২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, সকাল ৬:৫৪
বিজ্ঞাপন

গরীবের চাল কার পেটে

আমি ব্যবস্থা নিবো: নওশেদ চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউয়িনে ভিজিডি কার্ডের চাল বিতরণে অনিয়ম পাওয়া গেছে। ভিজিডি কার্ডগ্রহনকারীদের ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও গতকাল ২৫ থেকে ২৬ কেজি করে দেয়া হয়েছে। দুইজন ইউপি সদস্য, ইউনিয়ন সচিব ও একটি সরকারী অধিদপ্তরের একজন কর্মচারীর উপস্থিতিতে চাল কম দেয়া হলেও কেউই তার দায় নিতে চায়নি। আর চেয়ারম্যান নওশাদ আলী বলছেন, আমিতো উপস্থিত ছিলামই না।

বুধবার সাড়ে ১১ টা। গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডির চাল দেয়া হচ্ছিলো সুবিধাভোগীদের মাঝে। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তোফাজ্জল হোসেন কাবিল , ৭,৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তাহমিনা বেবি, ইউনিয়ন সচিব মাহবুবুর রহমান ভ‚ইয়া, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্মচারী পিন্টু তালুকদার। তাদের সামনে চাল প্লাস্টিকের বালতিতে করে চাল মেপে সেবা গ্রহীতাদের দিচ্ছিলেন দুই ব্যক্তি। চাল নিয়ে অনেকে বাড়ি চলে গেলেও কেউ কেউ তা দোকানে নিয়ে ওজন দিলে চাল কম দেয়ার বিষয়টি ধরা পরে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, আমি এই চাল নিয়ে পাশের মুদি দোকানে মাপ দিয়ে দেখতে পারি ৪ কেজি চাল কম রয়েছে। আরেক ব্যক্তি জানান, আমি ২৫ কেজি চাল পেয়েছি।

উল্লেখ্য, সরকার অসহায় পরিবারের জন্য প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল দেয়ার ব্যবস্থা করেছে। প্রতি ইউনিয়নের সব ক’টি ওয়ার্ডের অনেক পরিবারকে এ সহায়তা দেয়া হয়। একজন সুবধিাভোগী এ সেবা একটানা দুই বছর পান বলে জানা গেছে। তবে সরকারের কার্যক্রম প্রশ্নের মুখে ফেলেছে কতিপয় চেয়ারম্যান, মেম্বার, সচিব। বিভিন্ন ইউনিয়নে ভিজিডি প্রকল্পে চাল কম দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল গোগনগর ইউনিয়নে ভিজিডি চাল বিতরণকালে উপস্থিত জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্মচারী পিন্টু তালুকদার জানান, আমি এখানে আসার পর তোফাজ্জল হোসেন কাবিল মেম্বার তাহমিনা বেবি মেম্বারকে বালতি দিয়ে চাল দেয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করেছি। তারা বলেছে এই বালতি দিয়ে ১২ কেজি চাল দেয়া যাবে। আমরা তখন একটু কমিয়ে ৩ বালতি করে দিয়ে ৩০ কেজি দেই। কি করে চাল কম দেয়া হলো তা আমি বুঝতে পারতাছি না।

এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপের সময়ে (বুধবার দুপুর সাড়ে ১১টা) এই পর্যন্ত আমরা ৩০ থেকে ৪০ জনকে চাল প্রদান করেছি। যারা চাল ওজন দেয় তাদের বলেছি ওজনে যেন কম না দেয়া হয়। সরকারী এ কর্মচারী জানান, নিয়ম অুনযায়ী একজনকে ৩০ কেজি চালের বস্তা দেয়ার কথা।

গোগনগর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী মেম্বার তাহমিনা বেবি বলেন, আমি বার বার বলেছি চাউল ঠিকমত ওজন করে দিতে।

গোগনগর ইউনিয়নের সচিব মাহবুবুর রহমান চাল বিতরণের সময়ে তার চেয়ারেই বসে ছিলেন। এজন্য চালে ওজন কম দেয়ার কোনরকম দায়ভার তিনি নিতে চাননি। তার সাফ কথা, ‘আপনারা মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা বসে দিতাছে এটা কেন কম হলো তারা বলতে পারবে।’ আবার পরক্ষনে বলেন, ‘ বসেন আমি বিষয়টা দেখতাছি।’
এ নিয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নওশেদ আলীর সঙ্গে। তিনিও দায় এড়িয়ে বলেন, আমি ৩০ কেজি করে চাল দিতে বলেছি। তারা কেন কম দিবে ? এ জনপ্রতিনিধি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

সচেতন মহল বলছেন, চেয়ারম্যান সাহেব কী ব্যবস্থা নেয় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার গরীবের জন্য এ প্রকল্প দিয়েছে। মানুষকে চাল কম দিয়ে কারা নিচ্ছেন তা তদন্ত করা জরুরী। মোদ্দা কথায়, গরীবের চাল কার পেটে যাচ্ছে তা বের করা উচিত।