, ডাইয়িং, কল কারখানা রয়েছে। শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স খাতে বছরে কয়েক কোটি টাকা আয়ের কথা। তবে সে তুলনায় ইউনিয়নের কাজ হয় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সাবেক এক মেম্বার জানান, ‘সব বিবিধ খাতা খাইয়া ফালায়’! চেয়ারম্যান, মেম্বার, ইউনিয়ন সচিব মিলেই সব করে। উল্লেখ্য, এনায়েতনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান ধর্মগঞ্জের আদি বাসিন্দা হলেও পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ