১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, সকাল ৬:৪৬

‘এরশাদ বলেছিলেন বোন লাশ পাবো কোথায়’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জিয়াউর রহমানের লাশের নামে চট্টগ্রাম থেকে একটি বাক্স সাজিয়ে-গুজিয়ে আনা হয়েছিল। ওই বাক্সে জিয়াউর রহমানের লাশ ছিল না। এ বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধা মীর শওকত ও তৎকালীন সেনাপ্রধান মরহুম রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চলতি একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

সংসদ নেতা বলেন, ‘ওই সময় পার্লামেন্টে বারবার প্রশ্ন এসেছে-যদি লাশ পাওয়া যায় তার ছবি থাকবে না কেন? লাশ শনাক্ত করেছিল মীর শওকত। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে চিনতাম। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম সত্যি কথা বলেন তো? বলেছিলেন লাশ কোথায় পাব? এমনটি জেনারেল এরশাদ সাহেবকেও আমি বললাম- আপনি যে একটি বাক্স আনলেন? লাশটা কই? আমাকে বললেন-বোন লাশ পাবো কোথায়? আর কী বলবো?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে কথা উঠছে। আমি এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না। ৪০ বছর পরে নয়, জিয়াউর মৃত্যুর সংবাদের পরে তার লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। গায়েবানা জানাজা হয়েছিল। কে যেনো একটা বুদ্ধি দিয়েছিলো। এগুলোতে এরশাদ সাহেব খুব পারদর্শী ছিলো। কয়েকদিন পরে একটি বাক্স আনা হলো। সাজিয়ে-গুজিয়ে একখানা বাক্স নিয়ে এসে দেখানো হলো।’

তিনি বলেন, ‘আমি নিজে এরশাদকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেছেন, কীসের লাশ! এখানে কোনো লাশ ছিল না। লাশের কথা আমরা বারবার জানতে চেয়েছি। তখনকার বিএনপির নেতারাও ছিল। তারা কী করে গেছে সেটি আপনারা দেখেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিলো। ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। ওইদিন দুপুর বেলা হান্নান শাহ্ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। জিয়াকে পাবলিক ধরে রাখে। সোয়াদ জাহাজে তাকে অস্ত্র খালাস করতে দেবে না। ২৭ মার্চ জিয়াকে দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করায়। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন জিয়া সঠিক দায়িত্ব পালন করলে সেখানে এতো মানুষ মরল কেনো? সেখানে জিয়া ঠিক দায়িত্ব পালন করেনি। মুক্তিযোদ্ধা চলাকালে কর্নেল আসলাম বেগ তাকে চিঠি লিখেছিল। ওই চিঠি আমার কাছে আছে। এই সংসদে সেটি তুলে ধরব। সংসদের প্রসেডিংসের পার্ট হয়ে থাকা দরকার। কর্নেল আসলাম বেগ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জিয়াকে একটি চিঠি দেয়- সেই চিঠিতে সে লিখেছিল আপনি খুব ভালো কাজ করছেন। আমরা আপনার কাজে সন্তুষ্ট। আপনার স্ত্রী পুত্রকে নিয়ে চিন্তা করবেন না। আপনাকে ভবিষ্যতে আরও কাজ দেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদ মোশাররফ যখন আহত হয়ে যান, তখন মেজর হায়দার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান সেক্টর কমান্ডার হয়নি। অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে তো একটা সেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, সেক্টর কমান্ডার নয়।’

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ