বিশেষ প্রতিবেদক:
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও স্বাধীনতার গল্প শেষ হয়ে যায়নি; বরং প্রতিটি প্রজন্ম নিজেদের রক্ত, সংগ্রাম আর স্বপ্ন দিয়ে সেই ইতিহাসকে নতুন করে লিখছে।
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন, যারা যুদ্ধ করেছেন, তাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ। একজন জীবিত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বাধীনতা দিবস এলে গর্বে বুক ভরে যায়। কিন্তু একই সাথে একটি প্রশ্ন মনে জাগে—মুক্তিযুদ্ধের যে স্বপ্ন ছিল, বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিকভাবে মুক্ত একটি বাংলাদেশ, আমরা কি পুরোপুরি তা পেয়েছি? দীর্ঘ সময় ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসনের কারণে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়েছে, গণতন্ত্র বারবার বাধার মুখে পড়েছে, মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
তবে ইতিহাস কখনো থেমে থাকে না। নতুন প্রজন্ম আবারও প্রমাণ করেছে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না। ২৪-এর গণআন্দোলন ও অভ্যুত্থানে ফারহান, ফাইয়াজ, আবু সাঈদসহ অসংখ্য তরুণ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য। তাদের রক্তের বিনিময়ে আবারও দেশে গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত হয়েছে, মানুষ ফিরে পেয়েছে ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার, নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আর চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান—এই দুই ইতিহাস আসলে একই সূত্রে গাঁথা। একটি ছিল দেশের স্বাধীনতার জন্য, আরেকটি ছিল দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য। দুই প্রজন্মের এই আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা শুধু একদিনে অর্জিত হয় না, স্বাধীনতা রক্ষা করতে হয় প্রতিনিয়ত।
তাই একাত্তরের শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তদান এবং চব্বিশের শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে আমাদের অঙ্গীকার করতে হবে—বাংলাদেশে যেন আর কখনো স্বৈরশাসন, ভোটহীনতা, বৈষম্য ও অন্যায়ের রাজনীতি ফিরে না আসে। আমাদের লক্ষ্য হবে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
এই স্বপ্ন নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই—একটি কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে। গতকাল এসব কথা জানান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান।

