সংবাদচর্চা রিপোর্ট :ফতুল্লাঞ্চলের প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউছার আহম্মেদ পলাশ আত্নগোপনে থাকলে ও হাসিনা সরকারের শাসনামলে দূর্দান্ড প্রতাপ দেখানো তার সহোচর খলিফা হিসেবে পরিচিত শাহাদাত হোসেন সেন্টু, আবুল হোসেন, এসএম হুমায়ুন কবির, আজিজুল ওরুফে বরিশাইল্যা আজিজুল গং প্রকাশ্যে ঘুরেছে বলে জানা গেছে। কাওছার আহমেদ পলাশও প্রায় সময় আলীগঞ্জে অবস্থান করে তাঁর রেখে যাওয়া খলিফাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন এমন অভিযোগ স্থানীয় সূত্রের। সরকার দলীয় স্থানীয় মহলের ছত্রছায়ায় থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী শ্রমিক লীগকে সক্রিয় করে তোলার চেস্টায় লিপ্ত রয়েছে স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি।
তথ্যমতে, হাসিনা সরকারের শাসনামলে শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্ভর ফতুল্লাঞ্চলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কাউছার আহম্মেদ পলাশের ছিলো একছত্র আধিপত্য। শিল্প প্রতিষ্ঠান মালিকরা জিম্মি ছিলো কাউছার আহম্মেদ পলাশ ও তার সহোচর খলিফাদের হাতে। এ সকল খলিফাদের দ্ধায়িত্ব ছিলো বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা উত্তলোন করা। রাস্তার পাশে বসে হাতুড়ি দিয়ে ইট ভাঙ্গার শ্রমিক থেকে শুরু করে রিক্সা-অটোরিক্সা চালক,নির্মাণ শ্রমিক,ডেকারেটর শ্রমিক,ট্রাক চালক-হেলপার, জাহাজ থেকে মাথায় করে সার,সিমেন্ট সহ নানা মালামাল কুলি,ভ্যান গাড়ী চালক,লোড আনলোড শ্রমিক,ইট ভাটার শ্রমিক, রোলিং মিলস্,নিটিং কারখানার শ্রমিক, দর্জি শ্রমিক, পোষাক তৈরির কারখানা,সেলুন কর্মচারী, হোটেল শ্রমিক সহ বিভিন্ন কল কারখানা,শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমজীবি মানুষের নিকট থেকে সংগঠনের নামে চাঁদা উত্তলোন করাই ছিলো খলিফাদের প্রধান কাজ। হাসিনা সরকারের শাসনামলে এ জাতীয় ৭০ থেকে ৭৫ টি সংগঠন তৈরি করে কাউছার আহম্মেদ পলাশ। যার নেতৃত্বে ছিলেন তার অনুসারী খলিফারা। বিভিন্ন পেশার নিন্ম আয়ের শ্রমজীবি মানুষের যে কোন সমস্যায় বা বিপদগ্রস্থ হলে সহোযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সকল শ্রেনীর পেশাজীবিদের নিয়ে সংগঠনগুলো গঠন করা হয়েছিলো। সংগঠনগুলো আবার সাথে সাথে সরকারি ভাবে রেজিষ্ট্রেশন করিয়ে নিতো। যাতে করে সরকারি অনুদান পাওয়া সহজ হয়। প্রতিটি সংগঠনের সাথে জড়িত সদস্যরা দৈনিক,সাপ্তাহিক এবং মাসিক হারে নিয়মিত চাঁদা দিতো রিসিটের মাধ্যমে। উত্তলোনকৃত চাঁদার টাকা প্রতি মাসের ৫ তারিখ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে রিসিট বুজে গুনে গুনে টাকা নিতো পলাশের বিশ্বস্ত খলিফারা। সেই টাকা গচ্ছিত রাখা হতো পলাশের প্রদান হাতিয়ার বা খলিফা সেন্টুর নিকট।
সূত্রটির দাবী, প্রতিটি সংগঠনের সদস্যদের নিকট থেকে চাঁদা উত্তলোনের জন্য একজন করে বেতনভুক্ত লোক নিয়োগ করা ছিলো।
তবে কাউছার আহম্মেদ পলাশের প্রধান টার্গেট ছিলো শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো। টার্গেটকৃত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক বা দ্ধায়িতশীল ব্যক্তির নিকট লোক পাঠিয়ে নানা ইস্যুতে এক কালীন মোটা অংকের টাকা দাবী করতো পাশাপাশি দুস্থ শ্রমিকদের সাহাযার্থে নিয়মিত মাসিক টাকা দাবী করতো। প্রথম দিকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান মালিকরা পলাশের দাবী প্রত্যাখান করলেও এক পর্যায়ে তারা স্বেচ্ছায় দাবীনুযায়ী টাকা দেওয়া শুরু করে। এর কারন হিসেবে সূত্রটি জানায় প্রথমে টার্গেটকৃত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পরিচয় গোপন রেখে নিজস্ব কয়েকজন কে ঐ প্রতিষ্ঠানে যে কোন উপায়ে শ্রমিক হিসেবে যোগদান করাতো। দু’এক মাস যেতে না যেতেই ভিন্ন ভিন্ন পন্থায় ইস্যু তৈরি করে প্রতিষ্ঠানের ভিতরে হাঙ্গামা বাধিয়ে দিতো। কর্তৃপক্ষ তখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা মাত্রই বাইরে এসে বহিরাগতদের নিয়ে রাস্তায় নেমে পরতো। এদের সাথে আবার অতি উৎসাহী শ্রমিকরা যোগ দিতো। তারপর প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করাতো। এরকম দু-চারটে ঘটনার পরপর কাউছার আহম্মেদ পলাশের কৌশল বুজতে পারে মালিকেরা৷ আর তাই পলাশের অনুসারীদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো মেনে নিয়ে নিয়মিত চাঁদা প্রদান করতো শিল্পপ্রতিষ্ঠান মালিকেরা। তবে কেউ কেউ পলাশের অন্যায় দাবীর কাছে মাতা নত না করে কারখানা বন্ধ করে দিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠান অনত্র নিয়ে গেছে। হাসিনা সরকারের শির্ষ মহলের অনেকেই তার এ বিষয়গুলো অবগত ছিলো। কিন্ত তারা কখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।কারন উত্তোলনকৃত অর্থের একটা চলে যেতো উপরি মহলে।
হাসিনা সরকারের পতনের পর পলাশ ও তার অনুসারী খলিফারা আত্নগোপনে চলে যায়। কয়েক মাস যেতে না যেতেই স্থানীয় সরকার দলীয় স্থানীয় মহলের সাথে আতাত করে এলাকায় ফিরে আসে পলাশের খলিফারা।
এখন তারা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে পলাশের প্রেসক্রিপশন মতো শ্রমিক সংগঠন গুলো গুছিয়ে সক্রিয় করার চেস্টা করছে। এক্ষেত্রে আলীগঞ্জ খেলার মাঠকে তারা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে একাধিক সূত্রের দাবী।
আত্মগোপনে পলাশ, ফতুল্লায় প্রকাশ্যে তাঁর ঘনিষ্ঠরা