২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ভোর ৫:৫৬
বিজ্ঞাপন

অস্ত্র রাসেলের গুন্ডামি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাত সর্দার মাষ্টার দেলুর সহযোগী বোমা-অস্ত্রসহ বিভিন্ন মামলার আসামী ও চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলি এসিআই-পানিরকল এলাকার মীর মাহবুব হোসেন রাসেল। এই শীর্ষ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে একাধিক অভিযোগও রয়েছে। এই মাদক বিক্রেতা সম্প্রতি দুরন্ত সত্যের সন্ধানে (দুসস) নামে মানবাধিকার সংগঠনের নেতা সেজে ফের তৎপরতা হয়ে উঠেছে বলে এলাকাবাসি জানিয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাতে শহরের খানপুর থেকে গোয়েন্দা পুলিশ রাসেলকে গ্রেফতার করে। ওই সময় তার কাছ থেকে পুলিশ আমেরিকার তৈরি সেভেন পয়েন্ট ৬.৫ এম পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন ও একটি চাইনি কুলার উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়। এর আগে দুই সহযোগিসহ রাসেল গ্রেপ্তার হয়েছিল বলে জানান ডিবি পুলিশ। পুলিশ জানান, রাসেল মাদক বিক্রেতা একই সাথে সন্ত্রাসী ও নানা অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র বোমা ও মাদক মামলা রয়েছে। এই সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগও করছেন।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাব ১১’র সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, তার বিরুদ্ধে অপরাধ কর্মকান্ডের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাষ্টার দেলুর অনেকই সহযোগী ছিলো।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিক জানান, অপরাধীদের তৎপরতা বাড়লে পুলিশ আরও কঠোর অবস্থান নিবে। এ বিষয়টি সর্ম্পেকে পুলিশও জানে। পুলিশ এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে জানান তিনি।

সূত্রে আরও জানা গেছে, ১০ জুন রাসেলসহ তার ৯ জন সহযোগীর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন পাঠানটুলির আইলপাড়া এলাকাসী। অভিযোগে এলাকাবাসী উল্লেখ করেন, ৯জন মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে মাদক, হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলসহ গোন্ডামি করে আসছে। তারা বিভিন্ন সময় মাদক, অস্ত্রসহ আটক হলেও জামিনে বেরিয়ে আবারও বীরদর্পে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের সন্ত্রাসী রাসেলসহ এই ৯ মাদক বিক্রেতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

এর আগে পানিরকল এলাকার আমজাদ হোসেন নামে একব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করে বলেন, বোমাবাজ, অস্ত্র ব্যবসায়ী, মাদক সম্রাট ও নানা অপকর্মের হোতা মির্জাফর রাসেল। সে তার সহযোগীদের নিয়ে আমজাদের বাড়ী ভেতরে গিয়ে তাকে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে মারধর করে। অভিযোগে আমজাদ বলেন, এই সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে বাড়িঘরে পরিবার পরিজনদের নিয়ে নিবিড়ভাবে থাকতে পারছে এলাকার অনেকেই। এর আগে রাসেলসহ একাধিক গ্রুপ নাশকতা সৃষ্টির জন্য নারায়ণগঞ্জ-আদমজী চিটাগাং রোড পাঠানটুলি এলাকায় লাঠিসোঠা, ইট ককটেলসহ সংগঠিত হয়ে তারা সড়কে চলাচলরত যানবাহন থামিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্ট করে।ওই সময় অনেকেই আহত হয়ে ছিলো বলে জানান তিনি।

এলাকাবাসির দাবি, এই শীর্ষ মাদক বিক্রেতা ও তার সহযোগীরা পাঠানটুলি বাস স্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় অবস্থান করে। তারা এলাকার বিভিন্ন মানুষ কে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেয়। এই ধরনের সন্ত্রাসী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন।