১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১লা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, রাত ১:০৬

এ সড়ক কার বাবার ?

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সড়কে গাড়ি চলন্ত থাকার কথা থাকলেও শহরে যেন থেমেই থাকে অধিকাংশ যানবাহন। কেউ কেউ ঠেকায় পরে থামে আবার অনেকে জোর করে থামিয়ে রাখে। সড়ক দখল করে লেগুনা, সিএনজি স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে সবার চোখের সামনে। রিকশাগুলো সড়কের অনেকটা দখল করে রাখলেও কারও যেন কিছুই বলার নেই। সূত্র বলছে, এসব অবৈধ স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা তোলা হয় নিয়মিত। কেউ লাঠি হাতে তুলে কেউবা জ্যাকেট গায়ে চাঁদা তুলে।

চাষাঢ়া থেকে লেগুনা মুক্তারপুর, সাইনবোর্ড ও চিটাগাং রোড যায়। সব লেগুনার আস্তানা চাষাঢ়ায়। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুটের রাইফেল ক্লাবের উল্টোপাশ থেকে ছেলে সাইনবোর্ড আসা যাওয়া করে লেগুনা।

এখানে সড়কের দুই পাশেই দখল করে স্ট্যান্ড বানিয়ে ফেলেছে লেগুনা চালকরা। চাষাঢ়া খাজা মার্কেটের সামনে থেকে লেগুনা ছেড়ে মুক্তারপুর আর চিটাগাং রোড যায়। ফুটপাতে টেবিল চেয়ার নিয়ে বসে এসব লেগুনার সিরিয়াল ঠিক করে দেয় পরিবহন গডফাদারের লোকেরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হকার্স মার্কেটের শুরু থেকে লেগুনাগুলো রাস্তা দখল করে রাখা হয়। পাশাপাশি তিনটি করে রাখায় সড়কের বেশীরভাগ অংশই তাদের দখলে থাকে। বাকী যেটুকু অবশিষ্ট থাকে তা দিয়ে চলতে হয় অন্য যানগুলোকে।

ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দিনের বেলায় সবার চোখের সামনে এমন সড়ক দখল করে রাখায় প্রতিদিন যানজট লেগে থাকে। এদেরকে সড়ক থেকে না তুললে জ্যাম কমবে না। তাদের প্রশ্ন এ সড়ক কি তাদের বাপদাদার ? যে ইচ্ছে হলো দখল করে রাখবে। না-কি যারা চাঁদা খায় তাদের বাপের সড়ক। তাদের জন্য আমরা কেন কষ্ট করবো।

সরেজমিনে দেখা যায়, লেগুনাগুলো যত্রতত্র পাকিং ও সড়কের মাঝখানে থামিয়ে যাত্রী উঠা নামা করছে দেদারছে। শুধু তাই নয় শহরের মূল সড়ক দখল করে অবৈধ স্ট্যান্ড তৈরি করে গাড়ি পাকিং করছে। আর এ করার কারনে যানজট সৃস্টি হচ্ছে পুরো শহর জুড়ে।

একইভাবে চাষাঢ়ায় কয়েকটি অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ডও যানজটের কারন। সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে সড়ক দখল করে সমবায় মার্কেট পর্যন্ত একটি অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এখান থেকে মুক্তারপুর হয়ে মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে যায় এ সিএনজিগুলো। সূত্র জানায়, ট্রাফিক পুলিশের একজন এ অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ডের হর্তাকর্তা। এছাড়া রাইফেল ক্লাবের সামনে ও মহিলা কলেজের পাশে রেললাইন ঘেঁষে রয়েছে আরও দুইটি অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড। ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা ও ইজিবাইকের সড়ক দখলও যানজটের আরেকটি কারন বলে মনে করেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ( ট্রাফিক ) সালেহ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, শহরে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। যত্রতত্র পার্কিং করার কারনে আমরা তাদেরকে রেকার দিয়ে জরিমানা করছি। প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ