১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, সকাল ৬:১৪

খোকনের ভুল !

সংবাদচর্চা রিপোর্ট:

২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগের অফিসে বোমা বিস্ফোরণের পর মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক সামসুল আলম লিটন ও আরেক বিএনপি কর্মী জাহাঙ্গীরকে ধরে এনে মারধর করে পুলিশে দেয়া হয়। ঘটনার পর দিন আওয়ামী লীগ নেতা খোকন সাহা বাদি হয়ে মামলা করেন। মামলায় তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামী করেছিলেন। তবে ১৯ বছর পর শামীম ওসমান জানালেন, বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার ও শওকত হাসেম শকু জড়িত ছিলো না।

১৬ জুন নারায়ণগঞ্জ তথা গোটা দেশের জন্য একটা কলংকজন অধ্যায়। সেদিন চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে শামীম ওসমান এমপি বিভিন্ন এলাকার মানুষজনের নানা সমস্যার কথা শুনছিলেন। তিনি যে রুমে বসে আলাপ করছিলেন সে রুমেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। তবে এর কিছুক্ষন আগে পাশের রুমে চলে যান তিনি। নৃশংস এ বোমা হামলায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ নেতা কর্মী ও নারীসহ ২০ জন নিহত হন। চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয় চন্দন শীল ও রতন দাসকে। আহত হন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সহ অনেকে। এ ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা তখন বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামি করে হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে পৃথক দু’টি মামলা করেছিলেন।

এদিকে সোমবার আদালতে স্বাক্ষ্য দেয়া শেষে সেই খোকন সাহাকে পাশে রেখে শামীম ওসমান বলেন, আগে যে তদন্ত হয়েছে সেই তদন্তকারী কর্মকর্তা আমার বক্তব্য ঠিকমত তুলে ধরেনি। আমি কোন সমঝোতা করবো না। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমার দলের সাধারণ সম্পাদককে বলেছি আমি এ চার্জশীট মানি না। তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার ও শওকত হাসেম শকু এ ঘটনায় জড়িত নন।

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির নেতা ও কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু বলেন, এই সাক্ষ্য গ্রহনের পর থেকে আই এম ভেরী হ্যাপী। অপরাধ না করেও দীর্ঘদিন আমাকে ১৬ই জুনের বোমা হামলাকারীর অপবাদ সইতে হয়েছে। সেখান থেকে কিছুটা হলেও আমি মুক্তি পেয়েছি। শামীম ওসমান একজন যোগ্য নেতা। তিনি দলমতের বাইরে এসে সত্যিটা বলেছেন। আমি জাতীয়তাবাদী দলের সমর্থক হয়েও তার এমন কাজের জন্য প্রশংসা জানাই। এই মামলাটির তদন্ত পুনরায় হয়ে সত্যিকারের অপরাধীদের বের করুক তা আমি নিজেও চাই।

মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমরা সবসময়েই চাই দেশে আইনের শাসন তৈরী হোক। প্রতিটি ঘটনার মতো ১৬ জুন বোমা হামলার ঘটনারও প্রকৃত আসামী বের হোক। কিন্তু প্রথম থেকেই যেভাবে ঢালাও ভাবে বিএনপিকে দোষারোপ করা হয়েছিলো তা একেবারেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণ বলে মন্তব্য করে এ নেতা বলেন, যে কারনে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী দুঃসহ জীবন পার করেছে। দীর্ঘদিন পরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাংসদ তাদের দুজনকে নির্দোষ যেহেতু বলেছেন তাতে কিছুটা হলেও দল এবং তারা দায়মুক্তি পেয়েছে। আমরা চাই নতুন করে এই মামলার তদন্ত হয়ে প্রকৃত আসামী বেরিয়ে আসুক।

অভিযুক্ত তৈমূর আলম খন্দকারের ছোটভাই কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, এই ঘটনায় আমি শুধু বলবো আল্লাহ যে সত্য সেটা প্রমানিত। ১৬ই জুনের বোমা হামলায় জড়িত সহ এমন অসংখ্য মিথ্যা অভিযোগ তৈমূর ভাই ও আমাদের পরিবারের উপর অপবাদ দেয়া হইছে। বহু মিথ্যা অভিযোগে এই খন্দকার পরিবারকে হয়রানি করা হয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে এই অভিযোগ যেমন মিথ্যা প্রমানিত হলো তেমনি সকল মিথ্যা অভিযোগ একদিন প্রমানিত হবে ইনশাআল্লাহ।

শামীম ওসমানের বক্তব্য, বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়ার পর বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি সে সময়ের অভিযোগ ভুল হয় তবে তা কার ভুল ছিলো তা পরিস্কার করা উচিত ছিলো। তাদের মতে, নেতা হিসেবে মামলা দেখভাল’র কথা ছিলো শামীম ওসমানের। তার নির্দেশে এ মামলায় বিএনপি নেতাদের আসামী করা হয়েছে নাকি খোকন সাহা ভুলে করেছেন তা জানালে মানুষ সত্যটা জানতে পারতো।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ