আজ বুধবার, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

এলোমেলো বিএনপি

সংবাদচর্চা রিপোর্ট:

গরম হচ্ছে রূপগঞ্জ। থামছে না ষড়যন্ত্র। জাতীয় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বিএনপি নেতাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। মাঠে দাঁড়াতে পারছে না দলটির নেতারা। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ। আপাতত জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রূপগঞ্জে বিএনপি ৪ ভাগ! সুত্রের খবর কেউ তলে তলে আবার কেউ প্রকাশ্যে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। বিএনপি থেকে সদ্য বহিস্কৃত এড. তৈমূর আলম খন্দকার ও তার অনুগতরা তৎপর। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাকে বাসায় ডেকেছেন। এতে তৈমূর অনুগতরা উজ্জিবীত। তৈমূর আলম খন্দকার সুযোগ মতো খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এতে বিপাকে তৈমূর বিরোধীরা। গেল নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কাজী মনিরুজ্জামান নিজ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীকের কাছে পরাজিত হয়। এরপর থেকে তাকে এলাকায় খুব কম দেখা গেছে। করোনার সময় তাকে রূপগঞ্জবাসীর পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। এবার নির্বাচনকে ঘিরে আবার তিনি সক্রিয় । নিজ দলে তার প্রতিপক্ষ হিসেবে এবার অনেকেই কাজ করছে। তার মধ্যে রয়েছে বিএনপি কেন্দ্রী কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দীপু ভুঁইয়া। তার বিরুদ্ধেও অনেক অভিযোগ। কেউ কেউ আবার সুযোগের সন্ধানে। বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার গ্যারান্টি থাকলে রূপগঞ্জে দলটির প্রার্থীর অভাব হবে না। আর যদি আওয়ামী লীগ টানা ৪ র্থ বার ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে তাহলে রূপগঞ্জ আসনে বিএনপির প্রার্থী খুজে পাওয়া মুশকিল। তখন কে প্রার্থী হবে তা বলা যাচ্ছে না। নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং আর ব্যক্তি হিংসার কারণে রূপগঞ্জে বিএনপি এলোমেলো। মামলার ভয়ে কেউ কেউ বিদেশে গেছে ।
আপাতত রাজপথ ক্ষমতাসীনদের দখলে। কাজী মনির ,তৈমূর ,দিপু ,নাসির এর মধ্যে চতুরমুখী দ্বন্দ্ব। সুত্রের খবর আগামী নির্বাচনে তারা কেউ কাউকে ছাড়বে না। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে বিএনপির এইসব নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে কাজ করেছে।
এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীকের নেতৃত্বে রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগের জোড় বেশি। এ কথা বিএনপির অনেকেই স্বীকার করেন। টানা চতুর্থবার এমপি হওয়ার চেষ্টায় রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক। বিএনপির অনেকেই তাকে সাপোর্ট করেন। তিনি আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে দলে পরিচিতি পেয়েছেন। রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মন্ত্রীর পক্ষে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। মানবিক কাজেও মন্ত্রী অধিক সক্রিয় রয়েছেন। তার নিজ নির্বাচনী এলাকা রূপগঞ্জ উপজেলার কিডনী রোগীদের জন্য বিনা খরচে তিনি কিডনী ডায়ালাইসিস ব্যবস্থা করেছেন। সাধারণ মানুষও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগতম জানিয়েছে। তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে মহিলা লীগ ও যুব মহিলা লীগ কে অত্যন্ত শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলেছেন তিনি। দল মতের উর্ধ্বে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। মন্ত্রী হওয়ার পর তিনি রূপগঞ্জ ছেড়ে যাননি। বিগত ১৪ বছর তাকে কর্মীদের পাশেই দেখা গেছে। করোনাকালে তিনি রূপগঞ্জে গাজী পিসিআর ল্যাব স্থাপন করেন যার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ এবং এর আশেপাশের জেলার মানুষের জীবন রক্ষা পায়।

রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি , বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক বলেন, আমাদের ভোট যুদ্ধ বিএনপির সঙ্গে। আমাদের টার্গেট থাকবে বিএনপিকে পরাজিত করার। ফাঁকি দেওয়ার রাজনীতি আমি করি না। ‘কারও প্রতি আমার অভিযোগ নাই’ । নমিনেশনের জন্য সবাই যুদ্ধ করতে পারে। সবাই চাইতে পারে নমিনেশন। নমিনেশন হয়ে গেলে আমাদের সবাইকে এক নৌকায় এসে নির্বাচন করতে হবে। শুধু রূপগঞ্জ নয় সারা দেশে নমিনেশন যুদ্ধ চলে। আমাদের মধ্যে মারামারি, ভেদাবেধ করা ঠিক হবে না। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করার জন্য সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ