চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রবীণ সমাজসেবক মুহাম্মদ সাইদুর রহমান তালুকদার (৭৫) সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার ১২ দিন পর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। রোববার (২ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি সরফভাটা ইউনিয়নের পশ্চিম সরফভাটা ছনাগাজী তালুকদার বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন। সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি সরফভাটা ইউনিয়ন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের সভাপতি এবং স্থানীয় নেছারিয়া তৈয়্যবিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার দাতা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রোববার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর জঙ্গল সরফভাটা পাহাড়ে নিজ বাগান পরিদর্শনে গেলে অতর্কিতভাবে কিছু দুষ্কৃতকারী তাঁর ওপর হামলা চালায়।
ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চট্টগ্রাম পার্কভিউ হাসপাতাল ও চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা ১২ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, হামলার ঘটনায় আগে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য পরিবার লিখিত আবেদন জানালে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পুলিশ লাশ উদ্ধারের জন্য গেলে স্বজনরা ইতোমধ্যে জানাজার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
মরহুমের জানাজার নামাজ রোববার বাদ জোহর চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে বাদ মাগরিব ও বাদ এশা পশ্চিম সরফভাটা হযরত আবদুল হামিদ শাহ (রহ.) ঈদগাহ ময়দানে আরও দুটি জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তাঁর প্রয়াণে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রবীণ এই সমাজসেবকের এমন মৃত্যুতে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।