৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, দুপুর ২:৩৭

গ্রীন অনাবিলের টাকা কার পেটে?

সংবাদচর্চা অনলাইনঃ

বিআরটিএ’র রুট পারমিট ছাড়াই নারায়ণগঞ্জ জেলার সড়কে অবৈধ ভাবে প্রবেশ করছে গ্রীন অনাবিল পরিবহনের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি গাড়ি। সাইনবোর্ড থেকে গাজীপুর পর্যন্ত রুট পারমিট থাকলেও গত এক বছরের বেশি সময় ধরে নারায়নগঞ্জ টু গাজীপুরের ব্যানার লাগিয়ে চাষাঢা প্রবেশ করছে পরিবহনটি। গোপন সূত্রে জানা যায়, প্রতি মাসে বিভিন্ন সেক্টরে মোটা অংকের টাকা দিয়ে রুট পারমিট ছাড়াই সড়কে অবৈধ ভাবে পরিবহন চালাচ্ছে গ্রীন অনাবিলের পরিচালক কামাল।

বিভিন্ন সূত্রে থেকে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে বিআরটিএ এর কাছে গ্রীন অনাবিল পরিবহনের কর্তারা সাইনবোর্ড থেকে চাষাঢা প্রবেশ করার অনুমতি চায়। পরে বিআরটিএ তাদের এই সড়কে চলাচলের রুট পারমিট দেয়নি। তবে লিখিত অনুমতি পত্র জমা দেয়ার কয়েক মাস পর থেকেই চাষাঢা প্রবেশ শুরু করে গ্রীন অনাবিল পরিবহন। পাশাপাশি এই সড়কে চলাচল করা প্রতিটি গাড়িতে নারায়ণগঞ্জ টু গাজীপুরের ব্যানার ছেপে দেয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিআরটিএ এর সহকারি পরিচালক ইঞ্জি. আইনুল হুদা বলেন, গ্রীন অনাবিল পরিবহনের রুট পারমিট নেই। আমরা এসব পরিবহন আটক করতে প্রতিনিয়তই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করি। এই পর্যন্ত কয়েকটি গাড়ি আটক করে ডাম্পিংয়ে পাঠিয়েছে।

রুট পারমিট ছাড়া কিভাবে এতো দিন ধরে গ্রীন অনাবিল পরিবহন শহরের সড়কে চলাচল করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ফের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবো। সড়কে যদি ফিটনেসবিহীন, রুট পারমিট বা নিবন্ধন ছাড়া কোনো পরিবহন পাই তবে ব্যবস্থা নেবো। এছাড়াও ট্রাফিক বিভাগের দায় এড়াতে আইনুল বলেন, আমরা কিছুদিনের মধ্যেই ট্রাফিক বিভাগকে বলে দিবো।

অভিযোগ উঠেছে, জেলার বিভিন্ন সেক্টর ও কথিত শ্রমিক নেতাদের প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা দিয়েই অবৈধ ভাবে গ্রীন অনাবিল পরিবহন শহরে প্রবেশ করছে। অন্যদিকে প্রশ্ন উঠেছে অনুমতি না থাকার পরও এক বছরের বেশি সময় ধরে কেনো বিআরটিএ এই পরিবহনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ নিয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করেছে নগরীর সচেতন মহলের লোকজন। তাদের মতে, শহরে রুট পারমিট ছাড়া কোনো পরিবহন চলার কথা না। কারন অবৈধ গাড়ি প্রবেশ ঠেকাতে প্রতিনিয়ত বিআরটিএ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। এছাড়াও ট্রাফিক বিভাগ ও বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিক নেতারা হরহামেশাই খোঁজ খবর রাখছে। তাদের মতে হয়তো সবাইকে ম্যানেজ করেই সড়কে অবৈধ ভাবে চলাচল করছে নয়তো গ্রীন অনাবিলের পরিচালক ও কর্তাদের ক্ষমতা তাদের উর্দ্ধে।

শহরবাসির অভিযোগ, মেট্টো হল মোড়ে গ্রীন অনাবিল পরিবহনের ১০ থেকে ১২টি গাড়ি সব সময়ই রাস্তা দখল করে রাখে। এর ফলে চার পাশের রাস্তায় ব্যপক যানজট সৃষ্টি হয়। তাছাড়া শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে রাস্তার মাঝখানে সব সময়ই ২ থেকে ৩টি গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখে। এতে চাষাঢার রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। আর দূর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক বিভাগ) সালেহউদ্দিন আহমেদ সংবাদচর্চাকে বলেন, আমাদের বিআরটিএ থেকে এমন কিছু বলা হয়নি। আর কোন পরিবহনের যদি রুট পারমিট না থাকে তবে এসব বিষয় দেখবে বিআরটিএ। তারা আমাদের জানালে আমরা শহরে প্রবেশ করতে দিবো না। কারণ সড়কে চলতে রুট পারমিট লাগে। আর আমরা তো রুট পারমিট দিতে পারি না। এ সকল কাজ বিআরটিএ’র। তিনি আরও বলেন, এখনো তারা আমাদের এমন কিছু বলে নাই। আমাদের বললে আমরা ব্যবস্থা নেবো।

অবৈধভাবে সড়কে গাড়ি চলাচলের বিষয়ে জানতে গ্রীন অনাবিলের পরিচালক কামালকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমি একজন লোক পাঠাচ্ছি। উনি সব বলবে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ