২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, সকাল ৬:৫৩
বিজ্ঞাপন

খাটিয়ার বাজার ঠান্ডা

নাদিম হাসানঃ

প্রতিবছর কোরবানীর ঈদকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের হোগলা- সাজি (টুকরি) ও খাটিয়ার দোকানগুলোতে বেচা-বিক্রি বেশি থাকলেও এবার ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম। বিক্রেতারা জানায়, প্লাষ্টিকের ব্যবহার বাড়ায় হোগলা ও টুকরির চাহিদা কমেছে। এছাড়া করোনার কারনে পশু বিক্রি কমে যাওয়াও অন্যতম কারন। তবে ক্রেতারা বলছেন, ঈদকে ঘিরে এসব জিনিসের দাম বেশী হাকায় তারা বিকল্প খুঁজেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোরবানীর ঈদকে কেন্দ করে শহরের জিমখানা, মন্ডলপাড়া, দিগুবাবুর বাজার এলাকায় বসেছে ছোট বড় কয়েটি খাটিয়া ও হোগলার দোকান। এসব দোকানে পর্যাপ্ত পরিমানের গাছের গুড়ি ও পাটি থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা তেমন চোখে পরেনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও একটি হোগলা,খাটিয়া বিক্রি করতে না পাড়ায় হতাস বিক্রেতারা। তবে নারায়ণগঞ্জ কামার পট্টিতে নতুন করে চাপাতি, ছুরি বেচা-কেনা কম থাকলেও পুরাতন দা-বটিতে ধার দেওয়ার জন্য আসছেন অনেকেই। আর এই ধার দেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার কারিগররা।

শিবু কর্মকার নামে এক কারিগর বলেন, দিনে দিনে লোহা ও কয়লার দাম বেড়েই চলেছে। তাই চাপাতি, দা-বটি, ছুরির দামও বেড়েছে। আগে মানুষ প্রতিবছর কোরবানীর সময় এসব পণ্য নতুন কিনতেন। সেখানে এখন এগুলোর দাম বেড়ে যাওয়ায় পুরাতন চাপাতি দা-বটিতে, ধার দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে খরচ হচ্ছে ১শ’ পঞ্চাশ থেকে দুইশ টাকার মতো।

তিনি আরো বলেন, আগে নিজেরাই কোরবানির পশু জবাই ও কাটার কাজ করতো মানুষ। এখন এই কাজটি করেন কসাইরা। বর্তমানে দা,বটি কেজি প্রতি ৬’শ টাকা, চাপাতি সাড়ে পাঁচশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ছুরি পিস প্রতি ২’শ টাকা, চামড়া ছোলার ছুরি তিনশ থেকে চারশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে তবে কাঁচা লোহার পণ্যের দাম একটু কম। এ পেশার সঙ্গে জড়িতদের অবস্থা দিনে দিনে খারাপ হচ্ছে। এক এক দোকানে আগে যেখানে ৫ জন ছিলাম এখন সেখানে দুই জন টিকে আছি।

শহরের হোগলার দোকানগুলোতেও তেমন ক্রেতার দেখা মেলেনি। কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন সাজির বদলে প্লাস্টিকের গামলা আর পাটির বদলে মোটা পলিথিন ব্যবহার করেন অনেকে। তাই হোগলা-সাজির কদরও কম। বর্তমানে সাড়ে ৩-সাড়ে ৪ হাত পাটি বিক্রি হচ্ছে ৩শ’ থেকে সাড়ে তিনশ টাকায়। সাড়ে ৪,সাড়ে পাচ হাত পাটি বিক্রি হচ্ছে তিনশ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকায়। সাজি আকারভেদে দুইশ থেকে তিনশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে ।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নাছির জানান, তেঁতুল গাছের খাটিয়ার কদর বেশি থাকলেও এই গাছের আমদানি কম। তাই দামও দিনে দিনে বাড়ছে। বর্তমানে ক্রেতা না থাকলেও ঈদের ১/২ দিন আগে খাটিয়া ও হোগলা বিক্রি শুরু হবে।

এ বিষয়ে কয়েক জন ক্রেতার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, প্রতি বছর ঈদ এলেই কয়েক গুন বেড়ে যায় খাটিয়া, হোগলা, চাপাতি, চাকু- ছুড়িসহ অন্যান্য প্রয়জনিয় পন্যের দাম। সাধারনত যে চাকু বিশ থেকে ত্রিশ টাকা তা ঈদে ষাট থেকে আশি টাকা দিয়ে কিনতে হয়। তাই পুরাতন দা-বটি যত্ন করে রেখে দিয়েছি। ঈদের একদিন আগে ধার করে নিলেই হবে নতুন কেনার প্রয়জন নেই।