১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ভোর ৫:০৪

এরপর আর দেখা নেই

বিশেষ প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জে শেষ কবে মহানগর ছাত্রদলকে সক্রিয় দেখা গেছে তা জানেন না ছাত্রদলের কর্মীরা। ঈদ উল ফিতরের পূর্বে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতিকে কিছু ত্রাণ বিতরণে দেখা গিয়েছিলো। কিন্তু একই কমিটির সাধারন সম্পাদক মমিনুর রহমান বাবু কমিটি পুরো বছরজুড়েই আন্ডারগ্রাউন্ডে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

অথচ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান রনির সক্রিয়তায় তার গাত্রদাহ। যেখানে তাদের নিষ্ক্রিয়তার মাঝে রনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি সহ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে করোনাকালে খাদ্য সহায়তা এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক সফরে ব্যস্ত, তখন তাকেই অব্যহতির দাবীতে আবেদন পাঠিয়েছেন তিনি সহ ছাত্রদলের নিষ্ক্রিয় গুটিকয়েক নেতা।

মঙ্গলবার জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি আরিফুর রহমান মানিক বিষয়টি দৈনিক সংবাদচর্চাকে নিশ্চিত করেন। একই আবেদনে সাক্ষর করেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রহমান বাবু, সিনিয়র সহ-সভাপতি রাফিউদ্দীন রিয়াদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মাগফুর ইসলাম পাপন এবং জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, রাকিব হাসান রাজ, নাজমুল হাসান বাবু, মেহেদী হাসান, সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান মানিক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি রাফিউদ্দিন রিয়াদ শেষবার গণমাধ্যমের পাতায় আলোচনায় এসেছিলেন নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়ে। সাংসদ সদস্য হবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকলে রাজনীতিতে যেমন সক্রিয় থাকার কথা ছিল তার বিন্দুমাত্র দেখা যায়নি তার ভেতর। একই অবস্থা সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মাগফুর ইসলাম পাপনেরও।

লিখিত ঐ অভিযোগে উল্ল্যেখ করা হয় রনির আত্মীয় মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও দীর্ঘদিন পরে এনিয়ে আপত্তি তোলা সন্দেহজনক মনে করছেন অনেকেই। আপত্তি তোলাদের ভেতর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিকের ছোট ভাই নিজেই আড়াইহাজারে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। তার বাবাও রয়েছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে। একই পদের আরেক নেতা নাজমুল হাসান বাবুর বিরুদ্ধে রয়েছে অর্থ নিয়ে পালিয়ে যাওয়া ও চাঁদাবাজির বিস্তর অভিযোগ।

অভিযোগের ব্যাপারে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি সংবাদচর্চাকে বলেন, যেসব কমিটি নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে সেখানে যাতে অধিক বয়স্ক ও বিবাহিত প্রবেশ করতে না পারে সেই বাঁচাইয়ে সময় লাগছে। খুব দ্রæতই কমিটি পাশ করা হবে। অপরদিকে আমার আত্মীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এটি ওপেন সিক্রেট। দীর্ঘদিন পর এসব নিয়ে অপবাদ দেয়া স্রেফ বোকামি। আমি যদি আওয়ামী লীগের সহায়তা নিয়ে চলতাম তাহলে নির্বাচনের আগে আমার ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখী হতে হতো না।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিতর্কিত ও নিষ্ক্রিয়দের স্বার্থে আঘাত লাগার কারনে দীর্ঘদিন পর পুরোনো অভিযোগ নিয়ে আলোচনায় আসতে চাচ্ছে। অথচ অভিযোগকারীদের ভেতরেই রয়েছে দলের পদের অবমূল্যায়ন করার বিস্তর অভিযোগ। তার পরেও সেসব উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জ থেকে উঠে আসা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতাকে সরিয়ে দেয়ার দাবী হাস্যকর।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ