শনিবার যশোরের মুড়সী মোড়ে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারের বিভিন্ন কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে সরাসরি প্রশ্ন রাখেন যে, এই কার্ডের সুফল প্রকৃত সাধারণ মানুষ পাচ্ছে কি না। জনসভার লাখো জনতার মধ্যে একজনকেও কার্ড পাওয়ার স্বপক্ষে হাত তুলতে না দেখে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জনগণের তহবিলের টাকায় কেনা এই কার্ডগুলো কাদের দেওয়া হচ্ছে, তা জাতি ভালো করেই জানে। সম্ভবত এগুলো রাতের আঁধারে পুকুরপাড়ের কোনো মহলে বিতরণ করা হচ্ছে। বক্তব্যের শুরুতেই কার্ড বিতরণের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘বলা হচ্ছে সেই কার্ড দিয়ে জনগণের একেবারে জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তন হয়ে গেছে। এ সময় উপস্থিত লাখো জনতার মধ্য থেকে একজনও হাত না তোলায় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘একটা হাতও তো দেখি না। এই কার্ড কি কারও বাবার তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে।
বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকার দাবি করছে এই কার্ডের মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তন হয়েছে, অথচ বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। তিনি জনতাকে নিয়ে তামাশা না করার আহ্বান জানিয়ে সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে যারা গণভোটের রায় অস্বীকার করেছে, তাদের মাশুল দিতে হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে এই গণরায়ের বাস্তবায়ন তারা নিশ্চিত করবেনই, এখানে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলছি, এই গণরায় বাস্তবায়ন আমরা আদায় করেই ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।
সরকারের প্রতি চূড়ান্ত হুশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াত আমির বলেন, এক দফার ওজন অনেক বেশি, যার নিচে চাপা পড়লে আর ওঠার সুযোগ থাকবে না। তাই এক দফার কবলে পড়ার আগে সরকার যেন আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই সাত দফা মেনে নেয় এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটবে, তাদের শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালাতে হবে বা চরম দুর্গতি পোহাতে হবে। তাই এই পাথর মাথায় না নিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনের আগেই ঘোষণা দিন যে গণভোটের রায় আপনারা বাস্তবায়ন করবেন।’।
সাড়ে ১৫ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে মজলুম থাকলেও বর্তমানে যারা জালিম হয়ে জনগণের ঘাড়ের ওপর জুলুম চাপিয়ে দিচ্ছে, তা সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি নেতাকর্মীদের যেকোনো পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। জীবন দিয়ে হলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে অবিচল থাকার শপথ নিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন জামায়াত আমির। সাড়ে ১৫ বছর আপনারাও মজলুম ছিলেন, আমরাও মজলুম ছিলাম।