১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, রাত ১:০০

কু চিন্তায় দুর্ঘটনা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্ঘটনার পর অনেকের টনক নড়লেও আগে তা নিয়ে ভাবেনা কেউ। নারায়ণগঞ্জে নানা অনিয়মের কারনে প্রায়ই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিহত-আহত হয়  নানা বয়সী মানুষ। ঘটনার পর এ নিয়ে বিভিন্ন দফতরের তৎপরতা দেখা গেলেও কিছু দিন পর তা ঝিমিয়ে আসে। আবার কখনও কখনও একটা ঘটনা আরেকটা ঘটনাকে চাপা দেয়। সচেতন মহলের মতে, একশ্রেনীর মানুষ নিজেদের স্বার্থে অনিয়ম করে। তারা সু চিন্তা না করে কু-চিন্ত করার ফলে দুর্ঘটনা ঘটে।

৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় আবারও একবার প্রমান হলো অসাবধানতা ও গাফলতির কারণে ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। এ ঘটনার আগে ৮ই মে বন্দরে নিয়ম না মেনে বাড়ির নিচে সেফটি ট্যাংক তৈরি করায় ট্যাংক বিস্ফোরণে প্রাণ হাড়িয়েছে ২ শিশুসহ এক নারী। গত বছর ৩ নভেম্বর বাবুরাইল তাতিপাড়া এলাকায় বিল্ডিং কোড না মেনে বাড়ি তৈরি করায় ৪ তলা ভবন ধ্বসে মারা যায় এক শিশু। অনিয়ম আর অসাবধানতায় এ ধরনের বড় বড় দূর্ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিবারই তাদের দায় এড়িয়ে যায়।

গত ৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে বেরিয়ে আসে গ্যাসের লাইনে ছিদ্র থাকায় মসজিদের নিচে ফাঁকা অংশে গ্যাস জমেছিল। বিপুল পরিমাণ জমে থাকা গ্যাসের কারণেই মসজিদে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তল্লা মসজিদে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে তিতাসের তদন্ত দল। তদন্ত দলের কর্মকর্তাদের দাবি, গ্যাসলাইনে ছয়টি ছিদ্র ছিল। এসব ছিদ্র থেকে গ্যাস ‘লিক’ করে যেখানে ফাঁকা স্পেস পেয়েছে সেখানেই গেছে। তারা জানান, মসজিদের ভিত্তি (ফাউন্ডেশন) তৈরির সময় ৪ নম্বর কলামের পাশে আগে থেকে স্থাপিত গ্যাসের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেখানে ছিদ্র তৈরি হয়।

তদন্ত দলের প্রধান বলেন, মসজিদ নির্মাণের সময় এর উত্তর দিকের ৪ নম্বর কলামের পাশে স্থাপিত গ্যাস লাইনটি ঘিরে ওই কলামের ফাউন্ডেশন তৈরি হয়েছে। লাইনটিকে কলামের ওপরে রেখে এর নিচ দিয়ে ফাউন্ডেশন দেওয়া হয়। ওই কাজ করার সময় পাইপলাইনের রেপিং নষ্ট হয়। এতে লাইনটি মাটির সংস্পর্শে এসে পরে ছিদ্র হয়েছে। সেই ছিদ্র থেকে গ্যাস বের হয়ে নিচে যেখানে ফাঁকা জায়গা পেয়েছে, সেখানে গিয়ে জমা হয়েছে। ঘটনার দিন কেউ বৈদ্যুতিক সুইচ চাপার সাথে সাথে বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানান তিতাসের তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব তালুকদার। ওই স্থানে লাইনের মোট ছয়টি লিকেজ চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলোয় ক্ল্যাম্প লাগিয়ে মেরামত করা হয়।

এলাকাবাসী জানান, মসজিদ নির্মাণের আগে থেকেই এ এলাকায় গ্যাসের মেইন লাইন ছিল। মসজিদ নির্মাণ করার পর সরকারি রাস্তার মধ্যে কিছু অংশ বাড়িয়ে মসজিদের বারান্দার কাজ করা হয়। সরকারি জায়গার উপর দিয়ে গ্যাস লাইন রয়েছে। মসজিদ নির্মাণের সময় গ্যাস অফিসের লোকজন কোনো বাধা দেয়নি এবং সরকারি জায়গায় মসজিদ নির্মাণেও কোনো ধরনের তোয়াক্কা করা হয়নি। তারপরও মসজিদের পাশের রাস্তায় থাকা গ্যাস লাইনে লিকেজ হলে গ্যাস অফিসে বলার পরও কোনো কর্ণপাত করেনি তারা। বরং মেরামতের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।

গত বছর ৩ নভেম্বর শহরের এক নম্বর বাবুরাইলের তাতিপাড়া এলাকায়  ভবন ধসে সোহায়ের (১০) নামে স্কুলছাত্র নিহত হয়। স্থানীয়রা জানান, বাবুরাইল এলাকার মৃত রউফ মিয়ার চার সন্তান মিলে ১০ থেকে ১২ বছর আগে এইচ এম ম্যানসন নামে তিনতলা একটি ভবনটি নির্মাণ করেন। ভবনটি  খালের উপর নির্মাণ করায় ঠিকমত পাইলিং করা হয়নি। ফলে পরর্বটিতে চারতলা নির্মাণের কাজ চলাকালিন ভবনটি খালে ধসে পরে।

সচেতন মহলের মতে, গ্যাসের লাইনে ত্রুটি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হিনতা ও বাড়ির মালিকদের গাফলতির জন্যই ঘটে বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও ভবন ধসের মত বড় ধরনের দূর্ঘটনা। এছাড়া আমরা অনেক সময়ই লক্ষ করি যে ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ সংযোগের কারণেও ঘটছে অগ্নিকাণ্ড। এসব দূর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও টনক নড়ে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কাউকে এর জন্য দায় নিতে হয় না। কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এখন সময় হয়েছে এসবের দিকে নজর দেওয়ার।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ