১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, সন্ধ্যা ৭:০৩

অস্ত্র দেয় বড় ভাই

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জেলায় খুন-চাঁদাবাজি-ছিনতাই-ইভটিজিংসহ নানা অপরাধ করছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। তুচ্ছ ঘটনায় শহরের আশপাশের পাড়া মহল্লা গুলোতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হুমকি, ছুরিকাঘাতসহ মহড়া দেয় গ্যাং তারা। তবে পাড়া মহল্লায় দল বেঁধে আড্ডা বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

কিশোর গ্যাংয়ে কয়েকজন সদস্য জানায়, বর্তমানে সব বেশি জামেলা হয় এলাকার বড় ভাই-ছোটভাই নিয়ে। এক এলাকার গ্যাংয়ের সাথে আরেক এলাকার গ্যাংদের সর্ম্পক রয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ে এক সদস্য বলে, বড় ভাউদের কাছ থেকে ছুরি, চাপাতি, রাম নিয়ে থাকে তারা। সমস্যা হইলে বড়ভাইরা দেখে। গ্যাংয়ের পুলাপাইন ভাইদের দেখে।

জানা গেছে, সম্প্রতি কিশোর গ্যাং হামলায় বন্দরের ইস্পাহানী ঘাট এলাকায় বাঁচতে নদীতে ঝাপ দিয়ে দুই কিশোর মারা যায়। ওই এলাকার শাকিল গ্যাংয়ের হামলার শিকার হয় নিহত দুই কিশোর। গত বছরের ২৩ আগষ্ট রাতে দেওভোগে অপু নামে এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। ২৮ জুলাই শহররের দেওভোগ এলাকায় ছুরিকা আঘাতে শাকিল (৩৫) নামে এক যুবক খুন হয়। ২৭ জানুয়ারি দেওভোগ মাদরাসা এলাকায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে হত্যা করে আলমগীর এক যুবকে। ২৮ জানুয়ারি দেওভোগের লিচুবাগ এলাকার রিক্সা মিস্ত্রির ছেলে হাসিয়ারী শ্রমিক সিয়ামকে হত্যা করে। ২৭ জুলাই শীতলক্ষ্যায় নোঙ্গর করে রাখা একটি জাহাজ থেকে স্কুলছাত্র রিতুল ঘোষের (১৪) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এ বি সিদ্দিক জানান, এলাকায় মোড়ের দোকান ও অলিতে গলিতে বসে থাকে কিশোর গ্রুপরা। এসব গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে লিডার থাকে এলকার প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলে, ভাগিনাসহ নানা আত্মীয়। কিছু হলেই দেখা যায় এলাকায় হৈ হৈ। কিশোর গ্যাংরা বৃদ্ধাদেরও হামলা করে। অনেক এলাকায় রাতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ তাদের তাদের কাছে আর কি আশা করবো। শুধু এতোটুকু বলবো নারায়ণগঞ্জের কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।

নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, কিশোরা সংঘঠিত হয়ে অপরাধ করছে। তারা এলাকার বড় ভাইদের কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা পায় আর বড়ভাইরা তাদের ব্যবহার করেন। প্রশাসনের এই বিষয় গুলো তদারকি করা প্রয়োজন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর নারায়ণগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল জানান, কিশোর অপরাধের অন্যতম কারন এলাকার ছোট-ভাই নিয়ে। শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনারে আড্ডা থাকে কিশোর গ্যংায়ের পাশেই পুলিশ থাকে। পাড়া মহল্লার বিষয় নিয়ে আর কি বলবো।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, পাড়া মহল্লায় দল বেঁধে আড্ডা বন্ধ করে দেয়া হবে। কোন এলাকায় গ্যাং গ্রুপ মহড়া দিলে পুলিশ জানান আমরা ব্যবস্থা নিবো। এলাকার মানুষ যদি সহযোগিতা করে তাহলে কিশোর গ্যাং প্রতিহত করা যাবে। এসপি বলেন, সে ভাই কিশোর গ্যাংতেক সহযোগিতা করবে এবং অপরাধের সাথে জড়িত থাকবে সেই ভাইয়ের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

উল্লেখ্য, কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা বসে শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে, ৫ নম্বর ঘাটে, দেওভোগের রাসেল পার্কের পঞ্চিমে। বাবুরাইলে পুলের উপর, জামতলায় হিরা কমিটি সেন্টারের সামনে, চাষাড়ার বালুর মাঠে, নাগবাড়ির মাঠে, নবীগঞ্জ ঘাটে, বন্দর স্কুল ঘাটের পাশে, খানপুর বাজারে শেষে, তল্লা বাজারের রেললাইনে। চাষাড়া রেল স্টেশনে, খানপুরে হাসপাতালের পিছনেসহ আরও বিভিন্ন স্থানে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ