১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ভোর ৫:২৪

চাষাঢ়ায় রাতে ভয়ংকর চুরি

সংবাদচর্চা রির্পোট:

শহরে গভীর রাতের পণ্য চুরি এখনও বন্ধ হয়নি। আগের মতোই প্রতি রাতে চলন্ত গাড়িতে উঠে চুরি করে একটি চিহ্নিত চক্র। সেসব পণ্য নির্দিষ্ট কিছু রেস্টুরেন্টে বিক্রি করা হয়। এ কাজে জড়িতদের অধিকাংশ কিশোর বয়সের। তারা ডান্ডি নামক মাদক সেবনে জড়িত।

তখন গভীর রাত। মাঝে মধ্যে গাড়ির হেডলাইট জ্বলে উঠলেও চারদিক অন্ধকার। সড়কে মানুষজনতো নেইই যানবাহনও খুব কম। তবে ওই অন্ধকার রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে দল বেধে বসে থাকে ভয়ঙ্কর কয়েকজন। ওদের টার্গেট মালবাহী গাড়ি। বাগে পেলেই ক্ষিপ্র গতিতে চলন্ত গাড়ি থেকে চুরি করে মুরগি, মাছ,সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য। কেউ দেখে ফেললেও সাহস করে গাড়ি থামিয়ে মাল উদ্ধার করতে চায় না ভয়ে। এদের কাছে ধারলো ব্লেড-চাক থাকে। অনেক দিন ধরে শহরের নতুন কোট, চানমারি, রাইফেল ক্লাব মোড়ে এমন ঘটনা ঘটলেও তেমন ব্যবস্থা নিতে শোনা যায়নি।

সূত্র মতে, ১০ জনের বেশী একটি ছিনতাই বাহিনী রয়েছে নারায়ণগঞ্জ শহরে। এই বাহিনীর প্রধান বাবু নামের একজন। বাবু এর আগে শহর যুবলীগের এক শীর্ষ নেতার অফিসে পিয়নের কাজ করতো বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাষাঢ়ার আশপাশে ভাগে ভাগে অবস্থান নেয় ওরা। গাড়ি দেখেই দৌড় দেয়। গাড়িতে উঠতে পারলে গাড়ির মধ্যে ড্রামে থাকা মাছ নিয়ে পরনের গেঞ্জির ভিতরে নেয়। এরপর লাফ দিয়ে নেমে দৌড়ে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে।

স্থানীয় ও যানবাহন চালকদের দাবি, সদর ও ফতুল্লা থানা পুলিশের সীমানা অংশ চাষাঢ়া এলাকা। তাই এখানে টহল পুলিশ সদস্যরা তেমনভাবে অবস্থান নেয় না। এ সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছে বাবু বাহিনী।

বাবু ও তার বাহিনীকে চেনেন এমন কয়েকজন জানান, ওরা খুব ভয়ঙ্কর। ওদের কাজে বাধা দিলে ওরা ১০/১৫ জনের দল চাকু-ব্লেড দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। ওরা অনেক দিন ধরে চাষাঢ়া ছিনতাই চক্র নিয়ন্ত্রন করে।

চাষাঢ়া এলকার কয়েকজন দোকানী জানায়, ছিনতাই বাহিনীর অনেকে দিনে টোকাই সেজে থাকে। ডেন্ডি মাদক সেবন করে আর রাতে এরা চুরি, ছিনতাই করে। সূত্র মতে, চুরি করা মাছ, মুুরগিসহ অন্যান্য মালামাল চাষাঢ়া-গলাচিপাসহ বিভিন্ন খাবার হোটেলে বিক্রি করে। হোটেল মালিকরা তা কম দামে পেয়ে লুফে নেয়। ছিনতাই করা মাল বিক্রির পর অর্ধেক পায় বাবু বাকী অর্ধেক যারা ছিনতাই করেছে তারা। সূত্র আরও জানায়, এক সময়ে সাজনুর অফিসের পিয়ন বাবুর আড্ডা এখন শহরের ভাঙ্গারী দোকানগুলোতে। চাঁনমারি ও গলাচিপা এলাকার ভাঙ্গারী দোকানে বসে চোর ও ছিনতাইকারীদের কমান্ড করে বাবু।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ