১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, রাত ৪:১৩

‘কোন্দল ভালো নয়’

সংবাদচর্চা রিপোর্টঃ

নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ভোটের দিন পরাজয়ের আগেই আলী আহাম্মদ চুনকাকে হারানো হয়েছিলো। তাকে পরাস্ত করতে নানা রকম খেলা শুরু হয় মনোনয়নপত্র কেনার অনেক আগেই। শহর ও আশপাশের একটা টিম নাজিম উদ্দিন মাহমুদকে গুটি বানিয়ে দাবার চাল চালেন উত্তর চাষাঢ়ার একটি বাড়ি থেকে। তবে সে সময়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা একজনকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘দলের ভিতর এত কোন্দল ভালো নয়’।

নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার ১৯৮৪ সালের নির্বাচনে কুট রাজনীতির এমন কোন পন্থা নেই যা খাটানো হয়নি। শহরের ধর্নাঢ্য শ্রেনীর একটি অংশ ও কতিপয় রাজনীতিক এক হয়ে মাঠে নামেন চুনকাকে পরাজিত করতে। প্রবীণ রাজনীতিকরা জানান, সাধারণ মানুষের কাছে আলী আহাম্মদ চুনকা এতটাই জনপ্রিয় ছিলো যে তার বিরুদ্ধে কোন প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। ভেবে চিন্তে তারই দূর সম্পর্কের ভাগ্নে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন মাহমুদকে বেছে নেন প্রতিপক্ষ। তারা জানান, নাজিম উদ্দিন মাহমুদ তুখোড় বক্তা ছিলেন। সারা দেশে সুবক্তা হিসেবে সুনাম ছিলো তার। অপরদিকে আলী আহাম্মদ চুনকা বক্তৃতা দিতেন ছোট্ট করে। চুনকা বিরোধী শক্তি নাজিমউদ্দিনের এ গুনকে কাজে লাগিয়ে তাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করেন।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এ নির্বাচনকে ঘিরে একটা নীল নকশা করা হয়। প্রথমেই আলী আহাম্মদ চুনকার প্রতীক কেঁড়ে নেয়া হয়। ওই সময়ে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীরা তাদের প্রতীকের জন্য অনেকের কাছে পরিচিত ছিলেন। চুনকার দাড়ি পাল্লা মার্কা পান গলাচীপা শাহ মনির নামের একজন। এ শাহ মনির তেমন পরিচিত নন। তাকে দিয়ে দাড়ি পাল্লা কেড়ে নেয় চুনকার প্রতিপক্ষ। ওই নির্বাচনে চুনকা প্রতীক পান খেজুর গাছ। অনেকের মতে, প্রতীকের দিক দিয়ে প্রথম হারেন চুনকা। তাদের মতে, সে সময়ে ভোটারদের অনেকে তেমন লেখাপড়া জানতেন না। তার দাড়ি পাল্লা দেখেই মনে করেন চুনকার মার্কা। যে কারনে চুনকার প্রতীক মনে অনেকে দাড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছেন। নাজিম উদ্দিন মাহমুদের মার্কা ছিলো বাই সাইকেল। শেষতক ভোটে হারেন চুনকা।

একজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, নির্বাচনের আগে উত্তর চাষাঢ়ার হীরা মহল বাড়িতে একেএম সামসুজ্জোহা এ নির্বাচন নিয়ে কিছু কথা বলেছিলেন। তখন বিরোধী হলেও সামসুজ্জোহা পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে চুনকাকেই পছন্দ করতেন। তিনি তার এক ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘তুমি অন্য পার্টি করো- আওয়ামী লীগ নিয়ে এত মাথা ঘামিও না। আমি আওয়ামী লীগ করি, দলে এত কোন্দল ভালো নয়।

তাছাড়া তোমরা যাকে চুনকার বিপক্ষে প্রার্থী দিয়েছে সে চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। নাজিম উদ্দিন ভালো বক্তা হতে পারে তবে ভালো প্রশাসক হতে পারবে না। আমি নাজিমউদ্দিনকে খুব ভালো করে চিনি। ওর চেয়ে চুনকা ঢের ভালো’।

প্রত্যক্ষদর্শী এক নেতা জানান, আমি এ কথা শুনে থ’ বনে যাই। জোহা ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকি। তা দেখে আমাকে উদ্দেশ্য করে জোহা ভাই বলে, ‘ তুই তাকিয়ে আছিস কেন। তুই আমার কর্মী না আমি তোর কর্মী ?’
জবাবে সে বলে, আমি আপনার কর্মী।
এরপর সামসুজ্জোহা বলেন, ‘তাহলে ওকে বুঝা। আমি কী ঠিক বলেছি কি-না বল।’

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ