, ,

সাজেকে পর্যটক উদ্ধারে অভিযানে নিরাপত্তা ঘটনায়, আহত সাত

রাঙামাটির সাজেকে স্থানীয়ভাবে ডাকা অবরোধের কবলে পড়ে দীর্ঘ সময় আটকা ছিলেন প্রায় তিন হাজার পর্যটক। বৃহস্পতিবার তাদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলে দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের মুখে পড়ে। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, তবে তাদের পরিচয় কিংবা শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানের সময় তারা গুলিবর্ষণের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, গঙ্গারাম বাজার এলাকায় পর্যটকদের উদ্ধারে গেলে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সদস্যরা গুলি ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে হামলাকারীরা পিছু হটে। দুপুর আড়াইটার নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করে বাঘাইহাটে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী কাজ শুরু করলে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।

উদ্ধার অভিযানে থাকা পর্যটকদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে ভয়াবহতার চিত্র। ঢাকা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আলী আহসান জানান, গঙ্গারাম বাজার ও উজোবাজার সড়কে অবরোধ চলাকালীন সেনাবাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। এর আগে অবরোধকারীরা পর্যটকদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছিল। প্রায় এক ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় পর্যটকরা গন্তব্যে ফিরতে সক্ষম হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাজেকে পর্যটন নির্ভর অর্থনীতি এখন সংকটের মুখে।

রিসোর্ট, কটেজ ও পরিবহন খাতের সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং জিপচালকদের একটি বড় অংশ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় পাহাড়ি বাসিন্দাদের প্রাণনাশের ভয় ও জরিমানা দেখিয়ে অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। রাস্তায় গাছ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করায় সাধারণ মানুষের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এদিকে অবরোধের কারণে সাজেকের পর্যটননির্ভর মানুষের জীবিকা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সড়কে গাছের গুঁড়ি ও বাঁশ ফেলে এবং আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এই সহিংসতার জন্য পুলিশ সুপার ইউপিডিএফ এবং তাদের সমর্থনপুষ্ট সাজেক গণ অধিকার পরিষদকে দায়ী করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাজেকে পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে ফেলেছে। নিরাপত্তার অভাবে পর্যটন খাত কার্যত স্থবির হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।