ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা অঞ্চলকে লক্ষ্য করে উৎক্ষেপণ করা হয়।
সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি আকাশে প্রতিহত করা হয়েছে। এর ফলে সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ মক্কা, জেদ্দা, তায়েফ ও রাবিগ এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ-র তথ্য অনুযায়ী, মক্কার ওয়াদি আল-মাগমাস, জেদ্দার আল-নুজহা, তায়েফের ওয়াদি জলিল এবং রাবিগ গভর্নরেটের মাসতুরাহ সেন্টারে এই ধ্বংসাবশেষগুলো পড়েছে। এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনার পর হুতি বিদ্রোহীরা মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছে।
ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলোর কাছাকাছি এলাকায় হামলার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গত ১ অক্টোবর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, এর দুই দিন আগে মদিনার তাইবা বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হুতিরা হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলায় একটি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মদিনার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল ছিল। ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়। জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে এবং তদন্তের মাধ্যমে এই হামলার পরিকল্পনায় হুতিদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। তবে হুতিরা সেই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই একটি হুতি ড্রোন ধ্বংস করার কথা জানিয়েছিল। সৌদি জোটের দাবি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের পর এটি ছিল মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের দ্বিতীয়বার ব্যর্থ চেষ্টা। তবে সব সময়ই হুতিরা যেকোনো পবিত্র স্থানকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ওই একই দিনে সৌদি প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ মক্কাসহ তাবুক, ইয়ানবু, তায়েফ ও জেদ্দার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে নিশ্চিত করেছে।