১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, সকাল ১১:৩২

চনপাড়াবাসী বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া আমানত: পাপ্পা গাজী


নবকুমার:
গাজী গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা বিসিবির পরিচালক গাজী গোলাম মর্তুজা পাপ্পা বলেছেন, খবরদার আমার চনপাড়াবাসী সম্পর্কে একটা বাজে কথা বলবেন না। এরা বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া আমানত। চনপাড়ায় আজ পর্যন্ত কোনোদিন নৌকা ফেল করে নাই। ভুলে যাবেন না বঙ্গবন্ধু চনপাড়াবাসীকে পুনর্বাসন করেছেন। আমরা আদর করে তাদেরকে শেখ রাসেলন ইউনিয়ন বলি। কায়েতপাড়ায়ও নৌকা ফেল করে নাই। যখন আপনে নির্বাচন করলেন তখন নৌকা ফেল করা শুরু হয়।
কায়েতপাড়াবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা নাকি চনপাড়াবাসীকে নিয়ে নির্বাচন করব। একজন বিশেষ দালাল আছে নাওড়ায় বসে থাকে। শুনতে পাইলাম উনি বলেছেন গাজী সাহেব তার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পারলে উনি নাকি এলাকা ছেড়ে দেবে। এর আগে উনি দুইবার আন্ডা পেয়েছেন। গতবার কে উনিকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীয়তা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী করেছিলো। উনি কি ভুলে গিয়েছেন। যদি মানুষ হয়ে থাকেন সত্য কথা বলতে শেখেন। এখানে রক্ষক হয়েছে ভক্ষক। আপনি শপথের বরখেলাপ করেছেন। কাকে বড় বড় বক্তব্য শোনান। বক্তব্য যদি দিতে হয় মাঠে আসেন। নাওড়াবাসী আপনার চাকরি করে না। শুক্রবারে আপনার কাছে না গেলে ফোন করে হুমকি দেন, মামলা -হামলা করান। মনে রাখবেন এটা মার্চ মাস। মার্চ মাসে আরেকটা জিনিস আসে তার নাম কাল বৈশাখী ঝড়। কালবৈশাখী ঝড়ের মতো উড়িয়া যাইবেন। আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমি সামনে আগাতে জানি পিছাতে শিখি নাই।
তিনি বলেন, যত বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তিই হন আপনি। হিটলারের জীবনী পড়েন। বড় বড় কথা বলেছে শেষ পযন্ত এক ঘরে এক রাতেই চলে যেতে হয়েছে । আজকে আপনারা বলছেন আপনাদের জনপ্রিয়তা আছে তাহলে দুইবার আন্ডা মারলেন কেনো? আমি আপনার বিরুদ্ধে নয়। আপনার কমকান্ডে বিরুদ্ধে। আপনি এলাকাবাসীর কাছে যান তাদের কাছে ক্ষমা চান যদি তারা ক্ষমা করে দেয় তাহলে আল্লাহ আপনাকে মাফ করে দেবেন।
গতকাল কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ইছাখালি বালুর মাঠে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা তিনি এসব কথা বলেন।
গাজী গোলাম মর্তুজা পাপ্পা বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। তিনি সমগ্র বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালির না। উনি সারা বিশ্বের নেতা। ৭ মার্চের ভাষণকে অস্বীকার করা মানে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্ববাসির একটি সম্পদ। পরাধীন জাতির মুক্তির একটি ঐতিহাসিক বার্তা। যেখানেই অন্যায় অবিচার ছিলো সেখানেই বঙ্গবন্ধু প্রতিবাদ করেছেন।
তিনি বলেন, একজন মানুষ নির্বাচন করতে চাইতেই পারে। নির্বাচন করতে কিছু জিনিস দরকার হয়, সিভি লাগে, চারিত্রিক যোগ্যতা থাকতে হয়। আপনারা যারা চেয়ারম্যান হতে চান আগে বলেন কবে থেকে আওয়ামী লীগ করেন? বায়োডাটা দেন। কি শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে আপনাদের ? কয়টা সংসার বানায়ছিলেন? কতজনকে জেলখাটায়ছেন ? আমরা বায়োডাটা দেখি , তারপর আমি আমার জনগণের কাছে অনুরোধ করব তারা থানা ,জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে সুপারিস করবে।
তিনি বলেন, চেয়ারম্যান হয়ে আপনে কি করেছেন ? ফারুকের ওখানে ব্রিজ করতে পারে নাই, গাজী সাহেব নিজের পকেটের টাকা দিয়ে সাকু করে দিয়েছে। গাজী সেতু হয়েছে। পুলিশ ,সেনাবাহিনী এখানে হাউজিং করতে ন্যায্য মূল্য দিতে চায় । আপনি কেনো সবকিছু পকেটে ভরতে চান? আমরা উন্নয়নের পক্ষে। কায়েতপাড়ার মানুষের পক্ষে। আমরা স্বাধীনতার পক্ষে । আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষে। যাকে তাকে সে মামলা হামলা করেছে। তাদের গুন্ডারা মানুষকে থ্রেড করছে। এমন অবস্থা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে । মসজিদ ,কবরস্থান ,রাস্তা -ঘাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এগুলো হতে দেওয়া যাবে না।
কায়েতপাড়াবাসীর উদ্দেশে পাপ্পা গাজী বলেন, আমি আপনাদের কাছে এসেছি। জায়েদ আলী সাহেব দীর্ঘদিন যাবত কায়েতপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আমাদের সাইফুল চাচা বলেছেন উনাকে ১৯৮৯ সালে নৌকা নিয়ে দৌড়াইতে দেখেছেন। আপনি কোথায় ছিলেন তখন? আপনার পরিবারের সদস্য কোথায় ছিলো সেই সময়? কাপড় বদলালে কিন্তু দল বদলানো হয়ে যায় না। জন্মের পর থেকে আমি ,আমার পরিবার আওয়ামী লীগ করি। এখানে আছেন তারাও আওয়ামী লীগ করে। আমাদের পরিশ্রমে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর আপনারা আসছেন দলটাকে শোষণ করতে। করেছেন মুজিব আদর্শের সৈনিকদের নির্যাতন । আমার বাবা ( পাপ্পার) এমপি হওয়ার আগে চনপাড়াবাসী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারে নাই। আপনারা এই জন্মভূমিতে পরাধীন ছিলেন। তারা এখন আসে। তাদের এই চনপাড়া নিয়েই মাথা ব্যাথা। কায়েতপাড়া নিয়েও তাদের মাথা ব্যাথা হয়। তারা এখন মাথা চুলকায়।
তিনি বলেন, আপনারা যারাই চেয়ারম্যান হতে চান। নৌকা প্রতীক চান । এই জায়েত আলী সাহেবের পায়ের সমান যোগ্যতা নিয়ে আইসা মনোনয়ন চাইবেন। আমরা আপনাদের সুপারিস করব। তার আগে করব না।
পাপ্পা গাজী বলেন, আমরা বাবা গোলাম দস্তগীর গাজী সাহেব বাংলাদেশের একজন মন্ত্রী হওয়ার পরও উনি প্রতি বৃহস্পতি,শুক্র,শনিবার এলাকার জনগণের সাথে থাকে। উনি আপনাদের কাছে ঋণী। জনগণের জন্য আমরা উন্নয়ন করে যাচ্ছি। আমরা উন্নয়ন করলাম আর আপনে জবরদখল করবেন তা চলবে না।
আমরা যদি সার্ভিস দেই, আমরা যদি ঋণী থাকি, আমি শেষ পযন্ত আপনাদের সাথে আছি। যারা ভয়ে বসে আছেন তারা ভয় পাবেন না। বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণে আমাদের পরিচয়টা দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন আমি মানুষ। আমি মুসলমান,আমি বাঙালি । আমি একবার মরি , দুইবার না। বঙ্গবন্ধুর সেই বানী সবাই পড়বেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা যদি সবাই এক থাকি পৃথিবীর কোনো শক্তি আমাদেরকে দমন করতে পারবে না। যারা শপথ ভঙ্গ করেছে তাদের বিচার আপনারা জনগণ করবেন। সময় এসেছে তাদের বিচার করার। ভোটের মাধ্যমে তাদের জবাব দেবো।
তিনি বলেন, যারা ভূমিদস্যু , যারা সন্ত্রাসী তারা আমাদের শত্রু। আমরা কোনো দুনীতিবাজ না।
পাপ্পা গাজী বলেন, আমি আওয়ামী লীগের একজন নগণ্য কর্মী। আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমি মনোনয়ন দেওয়ার মালিক না। মনোনয়ন দেবেন আমার প্রাণ প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা। আপনার যদি চান আগামী পাঁচ বছর ভালো থাকবেন তাহলে আপনাদের প্রতিবাদ হবে ভোটের মাধ্যমে। সবাই জায়েদ আলীর সাথে থাকবেন। আমাদের কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দিলে সবাই তাকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী করবেন । আমি কথা দিচ্ছে আপনারা ভালো থাকবেন।
আগামি ৭ মার্চ কায়েতপাড়ার মাটিতে অনুষ্ঠান করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, কায়েতপাড়াবাসী কায়েতপাড়া নিয়ন্ত্রণ করবে অন্য কেউ না। কিছুদিন আগে আমেরিকায় বয়স্ক একজন লোক প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছে। তাকে ঠেকানোর চেষ্টা করেছে কিন্তু পারে নাই। আপনি এমন একটা জায়গা থাকেন স্পিটবোর্ডে উঠে ফুরুত করে চলে যান। আমাদের ইছাখালিতে ইউনিয়ন পরিষদ আছে আপনি আসেন না কোনো ? আপনি জানেন ওই খান থেকে আপনার পালাইতে সুবিধা। সময় চলে আসছে । দিন বলে আসছে । আল্লার কাছে তওবা করেন। জনগণের কাছে ক্ষমা চান , আমার বিশ্বাস আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত দান করুক।

কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব জায়েদ আলী , নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জি.শেখ সাইফুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা মতি আকন্দ, আলহাজ্ব তাবিবুল কাদির তমাল, রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মেহের, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বজলুর রহমান, রূপগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ সভাপতি কামরুল হাসান তুহিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাইম ভুঁইয়া, উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিনা আক্তার রিতা, রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল আলম শিকদার, সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ ভুঁইয়া মাছুম, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আশিক ইকবাল, সাধারন সম্পাদক মোস্তফা আল হোসাইন রাসেল। এসময় উপস্থিত ছিলেন, কাউন্সিলর আতিকুর রহমান, আনোয়ার হোসেন , কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নাদিম হোসেন অপু, মুড়াপাড়া কলেজের ভিপি তুহিন, জিএস সজিবসহ অনেকে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ