আজ বুধবার, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

এসপিসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন রিজভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে শাওন প্রধান নিহতের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ৪২ জনকে আসামি করে মামলার একটি আবেদন করেছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

রোববার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়ির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসেন মোল্লার আদালতে এই আবেদন করেন তিনি। আদালত আবেদন গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে শুনানি হবে পরে।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মামলার আবেদনে হত্যা, জখম, গুরুতরজখম ও পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত আবেদন গ্রহণ করেছে। তবে আদেশ দেয়নি। বিচারক পরে মামলার আবেদনের বিষয়ে আদেশ দেবেন।

যাদের আসামি করতে আবেদন করা হয়েছে, তারা হলেন, জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল আলম, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই মাহফুজুর রহমান কনক, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান মোল্লা, উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান, ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আমীর খসরু, কনস্টেবল শাহরুল আলম, মো. সোহাগ, মো. আরিফ দেওয়ান, ফেরদৌস দেওয়ান, সেলিম, রিপন, যুগল, মামুন, রিয়াজ, হাফিজ, এএসআই ইকবাল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, সোহরাব, কনস্টেবল জাকির হোসেন, নাঈম, রাকিব, আনিস, সাইদুল, ইনজামামুল, রাসেল, খলিলুর রহমান, মোহসীন মিয়া, মোস্তাকিম, শাহাদাত হোসেন, ফখরুল ইসলাম, আরিফ দেওয়ান, দীপক সাহা, শাহীন, ফরিদ উদ্দিন, মুরাদুজ্জামান, শাহীন, কবির হোসেন, মান্নান, রুবেল ও সোহাগ৷

রিজভীর পক্ষের আইনজীবী মামলার বিষয়ে এড. মাসুদ তালুকদার বলেন,‘১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল ৷ সমগ্র বাংলাদেশে বিএনপি শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছে৷ কিন্তু নারায়ণগঞ্জসহ বাংলাদেশের কতিপয় স্থানে পুলিশ বিনা কারণে উসকানি দিয়ে শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ সরাসরি গুলি করেছে৷ এতে বহু নেতা-কর্মী আহত হয়েছে এবং যুবদলের কর্মী শাওন বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান৷ মিডিয়া, পত্রিকা এবং সেখানে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের কাছ থেকে জেনে আদালতে এ মামলা দায়ের করলাম৷’

এই আইনজীবী বলেন,‘পুলিশে এসআই কনক যার গুলিতে শাওন নিহত হয়েছে তাকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে৷ এছাড়া জেলা পুলিশ সুপার, তিনজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর মডেল থানার ওসিসহ মোট ৪২ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে৷’

মামলার আবেদনের পর রিজভী সাংবাদিকদের বলেন,‘এটি অন্যায় হয়েছে, চরম অন্যায়৷ কাটছাট করার পরও সংবিধানে এখনও যতটুকু অধিকার আছে তাতে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে সমাবেশ করা ও ব়্যালি করার অধিকার আছে৷ সেই অধিকারটুকুই সরকার হরণ করেছে৷

‘এর প্রমাণ গত পহেলা সেপ্টেম্বরের ঘটনা৷ সরকার গণতান্ত্রিক অধিকারের কোনটাই রাখতে চায় না৷ একদলীয় সরকারের যে নমুনা তারই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে৷’

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ